অনুসরণকারী

বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫

সাদা অর্কিডের দেশে তৃতীয় পর্ব




দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পাট চুকে যাওয়ার পর বৈঠকখানার সোফায় বসে একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলল অতীন। সত্যি কথা বলতে গেলে দুপুরের খাবারটা বেশ গুরুপাকই হয়ে গেছে আজ। প্রতিটা পদ এতো সুস্বাদু আর লোভনীয় ছিল যে কড়া ডায়েটের অভ্যেস থাকার পরেও নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি সে। চমৎকার রান্না করেন লিলি প্রধান। যেমন মধুর ব্যবহার ও আন্তরিক আতিথেয়তা, তেমনই অসাধারণ রান্নার হাত। অতীনের পাশে বসে বুক পকেট থেকে জোয়ানের ছোটো কৌটো বের করে এগিয়ে দিলেন ড.প্রধান। 


— এই নাও। ইট উইল হেল্প ইউ টু ডাইজেস্ট।


হাত বাড়িয়ে কৌটো থেকে সামান্য জোয়ান নিয়ে মুখে পুরে নিল অতীন। কৌটোটা পুনরায় পকেটে ঢুকিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলেন ড.প্রধান। তারপর বৈঠকখানার জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালেন। বাইরে ততক্ষণে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মেঘের ডাক। সেদিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে ড.প্রধান অতীনকে অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে তোমার ওয়াইফ কিছুই জানে না?” ডাইনিং-এ মিসেস প্রধানের সাথে হাসিমুখে গল্প জুড়ে বসা মধুজার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অতীন। তারপর ম্লান হাসি হেসে দু’দিকে মাথা নাড়ে।


— বাট হোয়াই? তুমি ওকে কিছু বলোনি কেন?


— কী লাভ স্যার? আমার যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আবার সেই পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটাঘাঁটি হোক আমি চাই না। তাছাড়া দোষটা তো আমারই ছিল। আমিই আমার ফোর্সকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। সেদিন যদি আমি ব্যাপারটাকে ঠিক ভাবে ট্যাকল করতে পারতাম, ফোর্সকে সঠিকভাবে চালনা করতে পারতাম তাহলে হয়তো আজ এভাবে আমাকে ক্রাচের মুখাপেক্ষী থাকতে হত না। 


কথাটা বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অতীন, তারপর ম্লান হেসে বলে, “একটু আগে আপনি বলছিলেন না? ‘destiny and karma!’ ঠিকই বলেছিলেন স্যার। হয়তো আমার নিয়তিতেই লেখা ছিল এসব। সেদিন আমার ভুল সিদ্ধান্তের কর্মফলটাই হয়তো ভুগতে হচ্ছে আমাকে।”


(কয়েকবছর আগে)


পহলগাম, জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকার এক ছোটো হিল স্টেশন। যার পাশ দিয়ে পাহাড়ের মাঝে পায়ে চলা ট্রেকিং এর পথ একেবেঁকে এগিয়ে গেছে অমরনাথের দিকে। এখানকার মানুষ শান্তিপ্রবণ, অতিথি সেবাপরায়ণ, সদাহাস্যময়। সমগ্র কাশ্মীর জুড়ে চলা প্রবল বিদ্রোহের আগুনের আঁচ মাঝে মাঝে এখানে পৌঁছলেও কটা দিন পর সবটা স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলতে থাকে এখানকার পর্যটক শিল্প। 


ঘড়িতে এখন ভোর পৌনে চারটে বাজে। রাতের আকাশের টিকে থাকা অন্তিম তারাটা অস্তগামী হলেও পুবের আকাশ এখনো ফিকে হয়নি।  সুর্যোদয় হতে এখনো অনেক দেরী। সমগ্র পহলগামের রাস্তায় পথবাতির সারিরা আলো প্রদান করলেও বাজার ছাড়িয়ে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো কাঠের কটেজটায় সেই আলো প্রবেশ করে না, বরং দিনের বেলাতেও পরিত্যক্ত কটেজটায় বিরাজ করে এক গা ছমছমে নৈঃশব্দ। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় কটেজটা ভালো নয়। রাতের বেলা নাকি শোনা যায় একাধিক অদ্ভূতুড়ে শব্দ। ইদানীং নাকি দিনের বেলাতেও কটেজের জানলায় দেখা যাচ্ছে অস্পষ্ট ছায়ামুর্তি। 


গতকাল সকালে ইনফর্মারের কাছে এই তথ্য পেয়ে কিছুটা হলেও অবাক হয়েছিল অতীন। জায়গাটাকে সে হাতের তালুর মতো করে চেনে। এমনকি কটেজটাও তার অজানা নয়। পুরোনো পরিত্যক্ত কটেজ। হয়তো কোনো কাশ্মিরী পন্ডিতের বাসগৃহ ছিল। ১৯৯০ সালের সেই বিভীষিকাময় দিনটার পর কটেজটা একরকম পান্ডববর্জিতই বলা চলে। সেখানে কিনা ভূতের উপদ্রব? উঁহু! ব্যাপারটায় কেমন যেন খটকা টের পেয়েছিল অতীন। আর খটকাটা টের পেতেই জানিয়েছিল ক্যাম্প ইনচার্জকে। বিচক্ষণ ক্যাম্প ইনচার্জ বুঝতে পেরেছিলেন কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে। কাজেই অতীনকে নির্দেশ দিতে বিন্দুমাত্র দেরী করেননি। 


ক্যাম্প ইনচার্জের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে সেই মুহূর্তেই ফোর্সের কয়েকজন জওয়ানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে চাইছিল সে। উদ্দেশ্য ছিল সোজা কটেজে হানা দেওয়া। কিন্তু জওয়ানদের ব্যারাকে পৌঁছোনোমাত্র পরিকল্পনা পালটে ফেলে সে। বছরের এই সময়টা পর্যটনের পিক সিজন। সমগ্র ভারত এমনকি দেশের বাইরে থেকেও পর্যটকদের আগমন ঘটে এই সময়। এখন হুট করে কটেজে হানা দেওয়াটা পর্যটকদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে। আর যদি অতীনের আশঙ্কা সঠিক হয় তাহলে পর্যটকদের বিপদ বাড়বে বই কমবে না। অতএব মাথা ঠাণ্ডা রেখে এগোতে হবে। 


ব্যারাকে ঢুকে অতীন প্ল্যানটা ভালো করে বুঝিয়েছিল ওর সহযোদ্ধাদের। তারপর পরনের সামরিক পোষাক পালটে পর্যটকের ছদ্মবেশ ধারণ করে সাধারণ পর্যটকের মতো যাত্রা করেছিল পহলগামের উদ্দেশ্যে। পহলগাম পৌঁছে সেখানে অস্ত্রগুলো রেখে সারাদিন ধরে পর্যটন করার অভিনয় করতে করতে অতীনরা এক ফাঁকে দেখে নিয়েছিল কটেজটাকে। তারপর গভীর রাতের বেলা অন্ধকারকে সঙ্গী করে ওরা সশস্ত্র অবস্থায় উপস্থিত হয়েছে কটেজের সামনে। বা বলা ভালো অন্ধকারে মিশে গিয়ে ওরা চারদিক থেকে ঘিরে নিয়েছে কটেজটাকে। অতীন সকলকে বলে রেখেছে কোনোরকম সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সরাসরি গুপ্ত সঙ্কেত দিয়ে গোটা টিমকে অ্যালার্ট করতে হবে। আর বেচাল কিছু দেখলেই সরাসরি গুলি করবে।


এই মুহূর্তে অতীন যেখানে পজিশন নিয়েছে সেখান থেকে কটেজটার পেছন দিকের দরজাটা পরিস্কার দেখা গেলেও দরজার সামনে কেউ যদি দাঁড়ায় তাহলে সে অতীনকে দেখতে পাবে না। সেদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোমরের হোলস্টার থেকে নিজের প্রিয় Beretta PX4 Storm পিস্তলটা বের করে আনল অতীন। সেনাবাহিনীর এই সার্ভিস পিস্তলটি সেই প্যারা ট্রুপ জয়েন করার পর থেকেই ওর সাথে আছে। আজ পর্যন্ত যতগুলো অভিযানে সে গেছে প্রতিটা অভিযানে এই পিস্তল একবারের জন্যেও তাকে বেকায়দায় ফেলেনি। যদিও সাথে একটা ইনসাস রাইফেল আর পর্যাপ্ত গোলাবারুদ আছে ওর কাছে তবুও সাবধানের মার নেই। পিস্তলটা আরেকবার ভালো করে পরীক্ষা করে আবার যথাস্থানে রেখে দিল সে। বড্ড শীত লাগছে, একটু গরম চা হলে মন্দ হত না। 


কথাটা ভাবতেই একটা হাসি ফুটে উঠল অতীনের মুখে। মনে পড়ে গেল মধুজার কথা। কেমন আছে পাগলীটা? নিশ্চয়ই এখন স্টুডিওতে বসে গরম কফি খেতে খেতে বকবক করছে। বকতেও পারে মেয়েটা! সেবার সরস্বতী পুজোর সময় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বকবক করে মাথা খেয়ে নিয়েছিল ওর। শেষবার যখন মধুজাকে দেখেছিল তখন গোটা কলকাতায় নেমে এসেছিল প্রবল শ্রাবণের বৃষ্টি। সেদিন শ্রাবণের মেঘ ঘনিয়েছিল মধুজার দু’চোখেও। অতীনের বুকে মাথা গুঁজে অনেকক্ষণ ফুপিয়ে কেঁদেছিল সে। অতীন মধুজার মাথায় হাত বুলিয়ে বার বার প্রবোধ দিচ্ছিল, “আরে ধুর পাগলি! আমি কি সারা জীবনের মতো চলে যাচ্ছি নাকি? কয়েকটা মাসের তো ব্যাপার! দেখবি ঝপ করে কেটে গেছে। আর আমি ফিরে এসেছি। তবে হ্যা তোর শো খুব মিস করব আমি।”  


সেই শেষবার দেখা। তারপর বেস ক্যাম্পে জয়েন করতেই স্পেশাল ফোর্সে ট্রান্সফার অর্ডার পেয়ে  মিজোরামে অমানুষিক প্রশিক্ষণের পর প্যারা কমান্ডো হিসেবে কাশ্মীরে জয়েনিং। দেখতে দেখতে একবছর হতে চলল। একবছর অতীন বাড়ি ফেরেনি। একবছর অতীন মধুজার কণ্ঠ শোনেনি। প্রথমে ভেবেছিল একদিন মধুজাকে ফোন করে মান-অভিমানের পালা চুকিয়ে নেবে। পরে অতীন ভেবে দেখেছে ফোনে কথা বলার চেয়ে একেবারে সামনাসামনি গিয়ে সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়? অতীন স্পেশাল ফোর্স জয়েন করেছে জানলে মধুজা নির্ঘাত চমকে যাবে। হয়তো বিপদের কথা ভেবে ভয়ও পেতে পারে।


আপনমনে মধুজার অভিব্যক্তি কল্পনা করতে করতে একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল অতীন। আচমকা ওর সমস্ত চিন্তার জাল ছিন্ন হয়ে গেল একটা ঘটনায়। স্তম্ভিত অথচ সতর্ক দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে দেখল কটেজের পেছনের দরজাটা মৃদু খুলে গেছে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা মানুষ। লোকটার হাবভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেই এত রাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে সে। কটেজ থেকে বেরিয়ে লোকটা একবার চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে এগিয়ে গেল সামনের ঝোপের দিকে। 


অতীন একদৃষ্টে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোমরের হোলস্টার থেকে পিস্তলটা বের করে সেফটি ক্যাচ খুলে নিল। ততক্ষণে সে নিজের কর্তব্য ঠিক করে নিয়েছে। বলা ভালো ওর থেকে কিছুটা দূরে বসে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া লোকটাই ওকে সাহায্য করেছে সিদ্ধান্ত নিতে। অন্ধকারের মধ্যেও লোকটার কাঁধে ঝুলে থাকা AK-56 রাইফেলটাই ওর মৃত্যু পরোয়ানা লিখে দিয়েছে। পিস্তলের সেফটি লক খুলে নিজের পজিশন থেকে উঠে একলাফে লোকটার পেছনে এসে দাঁড়াল অতীন। তারপর লোকটা কিছু বোঝার আগেই মাথা লক্ষ্য করে পিস্তলের ট্রিগারে টান দিল সে। বাতাসে একটা মৃদু খুট করে শব্দ হল আর সামনের লোকটা বসে থাকা অবস্থায় লুটিয়ে পড়ল ঝোপে। লোকটাকে সন্তর্পনে ঝোপে লুকিয়ে গোটা টিমকে গুপ্ত সঙ্কেত দিয়ে অ্যালার্ট করে দিল অতীন। তারপর ইনসাস রাইফেলটার সেফটি লক খুলে চিতাবাঘের মতো ক্ষীপ্র অথচ নিঃশব্দ পদক্ষেপে এগিয়ে গেল কটেজের দিকে। 


******
(বর্তমান সময়)

ড. প্রধানের বাড়ি থেকে ওরা যখন বেরোলো ততক্ষণে সন্ধ্যে হয়ে গেছে। যদিও ওরা ভেবেছিল লাঞ্চ সেরে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বিকেলের দিকেই রওনা দেবে, কিন্তু দুপুরেই এমন জোরে বৃষ্টিটা নামল যে হোটেলে ফেরার পরিকল্পনাটা তখনকার মতো বাতিল করতে হল। সন্ধের দিকে বৃষ্টিটা ধরে আসতেই আর দেরী করেননি ড. প্রধান। সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারকে ডেকে ওদের হোটেলে পৌঁছে দিয়ে আসতে বলেছিলেন। গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে সেদিন রাতের কথা ভেবে অন্যমনস্ক হয়ে একটা ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল অতীন। আচমকা ওর ঘোর কাটল মধুজার কথায়। চোখ মেলে ঘাড় ঘুরিয়ে সে তাকিয়ে দেখল জানলার দিকে তাকিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে মধুজা বলছে, “হোটেলে গিয়েই আগে লাগেজ গুছিয়ে নিতে হবে। আজ আর ডিনার অর্ডার করিস না। লিলি আন্টি দুপুরে যা খাইয়েছেন না! এখনও স্টমাক ফুল হয়ে আছে। তোরও তো একই অবস্থা।” অতীন মধুজার দিকে তাকিয়ে শুধু একটা “হুম!” শব্দ করল। মধুজা সেটা শুনে বলতে শুরু করল, “যাই বল, ভদ্রমহিলা কিন্তু দারুণ রাঁধেন। চিকেনের পদটা যা খেতে হয়েছিল না! আচ্ছা ওটার নামটা কি যেন? মনে পড়েছে! চিকেন ভুটুয়া! এমন অদ্ভুত নাম কেন রে?” অতীন এরপরেও চুপ করে আছে দেখে মধুজা জিজ্ঞেস করে, “এই তোর কী হয়েছে বল তো? সেই লাঞ্চের পর থেকে দেখছি। একেবারে সাইলেন্ট মেরে গিয়েছিস! অন্যদিন তো এরকম গুরুপাক ভোজন হলে খাবারের ইতিহাস  নিয়ে থিসিস নামাস। ব্যাপারটা কী?” 


অতীন একটা হাই তুলে বলে, “কিছু না। এমনিই মনটা খারাপ।”


— তেজবাহাদুরের জন্য?


আচমকা মধুজার মুখে তেজবাহাদুরের কথা শুনে প্রথমে চমকে গেলেও পরক্ষণে মাথা নাড়ে অতীন। 


— আচ্ছা এর আগে তো কোনোদিন তোর কাছে এই তেজবাহাদুরের কথা শুনিনি। তুই আমাকে বলিসনি কেন? 


— ওর ব্যাপারে বলার মতো কিছু নেই বলেই বলিনি। তাছাড়া ওর সাথে আমার আলাপই বা কতদিনের? ছেলেটা আমাদের ক্যাম্পে জয়েন করার কয়েকমাসের মধ্যে আমার সেই অ্যাক্সিডেন্টটা হয়। তারপর তো আর কোনো যোগাযোগই নেই আমাদের। নেহাত আজ ড. প্রধান প্রসঙ্গটা তুললেন বলে ওর কথা মনে পড়ল। এমনিতে বেশ হাসিখুশি, তরতাজা ছেলে ছিল বুঝলি? সিনিয়রদের অর্ডার বেদবাক্যের মতো ফলো করত। অবশ্য মাঝে মাঝে কিছু অর্ডার ফলো করতে গিয়ে এমন সব কাণ্ড ঘটাতো যে বলার নয়।


কথাটা বলে একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে অতীন। তারপর বলে, “নাহ! আজকের দুপুরের খাওয়াটা সত্যিই গুরুপাক হয়ে গেছে। হোটেলের রুমে ঢুকে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নিতে হবে। নাহলে কাল ভোগান্তি হয়ে যাবে।” মধুজা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকে অতীনের দিকে। তারপর কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায়। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানলার বাইরের দিকে তাকায়। 


(আগামী পর্বে সমাপ্য)



 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এখানে মন্তব্য করুন

সাদা অর্কিডের দেশে অন্তিম পর্ব

হোটেলে ফেরার পর লাগেজ গুছিয়ে নিতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না মধুজার। শুধুমাত্র কালকের বাড়ি ফেরার সময়ের পোশাকগুলো বাইরে রেখে চটপট অতীন আর ওর জামাকা...