স্টুডিও থেকে গাড়িটা বেরোনো মাত্র ব্যাকসিটে হ্যালান দিয়ে বসল মঞ্জুষা। সারাদিন আজ বড্ড ধকল গেছে। এই সোমবার ওদের সেটে একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাচের সিকোয়েন্স আছে। আজ তারই রিহার্সাল ছিল। আর আজকের রিহার্সালেই ডিরেক্টর আর কোরিওগ্রাফার ওর সমস্ত এনার্জি শুষে নিয়েছে। এমনিতে মঞ্জুষা নাচ ভালোবাসলেও আজকের স্টেপগুলো ভীষণ টাফ ছিল। কিছুতেই আয়ত্তে আসছিল না। এদিকে কোরিওগ্রাফার মহা ত্যাঁদড়! স্টেপ না তুলতে পারলে কিছুতেই ছাড়বে না। ফলে সারাদিন ধরে নাচার কারণে সারা শরীর যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে ওর। এখন বাড়িতে গিয়ে কোনোমতে বিছানায় এলিয়ে পড়লে বাঁচে ও। একদিকে মন্দের ভালো যে কাল থেকে পর পর তিনদিনই ছুটি আছে। এই তিনদিন সে একটু রেস্ট নিতে পারবে। গত সপ্তাহে সেটে চোট লাগার পর ডাক্তার ওকে রেস্ট নিতে বললেও সিরিয়ালের মেন লিড হওয়ায় সেটা আর নেওয়া সম্ভব হয়নি। মঞ্জুষা নিজেই ইচ্ছে করে নেয়নি। যদিও রেস্টটা ওর দরকার তবুও সারা সপ্তাহের টাইট শিডিউলের মাঝে ডিরেক্টরের কাছে মুখ ফুটে রেস্টের কথা বলতে পারেনি সে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটু তন্দ্রামতো এসে গিয়েছিল মঞ্জুষার। আচমকা ফোনের শব্দে উঠে বসে স্ক্রিনের দিকে তাকাল সে। একমুহূর্ত স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল মঞ্জুষা। সঞ্জয় ফোন করেছে। সঞ্জয় সেনগুপ্ত ওর প্রথম সিরিয়ালের হিরো ছিল। বর্তমানে ওর জিম পার্টনার কাম মেন্টর। শুধু তাই নয়, সদ্য চারটে ওয়েবসিরিজ আর একটা সিনেমাতেও সঞ্জয় অভিনয় করেছে। সঞ্জয়ের সাথে মঞ্জুষার আলাপ বছর ছয়েক আগে একটা সিরিয়ালের সেটে। ওরা দুজনে সিরিয়ালের লিড ছিল। যদিও সে আলাপটা তেমন জমেনি। দুʼজনে দুʼজনের মতো কাজ করে যে যার বাড়ি ফিরে যেত। কিন্তু একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটলো যার ফলে মঞ্জুষার একান্ত প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠলো সঞ্জয়।
একবার শ্যুটিং চলাকালীন একটা দুর্ঘটনায় মঞ্জুষার পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। হয়তো ও মারাও পড়তে পারতো যদি না সঞ্জয় এগিয়ে আসত। ওরই তৎপরতায় সেবার বেঁচে যায় মঞ্জুষা। তারপর থেকে ওদের বন্ধুত্বের সূচনা হয়। সেবার গোড়ালিতে চোটটা এতটাই বেশি ছিল যে বেশিক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারতো না মঞ্জুষা। সে সময় সঞ্জয়ের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে ইনজুরি সেরে সুস্থ হয় ও।
মঞ্জুষার মনে আছে সে সময়গুলোয় সঞ্জয় একজন প্রকৃত বন্ধুর মতো ওকে আগলে রেখেছিল। ওর মন ঠিক রাখা থেকে পায়ের ফিজিওথেরাপি সব কিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। সে সময় টলিপাড়ায় ওদের সম্পর্ক নিয়ে কম কানাঘুষো হয়নি। বিশেষ করে যখন সঞ্জয় ওর ক্যাসানোভা ইমেজের ফলে একাধিক অভিনেত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য টলিপাড়ায় বিখ্যাত। ইন্ডাস্ট্রিতে তখন নবাগতা মঞ্জুষা প্রথমে এসব নিয়ে বিব্রত হলেও পোড়খাওয়া আর্টিস্ট সঞ্জয় এসব কিছুই গায়ে মাখেনি। বরং দীর্ঘ অধ্যবসায়ের সাথে মঞ্জুষাকে সুস্থ করে, একবছরের মাথায় গ্রুমিং করে এক অ্যাওয়ার্ড শোয়ে সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিল সব নিন্দুকের মুখ। সকলে হা হয়ে দেখছিল একবছর আগে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা বেঢপ আনকোরা মেয়েটা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মডেলদের মতো ছিপছিপে আর যথেষ্ট আবেদনময়ী হয়ে উঠেছে।
তারপর থেকে মঞ্জুষাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে একের পর এক মেগা সিরিয়ালের অফার পেতে শুরু করে সে। বর্তমানে চারটে মেগা সিরিয়াল শেষ করার পর মঞ্জুষা টেলিজগতে এক ভীষণ পরিচিত মুখ। রাস্তায় বেরোলে রীতিমতো ভীড় পড়ে যায়। সবটাই যে সঞ্জয়ের বদান্যতায় সেটা বলাই বাহুল্য। মঞ্জুষা সেটা জানেও এবং এ জন্য সে সঞ্জয়ের প্রতি কৃতজ্ঞও বটে। সঞ্জয় না থাকলে হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে টেঁকা দায় হতো তার। হয়তো কম্পিটিশনের দৌড়ে হারিয়েও যেতে পারত সে। সঞ্জয়ের কারণে সেটা আর সম্ভবপর হয়নি। এই ছয় বছরে অবশ্য সঞ্জয়ের সাথে ওর সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্বতেই আটকে থাকেনি। বরং দিনের পর দিন ওরা পরস্পরের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, গোপনে বিয়েটাও সেরে ফেলেছে ওরা। মঞ্জুষার আজও মনে আছে সেবার পাহাড়ে শ্যুটিং করতে গিয়ে ওদের প্রথম কাছে আসা। সেবার সঞ্জয়ই আচমকা বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল ওকে। প্রস্তাবটা এতটাই নাটকীয় আর রোমান্টিক ছিল যে মঞ্জুষা রাজি না হয়ে থাকতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত ব্যাপারটা পাবলিক আর মিডিয়ার কাছে লুকোনো থাকলেও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে থাকা কিছু সুহৃদ বন্ধুরা জানে এই ব্যাপারটা। বাকি সকলে জানে দুজনে লিভ ইন রিলেশনে আছে। ভবিষ্যতে বিয়ে করবে। প্ল্যানটা সঞ্জয়েরই। ও চায় না মঞ্জুষা প্রতিষ্ঠিত হবার আগে কেউ জানুক ও বিবাহিত।তেমন হলে পরে সোশ্যাল ভাবে একটা অনুষ্ঠান করা যাবে। কিন্তু তার আগে ওদের বিয়ের ব্যাপারটা যাতে কাকপক্ষীতেও টের না পায়। মঞ্জুষাকে পইপই করে এ ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছে সঞ্জয়। সঞ্জয়ের কলটা দেখে সেই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটু হেসে ড্রাইভারের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রিসিভ করল মঞ্জুষা।
- বলো!
- কোথায় আছো?
- এই তো শ্যুটিং সেরে বাড়ি ফিরছি।
- বাড়ি ফিরছ মানে? তুমি বেরিয়ে পড়েছ?
- হ্যাঁ! কেন বলো তো?
- আজ সকালে আমাদের মধ্যে একটা কথা হয়েছিল মনে আছে?
কথাটা শোনামাত্র আচমকা মঞ্জুষার মনে পড়ে গেল আজ বিকেলের দিকে ওদের মন্দারমনিতে যাওয়ার কথা ছিল। সারা সপ্তাহের টাইট শিডিউল শেষে তিনদিন ছুটি থাকায় সঞ্জয়ই এমনভাবে প্রস্তাবটা দিয়েছিল যে মঞ্জুষা রাজি না হয়ে থাকতে পারেনি। কথা ছিল শ্যুটিং সেরেই দুজনে একসাথে রওনা দেবে। সেই মতো দু'জনে দু'জনের লাগেজ গুছিয়ে নিয়ে এসেছিল। সারাদিনের রিহার্সালের চাপে শেষে ক্লান্ত মঞ্জুষা একেবারেই ভুলে গিয়েছিল ব্যাপারটা। জিভ কেটে সে বলে, “এ বাবা! একেবারে মাথা থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিল। আসলে আজ সারাদিন রিহার্সালে এমন ব্যস্ত ছিলাম যে...” ওপাশ থেকে সঞ্জয় মঞ্জুষাকে থামিয়ে বলে,“ইটস ওকে৷ খুব টায়ার্ড মনে হচ্ছে৷” মঞ্জুষা হেসে বলে, “তা একটু আছি। আজ সারাদিন ডিরেক্টর আর কোরিওগ্রাফার ধেই ধেই করে নাচিয়েছে কিনা? সারা শরীরের নাটবল্টু ঢিলে হয়ে গেছে!”
ওপাশ থেকে সঞ্জয়ও হাসে, “তাও বটে। তোমাদের সেটে আজকাল প্রায়ই নাচগান হচ্ছে দেখছি। আচ্ছা বেশ তাহলে থাক। তুমি বরং বাড়ি গিয়ে রেস্ট নাও। সারাদিন নাচার পর তুমি টায়ার্ড এরপর জার্নির ধকল নিতে পারবে না। রাতে রান্নার ঝামেলা করার আর দরকার নেই। খাবার আমি নিয়ে আসবো কেমন? এখন তাহলে রাখছি।” বলে মঞ্জুষাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আচমকা কলটা কেটে দেয় সঞ্জয়। মঞ্জুষা বোঝে সঞ্জয় মুখে না বললেও ভেতরে ভেতরে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই। আর্টিস্টদের জীবন এমনই হয়। কোনো ছুটি নেই, নিজের মতো বাঁচা নেই। এমনকি বিয়ের পর সঞ্জয়ের সাথে লাস্ট কবে বেড়াতে গেছে সেটাও মনে নেই।
গতবছর চারটে ওয়েবসিরিজ আর একটা সিনেমায় অভিনয় করে ভালো টাকা পেয়েছিল সঞ্জয়। এছাড়া সিরিয়াল থেকে এবং বিভিন্ন মঞ্চে শো করে মঞ্জুষারও ভালো টাকা জমেছিল। সেই টাকা দিয়ে দুজনে মিলে এবারের ট্রিপে একসাথে সময় কাটাবে বলে মন্দারমনিতে একটু নিরিবিলি এলাকায় একটা কটেজ ভাড়া করেছিল। ভেবেছিল এই তিনদিন দেদার খাওয়া আর মজা করবে ওরা। সোজাসুজি বলতে গেলে এটা ওদের মধুচন্দ্রিমা হতে পারতো। ওর একটু ভুলের জন্য সমস্ত প্ল্যানটা ভেস্তে গেল। ছলছলে চোখে গাড়ির জানলার দিকে তাকাল মঞ্জুষা। ইস কেন রিহার্সালের শেষে থেকে গেল না ও? কেন অপেক্ষা করলো না সঞ্জয়ের? আরেকটু থেকে গেলে... ভাবতে ভাবতে আচমকা একটা আইডিয়া খেলে গেল ওর মাথায়।
আড়চোখে ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে ফোনের নেট অন করলো সে। তারপর হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে দেখলো সঞ্জয় অনলাইন আছে। চটপট সঞ্জয়ের ইনবক্সে টাইপ করলো সে, “আমাকে রাস্তা থেকে পিকআপ করতে পারবে?” মেসেজটা রিসিভ হওয়ার সাথে সাথে সঞ্জয়ের রিপ্লাই এল, “মানে?” মঞ্জুষা ঝড়ের গতিতে টাইপ করল, “বলছি আমাকে মাঝরাস্তায় পিকআপ করতে পারবে? তাহলে একসাথে বেরিয়ে যেতাম।” কিছুক্ষণ পর সঞ্জয়ের রিপ্লাই এল, “পারবো! কিন্তু তোমার শরীর?” মঞ্জুষা সঙ্গে সঙ্গে টাইপ করলো, “সে তোমার সাথে থাকলে এমনিতেও ফিট হয়ে যাবে। যাবে? যদি যেতে চাও তাহলে লোকেশন বলে দেব।” ওপার থেকে সম্মতি আসতেই মঞ্জুষা ওর পিকআপ লোকেশন জানিয়ে নেট অফ করে দিল।
*****
গাড়িটা যখন মঞ্জুষার পাড়াতে ঢুকবো ঢুকবো করছে তখন মঞ্জুষা সঞ্জয়কে মেসেজ করে রেডি থাকতে বলে ড্রাইভারকে সাইডে গাড়ি দাঁড় করাতে বলল। অজুহাত হিসেবে জানাল এ পাড়ায় একজনের জন্মদিনে ওর নিমন্ত্রণ আছে। সেটা অ্যাটেন্ড করতে হবে ওকে। ড্রাইভার প্রথমে গাঁইগুঁই করলেও একসময় বাধ্য হয়ে মঞ্জুষাকে নামিয়ে দিল পাড়ার আগে। গাড়ির ডিক্কি থেকে ব্যাগ নামিয়ে মঞ্জুষা দাঁড়াল মোড়ের মাথায়। ওকে নামিয়ে গাড়িটা ফিরে গেল নিজের আস্তানায়। কিছুক্ষণ পরে মঞ্জুষার সামনে এসে দাঁড়াল আরেকটা কালো রঙের গাড়ি। জানলার কাঁচ নামিয়ে সঞ্জয় বলে উঠল, “কেউ দেখে ফেলার আগে উঠে এসো।”
গাড়ির ব্যাকসিটে ব্যাগ রেখে মঞ্জুষা বসল সঞ্জয়ের পাশের সিটে। সঞ্জয় সঙ্গে সঙ্গে জানলার কাঁচ তুলে গাড়ি স্টার্ট করতেই মঞ্জুষা দুহাতে সঞ্জয়কে জড়িয়ে ধরে একটা গভীরভাবে চুমু খেল। কিছুক্ষণ পর সঞ্জয় নিজেকে ছাড়িয়ে অভিমানের সুরে বলে উঠল,
- আমি তো ভেবেছিলাম এবারের ট্রিপটাও বোধহয় গেল! আমার মঞ্জুবেবিকে আর আদর করতে পাবো না।
মঞ্জুষা সঞ্জয়ের চুলগুলো ঘেটে দিয়ে বলল, “তাই কখনো হয়? আমার সঞ্জুবেবি ট্রিপ প্ল্যান করবে আর আমি যাবো না? নাও আর দেরী করো না। এখান থেকে নিয়ে চলো আমাকে অনেক দুরে। কোনো সমুদ্রের তীরে। যেখানে থাকবো শুধু তুমি আর আমি। মাঝে কেউ থাকবে না।” বলে মঞ্জুষা সিটে হেলান দেয়। সঞ্জয় মুচকি হেসে মঞ্জুষার দিকে তাকায়। তারপর গাড়ি চালাতে শুরু করে। মাঝরাতে প্রেমের এই গোপন অভিসারে ব্রতী দুজনকে নিয়ে কলকাতার বুক চিরে বেরিয়ে যায় কালো রংয়ের গাড়িটা।
*****
মন্দারমনিতে আসার সময় মঞ্জুষার ভীষণ ইচ্ছে ছিল সমুদ্রে নামবে। কিন্তু আগের দিন অতো পরিশ্রমের পর সারারাত জেগে অতো দুর জার্নি করার ফলে ওর শরীর আর সায় দিল না। কটেজে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে ব্রেক ফাস্ট সেরে নেওয়ার পর বিছানায় লুটিয়ে পড়ল সে। সঞ্জয়ও আর মঞ্জুষাকে ঘাটাল না। প্রায় সারাদিন নিজের ঘরে অচেতন হয়ে পড়ে থাকার পর মঞ্জুষার ঘুম যখন ভাঙল তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়েই সে বুঝল সমগ্র শরীর যন্ত্রণায় টনটন করছে। কিছুক্ষণ পর সঞ্জয় দুটো কফিমগে ব্ল্যাক কফি নিয়ে ঘরে ঢুকে বলল, “ঘুম ভাঙলো বেবি?” তারপর ঘরের সেন্টার টেবিলে ট্রে-টা রেখে মঞ্জুষার দিকে তাকাতেই বুঝলো কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। মঞ্জুষাকে জিজ্ঞেস করতেই সে জানাল সারা শরীর যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে। সঞ্জয় বুঝলো কাল সারাদিন নাচ করার ফলে মাসলপেইন হচ্ছে মঞ্জুষার। সঙ্গে সঙ্গে সে মঞ্জুষার পাশে গিয়ে বসল। তারপর বলল, “বুঝেছি। মাসলপেইন হচ্ছে। কোনো ব্যাপার না। চট করে বাথরুমে গিয়ে ঠাণ্ডা জলে স্নান সেরে নিয়ে কফিটা খেয়ে নাও। দেখবে শরীরটা বেশ ফ্রি লাগছে। পারবে তো বাথরুমে যেতে?” মঞ্জুষা মাথা নেড়ে কোনোমতে সঞ্জয়ের সাহায্যে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল।
বাথরুমে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে শীতলধারায় স্নান করার পর শরীরের ক্লান্তিটা সত্যিই অনেকটাই কমে গেল মঞ্জুষার। স্নান সেরে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখল সঞ্জয় এরমধ্যেই বিকেলের জলখাবার এনে জড়ো করেছে টেবিলে। সেদিন সারা সন্ধ্যে সঞ্জয়ের সাথে আড্ডা দিয়েই কাটানোর পর রাতে মঞ্জুষা যখন ঘুমোতে গেল ততক্ষণে ওর শরীরের ও মনের দুটোরই ক্লান্তি অনেকটাই কমে গেছে।
*****
পরদিন সকাল সকাল দু'জনে মিলে বেরিয়ে পড়ল আশেপাশের জায়গা দেখতে। গাড়িতে করে একে একে তালসারি, উদয়পুর, ওল্ড দীঘা ঘুরে ওরা যখন ফিরল ততক্ষণে সুর্যদেব পাটে যেতে বসেছেন। গাড়িটাতে গ্যারাজে পার্ক করে কেয়ারটেকারকে কফির অর্ডার দিয়ে সঞ্জয় যখন ঘরে ঢুকল মঞ্জুষা ততক্ষণে ওর রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। বৈঠকখানর সোফায় হেলান দিয়ে বসে একটা সিগারেট ধরাল সঞ্জয়। তারপর হাতে পরা কড়ির ব্রেসলেটটার দিকে তাকিয়ে ক্লান্তভাবে সিগারেটে একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল। মেজাজটা দুপুরবেলা থেকে খিঁচড়ে আছে। সব ঠিকঠাক থাকলে ওরা আরো আগে ফিরে আসতো কিন্তু বাঁধ সাধলো মঞ্জুষা নিজে।
উদয়পুর সি-বিচে নেমে খাওয়াদাওয়া সেরে ফেলার পর মঞ্জুষা আবদার করে বসল একটা মালা আর একটা কড়ির ব্রেসলেটের। ওর ইচ্ছে এই দুটো জিনিস এই ট্রিপের স্মৃতি হিসেবে রাখবে। সঞ্জয় প্রথমে একটু আপত্তি করেছিল বটে। একে এই ট্রিপটা ভীষণ কনফিডেন্সিয়াল, তার উপর ওরা এখন রীতিমতো সেলেব। আর এরকম ঘিঞ্চি এরিয়ায় কোনো সেলেব এলে কী রকমের হট্টগোল হতে পারে তার কোনো ধারণা মঞ্জুষার নেই। সে মঞ্জুষাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও অবশেষে মঞ্জুষার জেদের কাছে হার মেনে বাজারে ঢোকে। আর বাজারে ঢোকার পর সঞ্জয় যে ভয়টা করছিল সেটাই হয়। দু-তিনজন মহিলা পর্যটক ওদের চিনে ফেলায় রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বাজারে। তারপর যা হয় আর কি। ভক্তদের সেলফির আবদার মিটিয়ে ওরা যখন রওনা দিল ততক্ষণে ঘড়ির কাটা দুপুর তিনটে পেরিয়ে গেছে। বলাই বাহুল্য ঘটনাটা সঞ্জয়ের ভালো লাগেনি। বস্তুত ওরকমভাবে আচমকা স্টার অফ ক্রাউড হয়ে যাওয়াটা মোটেও ভালো লক্ষ্যণ নয়। যেখানে এই ট্রিপটা একদম গোপনীয় রাখতে চেয়েছিল সে। এতগুলো লোক, এত সেলফি, ওরা যে এখানে একসাথে আছে সেটা চাউর হতে কতক্ষণ? আর একবার সেটা চাউর হলে মঞ্জুষার আর ওর কেরিয়ারের পক্ষে মোটেও ভালো হবে না। সাংবাদিকরা নানা রকম রুমার ছড়াবে, আবার একাধিক কেচ্ছা লেখা হবে, মিম, ট্রোলের বন্যা বয়ে যাবে। যেটা মোটেও ভালো নয়। গাড়ি করে ফেরার পথে সেটাই সে মঞ্জুষাকে বোঝাতে চেয়েছিল, কিন্তু মঞ্জুষা বোঝেনি। উল্টে সঞ্জয়কে ওভার রিঅ্যাক্ট করছে বলে ঝগড়া করেছে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ব্রেসলেটটার দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হয়ে গিয়েছিল সঞ্জয়। কেয়ারটেকারের ডাকে সে সোজা হয়ে বসলো সে। তাকিয়ে দেখল কেয়ারটেকার সেন্টার টেবিলে কফিমগ আর চিকেন পকোড়ার ট্রে-টা রেখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। সঞ্জয় ওর দিকে তাকাতেই সে জানাল রাতের খাবার তৈরী হয়ে গেছে। আর কিছু লাগবে কিনা। সঞ্জয় মাথা নেড়ে বলল, “আর কিছু লাগবে না। এক কাজ করো, তুমি বাড়ি চলে যাও। রাতের খাবার আমরাই গরম করে খেয়ে নেব। কাল সকালে চলে এসো কেমন?” কেয়ারটেকার তাও দাঁড়িয়ে আছে দেখে ভ্রু কুঁচকে সঞ্জয় জিজ্ঞেস করে, “কিছু বলবে?”
- কালকে তো আমার আসা হবে না স্যার। একেবারে পরশু আসবো।
কথাটা শোনার পর সঞ্জয় কিছুক্ষণ একদৃষ্টে কেয়ারটেকারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলে, “মানে?” কেয়ারটেকার হাত কচলে বলে, “আসলে স্যার ব্যাপারটা হয়েছে কি...ইয়ে মানে আমি বাবা হতে চলেছি স্যার। কালকেই ডেলিভারীর ডেট পড়েছে। মালিককে জানাব ভেবেছিলাম কিন্তু তার আগেই মালিক জানাল আপনারা আসছেন তাই...”
কথাটা শোনামাত্র সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সঞ্জয়। তারপর পকেট থেকে পার্স বের করতে করতে বলে, “আগে বলবে তো! ইস ছিঃ! ছিঃ! কি কাণ্ড! তোমার বউ ওদিকে সন্তানসম্ভবা, কোথায় এসময় তোমার তার কাছে থাকা উচিত তা না করে তুমি...কালকেই আমাকে বলতে পারতে! তাহলে কালকেই তোমাকে ছেড়ে দিতাম। আচ্ছা বেশ তুমি বরং পরশুদিনই এসো। দাঁড়াও এটা নিয়ে যাও।” বলে পার্স থেকে দুটো পাঁচশো টাকার নোট বের করে কেয়ারটেকারের দিকে এগিয়ে দিতেই কেয়ারটেকার মাথা নেড়ে টাকাটা নিতে অস্বীকার করে। সঞ্জয় হেসে বলে, “আরে এটা তোমার বকসিসের টাকা নয়, এটা আমার আর ম্যাডাম মানে আমাদের তরফ থেকে তোমার স্ত্রী আর যে আসছে তার জন্য উপহার। যাওয়ার পথে কিছু কিনে নিও। কংগ্রাচুলেশনস!” কেয়ারটেকার হেসে মাথা নেড়ে টাকাটা নিয়ে চলে যেতেই সঞ্জয় ভেতর থেকে সদর দরজাটা আটকে দেয়। তারপর একঝলক ব্রেসলেটটার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে।
সত্যি কথা বলতে গেলে উদয়পুর ভ্রমণে সবটা যে খারাপ হয়েছে তা নয়। বরং কিছুটা লাভও হয়েছে বটে। ওখানে না গেলে এরকম সুন্দর ব্রেসলেটটা সে পেত কি? মঞ্জুষা একটু ইমম্যাচিওর তবে ওর চয়েসের প্রশংসা করতে হয়। নাহ! আজ একটু বেশিই রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছে মেয়েটার উপর। সত্যিই তো মেয়েটা বেশি কিছু চায়নি। এবার মানভঞ্জন করতে হবে নাহলে ট্রিপটাই মাটি হয়ে যাবে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কফির ট্রে-টা হাতে নিয়ে সঞ্জয় এগোয় মঞ্জুষার ঘরের দিকে।
*****
উদয়পুর থেকে ফেরার পর থেকে মঞ্জুষার মনটাও ভার হয়ে আছে। কি এমন অন্যায় আবদার করেছিল সে যে সঞ্জয় এভাবে রিঅ্যাক্ট করলো? কোথাও বেড়াতে এলে কিছু কেনাকাটা করবে না তা আবার হয় নাকি? মানছে সে এখন আগের মতো সাধারণ মানুষ নয়, তার কিছুটা পরিচিতি হয়েছে, তাই বলে সে ট্রিপটাকে উপভোগ করবে না? এবার ওকে দেখে বাজারে ভীড় জমে গেলে সেটা ওর দোষ? একটা মালা আর একটা ব্রেসলেটই তো কিনতে চেয়েছিল সে! তাতেও সঞ্জয় এত বাজেভাবে রিঅ্যাক্ট করবে জানলে কিছুতেই আসতো না ওর সাথে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পরনের পোশাক খুলতে খুলতে আয়নার দিকে তাকায় মঞ্জুষা। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে একঝলক তাকানোর পর ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মালাটা। একটা খুবই সাধারণ পুঁতির মালা। মাঝে কড়ি দিয়ে সাজানো একটা বৃত্তাকার লকেট ঝুলছে। লকেটের মাঝে একটা সবুজ রঙের পাথর। ফর্সা গায়ের রঙের সাথে দিব্যি মানিয়েছে মালাটা। যেন ওর রূপটাকে আরো খোলতাই করেছে। আয়নায় লকেটটার দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হয়ে পড়েছিল মঞ্জুষা। এমন সময় ওকে প্রায় চমকে দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে সঞ্জয়।
ঘরে প্রবেশ করামাত্র বিবসনা মঞ্জুষাকে দেখে প্রথমে থমকে গেলেও পরক্ষণে নির্বিকারভাবে ট্রে-টা ঘরের টেবিলে রেখে সোফা থেকে টাওয়েলটা মঞ্জুষার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সঞ্জয় বলে ওঠে, “ফ্রেশ হয়ে এসো। কফি খেতে খেতে কথা হবে।” প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে টাওয়েলটা দিয়ে কোনোমতে নিজের লজ্জা নিবারণ করে বাথরুমের দিকে দৌড় লাগায় মঞ্জুষা। সেদিকে তাকিয়ে ট্রে-তে রাখা প্লেট থেকে একটা চিকেন পকোড়া তুলে বিছানায় বসে খেতে খেতে আনমনে হেসে সঞ্জয় বলে ওঠে, “পাগলী একটা।”
“আশ্চর্য লোক একটা! সামান্য লজ্জাবোধ তো দূর, সামান্য জ্ঞানটুকু পর্যন্ত নেই! কারো ঘরে ঢুকতে গেলে নক করতে হয় সেটুকু সহবত নেই! কেমন গটগট করে ঢুকে গেল দেখো! আবার হুকুম করা হচ্ছে! তোর হুকুমের নিকুচি করেছে! ভাব করতে এসেছে! মানভঞ্জন! হুহ! কেন? তখন গাড়িতে বকার সময় মনে ছিল না?” কথাগুলো মনে মনে বলে বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারের তলায় দাঁড়াল মঞ্জুষা। লোকটাকে দেখলেই রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে! দাঁতে দাঁত চিপে রাগটাকে প্রশমিত করে মঞ্জুষা শাওয়ার চালিয়ে দিল।
স্নান সেরে গায়ে টাওয়েল জড়িয়ে বাথরুমের বাইরে বেরিয়ে মঞ্জুষা দেখল সঞ্জয় বিছানায় বসে আয়েস করে চিকেন পকোড়া খাচ্ছে। মঞ্জুষাকে বাথরুম থেকে বেরোতেই হেসে বলল, “পকোড়াটা বেশ করেছে! খাবে নাকি?”
কথাটা শোনামাত্র আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না মঞ্জুষা। ছুটে গিয়ে সঞ্জয়ের বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সে। কিল-চড়-ঘুষি মেরে, আঁচড়ে কামড়ে জেরবার করে তুলল সঞ্জয়কে। দুই হাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলল ওর পরনের টিশার্ট। আর সঞ্জয়! সে হাসিমুখে সহ্য করতে লাগল মঞ্জুষার এই মিষ্টি অথচ নির্মম শাসনকে। কিছুক্ষণ অত্যাচার করার পর ক্লান্ত হয়ে মঞ্জুষা কাঁদতে কাঁদতে শুয়ে পড়ল সঞ্জয়ের বুকের উপর। সঞ্জয় দুহাতে মঞ্জুষাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, “এবার শান্তি হয়েছে? রাগ কমেছে? না মানে রাগ যদি কমে তাহলে আমার মতটা জানাতে পারি কি?” কথাটার প্রত্যুত্তরে মঞ্জুষা সঞ্জয়ের বুকে একটা আলতো কিল মারলে সঞ্জয় হেসে বলে, “আচ্ছা বাবা আমার ঘাট হয়েছে, সরি। কিন্তু ভেবে দেখো তো, আমি কি তোমায় এমনি এমনি বকেছি নাকি? বকেছি তো তোমার ভালোর জন্য। দেখো মঞ্জু, এই ইন্ডাস্ট্রিতে তুমি ক'বছর হল এসেছ। আর আমি এসেছি প্রায় বছর বারো হতে চলল। এই ইন্ডাস্ট্রিকে যতটা তুমি চেনো, তার চেয়ে বেশি আমি চিনি। বরং নোংরা দিকটাই বেশি চিনি। এখানে টিকে থাকতে গেলে পরিশ্রম যেমন দরকার! তেমনই দরকার লড়াই করে নিজের জায়গা ধরে রাখার। এখানে সুযোগ আসে না মঞ্জু, সুযোগ তৈরী করে নিতে হয়। মৈত্রেয়ীদিকে দেখো না। ইন্ডাস্ট্রিতে ছয়বছর হতে চলল অথচ এখনও সেই সিরিয়ালেই আটকে। সিনেমায় রোলের জন্য পাগলের মতো খাটছে, একের পর এক ট্রোল সহ্য করে পোর্টফোলিও করাচ্ছে অথচ চান্স পাচ্ছে কি? এদিকে নিজেরই কলিগ ঐশিকাকে দেখো, একটা মেগা শেষ হবার আগেই আরেকটা মেগা, দুটো ওয়েবসিরিজ ধরে বসে আছে। কেন? মৈত্রেয়ীদির পোর্টফোলিওতে বোল্ডনেস থাকলেও ঐশিকার মতো পোর্টফোলিওতে বিকিনি ছবি, বা চুমুর দৃশ্যে অভিনয়ের গাটস নেই। এটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, এখানে যত বেশী খুলবে, তত বেশী চান্স পাবে। একজন অভিনেতার অভিনয় জীবন মানে প্রাইম টাইম যেখানে ষাট বছর, সেখানে একজন অভিনেত্রীদের জন্য বরাদ্দ মাত্র দশবছর। মানে আজ থেকে তিরিশ বছর পরেও যদি এই চেহারা আমার থাকে তাহলে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে পারবো আমি। কিন্তু তুমি পারবে না। এই দশটা বছর কাজে লাগানো বা লাইমলাইটে থাকা সহজ নয়! তোমার অভিনয়ে দাগ না কাটতে পারলে ঐ আইক্যান্ডি হয়েই থেকে যাবে তুমি। দিনের শেষে বয়স হলে আর পাত্তা পাবে না কারো কাছে। তখন লাইমলাইটে থাকতে হয় কোনো প্রোডিউসারকে বিয়ে করতে হবে, নাহলে এমন বিতর্ক তৈরী করতে হবে যাতে তুমি নিউজে হট টপিক হয়ে থাকো। তোমাকে দেখে বুঝেছি তোমার মধ্যে ছাইচাপা আগুন আছে। শুধু আইক্যান্ডি হয়ে বা হটটপিক হয়ে থাকতে আসোনি তুমি! সেই কারণেই তোমাকে বার বার নিজের অভিনয়স্বত্তাকে ইউটিলাইজ করতে বলি আমি। কোনোরকম কন্ট্রোভার্সি বা নিউজ থেকে দূরে থাকতে বলি। আজ যেটা হল সেটা কিন্তু নিউজের হটটপিক ছাড়া কিছু নয়। এই যে তুমি এত ঘটা করে সেলফি তোলালে এতে টলিপাড়া কতটা সরগরম হবে বুঝতে পেরেছ? কতটা কানাঘুষো, কতটা ফিসফাস হবে আমাদের সম্পর্কটাকে নিয়ে সেটার কোনো ধারণা আছে? একবার যদি আমাদের বিয়ের কথাটা ফাঁস হয়ে যায় তাহলে আমার কিছু যাবে না ঠিকই কিন্তু এফেক্টটা পড়বে তোমারই কেরিয়ারের উপর। সে কারণেই বকেছি তোমাকে। আমাকে প্রমিস করো আর কোনোদিন এভাবে ওপেনলি পাবলিকের সামনে হাজির হবে না।”
সঞ্জয়কে জড়িয়ে ওর বুকে লেপ্টে থাকা মঞ্জুষা চুপ করে এতক্ষণ ধরে ওর কথাগুলো শুনছিল। তখন সঞ্জয়ের কথায় রাগ হলেও এখন ঠাণ্ডা মাথায় সঞ্জয়ের যুক্তিগুলো শুনে মঞ্জুষার মনে হল সঞ্জয় ঠিক কথাই বলেছে, ওভাবে তখন পাবলিকের সামনে চলে আসাটা সত্যিই ঠিক হয়নি ওর। সত্যি কথা বলতে গেলে এই ট্রিপটা একান্ত গোপনীয় আর ওদের মধ্যেই থাকার কথা ছিল। ওর ভুলের জন্য সেটা আর গোপনীয় রইল না। এবার হয়তো গোটা ইন্ডাস্ট্রি জেনে যাবে ওর আর সঞ্জয়ের ব্যাপারটা। আবার সেই কানাঘুষো শুরু হবে। ফেসবুক পেজ, নিউজপোর্টালগুলো ভরে যাবে কেচ্ছায়। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে অস্ফুটে মঞ্জুষা বলে ওঠে, “সরি। আর হবে না। প্রমিস।” মঞ্জুষাকে জড়িয়ে ধরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সঞ্জয় বলে ওঠে, “দ্যাটস মাই লেডি!” বলে মঞ্জুষার কপালে একটা চুমু খেয়ে বলে, “এবার রাগ কমেছে?”
মঞ্জুষা মাথা তুলে সঞ্জয়ের দিকে ভালো করে তাকায়। সঞ্জয়ের পরনের টিশার্টটা হাতাহাতির ফলে ছিঁড়ে গিয়ে ঘরের এককোণে পড়ে আছে। ফলে উর্ধাঙ্গ সম্পূর্ণ অনাবৃত হয়ে গেছে সঞ্জয়ের। হাল্কা শ্যামবর্ণ বুকের উপর মঞ্জুষার নখের আঁচড়ের ফলে রক্তচিহ্ন অঙ্কিত হয়েছে। মাথার একরাশ বাবরি চুল ওর অত্যাচারের ফলে উস্কোখুস্কো হয়ে গেছে। সে নিজেও হাতাহাতির ফলে খানিকটা বিধ্বস্ত। পরনের টাওয়েল শরীর থেকে সরে গিয়ে বিছানার এককোণে লুটিয়ে পড়েছে। সদ্যভেজা চুলগুলো ছড়িয়ে গিয়ে লেপ্টে গেছে ওর সারামুখে। তার খেয়াল হয় বিবসনা অবস্থায় সে সঞ্জয়ের বুকের উপর শুয়ে থাকলেও সঞ্জয়ের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং তার অত্যাচারে বিধ্বস্ত হয়েও হাসিমুখে তাকিয়ে আছে সঞ্জয়।
এর আগেও সঞ্জয়কে খালি গায়ে দেখেছে মঞ্জুষা। বরং বলা ভালো সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থাতেই দেখেছে। কিন্তু কোনোবার এত মোহময় লাগেনি সঞ্জয়কে। মুগ্ধ চোখে মঞ্জুষা দেখল টেবিল ল্যাম্পের নরম আলো এসে ঠিকড়ে পড়ছে সঞ্জয়ের শরীরের অনাবৃত অংশে। সেই আলোয় শ্যামবর্ণ সঞ্জয়ের দেহের ঘর্মাক্ত মাংসপেশীগুলো চকচক করে উঠেছে। মঞ্জুষার মনে হল যেন কোনো গ্রিক ভাষ্কর্যকে দেখছে সে। হাল্কা কাঁচাপাকা দাঁড়িতে, উস্কোখুস্কো চুলে ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে সঞ্জয়। সেই নির্মল হাসিতে ওকে দেবপুরুষের মতো লাগছে। সঞ্জয় এবার দু’হাতে মঞ্জুষার মুখের উপর থেকে চুল সরিয়ে বলে, “কি হল? রাগ কমেছে?” মঞ্জুষা মাথা নেড়ে সঞ্জয়ের ঠোঁটে চুম্বনচিহ্ন এঁকে দিয়ে বলে, “না কমেনি! আমাকে আদর করে দাও!”
মঞ্জুষার ইঙ্গিতটা বুঝতে বিন্দুমাত্র সময় লাগে না সঞ্জয়ের। সে মৃদু হেসে মাথা নেড়ে মঞ্জুষার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। তারপর এক আদিম বন্য আদরে পাগল করে তোলে মঞ্জুষাকে। মঞ্জুষা সঞ্জয়কে সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে গেলে সঞ্জয় সেই প্রতিরোধকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে একে একে মঞ্জুষার কপাল, চোখ, গাল, থুতনি, চিবুক, বুকের খাঁজে চুম্বনচিহ্ন আঁকার পর সঞ্জয় নেমে আসে মঞ্জুষার বুকের কাছে। গলা থেকে পুঁতির মালাটা খুলে বিছানার পাশে সাইড টেবিলে রেখে দিয়ে বেডসুইচ টিপে ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়ার পর নিজের মুখ নামিয়ে আনে মঞ্জুষার খাজুরাহোর ভাস্কর্যের মতো পেলব বক্ষদ্বয়ের উপর। এক হাতে মঞ্জুষার মুখ চেপে শীৎকারের শব্দ রোধ করে দিয়ে বন্য মৌখিক আদরে মঞ্জুষাকে ক্রমশ পাগল করে তোলে সে। মঞ্জুষা সঞ্জয়কে সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে গেলে সঞ্জয় সেই প্রতিরোধকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে একে একে মঞ্জুষার বক্ষদ্বয়ে ও উদরে চুম্বনচিহ্ন আঁকতে আঁকতে নেমে আসে মঞ্জুষার নাভিমূলের উপর। সঞ্জয়ের এই অচেনা আদরের সুখে ভাসতে ভাসতে গোঙাতে থাকে মঞ্জুষা। ওর ফরসা সরু আঙুলগুলো সঞ্জয়ের মাথায় বিলি কেটে বেড়ায়।
নাভিমূল আর তলপেটে আদরের চিহ্ন এঁকে দেওয়ার পর উরুসন্ধিতে নামার আগে একপলক মঞ্জুষার দিকে তাকায় সঞ্জয়। দেখে মঞ্জুষা কামাতুর দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালেও হাসতে হাসতে দুদিকে মাথা নেড়ে বলছে, “ডোন্ট ইভেন থিঙ্ক অ্যাবাউট ইট! আই অ্যাম গনা কিল ইউ!” সঞ্জয় দুষ্টুহাসি হেসে বলে ওঠে, “আই ডোন্ট কেয়ার!” তারপর মঞ্জুষার কোনো আপত্তির পরোয়া না করে মুখ নামিয়ে দেয় উরুসন্ধির উপর। মঞ্জুষা আর সহ্য করতে পারে না। প্রথমে আদরের ঠেলায় বিছানায় মিশে গেলেও পরক্ষণে দুহাতে খামচে ধরে সঞ্জয়ের মাথার চুল। প্রাণপণে সঞ্জয়কে সরানোর বৃথা চেষ্টা করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে আত্মসমপর্ণ করে ক্রমশ সুখের সাগরে ভাসতে থাকে সে। সঞ্জয়ের পাগলপারা আদরে ক্রমশ থরথর করে কেঁপে ওঠে ওর সমগ্র দেহ।
বাইরে তখন মেঘহীন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। জ্যোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে সমস্ত চরাচর। সেই চাঁদের আলো কাঁচের জানলা বেয়ে প্রবেশ করেছে ওদের ঘরে। চারদিক নিস্তব্ধ হওয়ায় শোনা যাচ্ছে সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রবল গর্জন। জোয়ারের বলে বলীয়ান সমুদ্রের সফেন ঢেউগুলো একের পর এক আছড়ে পড়ছে বালুকাবেলার উপর। ভাবখানা এমন যেন প্রতি ইঞ্চিতে বুঝে নিতে চাইছে নিজের প্রাপ্য জমিটুকুকে। বদ্ধ ঘরের ভেতরের অবস্থাও তথৈবচ। তফাৎ এই যে এখানে সমুদ্রের পরিবর্তে দুজন মানুষ বন্য আদরের খেলায় মেতে ক্রমশ মেপে নিচ্ছে পরস্পরকে। আদরের প্রবলতায় ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে পরস্পরকে। মঞ্জুষার সুতীক্ষ্ণ নখের আচড়ে সঞ্জয়ের কাঁধ, বাহু, পিঠ যেমন ফালাফালা হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনই সঞ্জয়ের উগ্র বর্বর আদরে মঞ্জুষার কণ্ঠায়, চিবুকে ক্রমশ রক্ত জমাট বেঁধে সৃষ্ট হচ্ছে রক্তিম আল্পনা।
পাগলের মতো চুমু খেতে খেতে মঞ্জুষার ঠোঁটের উপর রীতিমতো অত্যাচার শুরু করে দেয় সঞ্জয়। মঞ্জুষাও ছেড়ে দেওয়ার মেয়ে নয়। সেও পাগলের মতো কামড়ে ধরে সঞ্জয়ের ঠোঁট। দুজনের ধারালো দাঁতের চাপে রক্ত বেরিয়ে এলেও দুজনের মধ্যে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। পরস্পরের ঠোঁটকে উন্মাদের মতো শোষণ করে চলে ওরা। পরম আবেশে চুমু খেতে খেতে সঞ্জয়ের পেশিবহুল দেহের উপর হেলান দিয়ে বসে মঞ্জুষা। মৃদু হেসে মঞ্জুষার ঠোঁটে, ঘাড়ে চুমু খেতে খেতে সঞ্জয় বলে চলে একান্ত গোপনীয় অথচ অশ্লীল মিঠেকড়া কিছু কথা যাতে জাগ্রত হয়ে ওঠে মঞ্জুষার দেহ। সেই সঙ্গে সঞ্জয়ের হাতদুটো পৌঁছে যায় মঞ্জুষার বক্ষে ও উরুসন্ধিতে। প্রবল বলিষ্ঠ হাতে সে মঞ্জুষার বক্ষে ও উরুসন্ধিতে তীব্র হস্তসঞ্চালন করতে থাকে। এতটা আদরের বহর আর বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারে না মঞ্জুষা। পাগলের মতো সঞ্জয়ের হাতে বন্দিনী হয়ে গোঙাতে থাকে সে। সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে যেতে থাকে তার শীৎকার। একসময় মঞ্জুষার সমগ্র দেহ তিরতির করে কেঁপে ওঠে। সঞ্জয়কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ক্রমশ রতিসুখে কুঁকড়ে ওঠে সে। সঞ্জয় মঞ্জুষার কপালে একটা চুমু খেয়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে অবলোকন করতে থাকে চাঁদের আলোয় নিজের স্ত্রীর অপরূপ সৌন্দর্যকে। একসময় সঞ্জয়ের দেহের উপর ভর দিয়ে এলিয়ে পড়ে মঞ্জুষার রতিক্লান্ত দেহটা।
কিছুক্ষণ পর মঞ্জুষার শরীর থিতু হয়ে আসার পর সঞ্জয় মঞ্জুষার কানের লতিতে আলতো কামড় দিয়ে জিজ্ঞেস করে, "আরো আদর চাই?" প্রত্যুত্তরে মঞ্জুষা মাথা নেড়ে সঞ্জয়ের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াতে গেলে সঞ্জয় বাধা দিয়ে বলে, "উহু! এভাবে নয়! ইফ ইউ ওয়ান্ট ইট, দেন ইউ মাস্ট বেগ ইট!” আদরের মাঝখানে আচমকা এই বাধা সহ্য করতে পারে না মঞ্জুষা। ওর ধৈর্যের বাঁধ ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে থাকে। সঞ্জয়ের কথায় আর থাকতে না পেরে সে কঁকিয়ে বলে ওঠে, “প্লিজ সঞ্জু! আই ওয়ান্ট ইট!”
- এভাবে নয়! সে আই ওয়ান্ট ইউ, আই লাভ ইউ! উই আর মেকিং লাভ জান, নট সেক্স! ধরে নাও বিয়ের পর এটাই আমাদের হানিমুন কাম দ্বিতীয় ফুলশয্যা।
কথাগুলো শোনামাত্র মঞ্জুষা থমকে যায়। সত্যিই তো! ওরা যেটা করছে সেটা তো লাভমেকিং! লাভমেকিংয়ে পরস্পরের প্রতি প্যাশনেট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ওরা তো সেরকম বিহেভই করছে না। বরং যেন পরস্পরের যৌনখিদে মেটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে! এই যে একটু আগে সঞ্জয় যে বন্য আদরটা ওকে করল সেটার কি খুব দরকার ছিল? নর্মাল কাডলিং বা চুমুতেই তো কাজ হত! কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সঞ্জয়ের দিকে একদৃষ্টে তাকায় সে। সঞ্জয় আবার মৃদু গলায় বলে ওঠে, “কাম অন টেল মি জান? হোয়াট ইউ ওয়ান্ট?”
চোখের দৃষ্টি নরম হয়ে আসে মঞ্জুষার। এবার সে ধরা গলায় অস্ফুটে বলে ওঠে, “আই ওয়ান্ট ইউ, আই ওয়ান্ট টু এক্সপ্লোর ইউ! আই ওয়ান্ট টু মেক লাভ উইথ ইউ সঞ্জু!”
মঞ্জুষার কন্ঠস্বর শুনে সঞ্জয় বোঝে অবশেষে মঞ্জুষা ধরা দিয়েছে। এটারই অপেক্ষা করছিল সে। মঞ্জুষার কথাগুলো শোনামাত্র সঞ্জয় মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয় ওকে। তারপর পরম আশ্লেষে চুমু ধীরে ধীরে প্রবেশ করে মঞ্জুষার ভেতরে। একটা অদ্ভুত শিহরনে কেঁপে ওঠে মঞ্জুষার সমগ্র শরীর।অনেকদিনের অনভ্যেসের ফলে প্রবেশের অভিঘাতে প্রথমে মঞ্জুষা চমকে গেলেও পরক্ষণে শীৎকার দেওয়ার আগেই সঞ্জয় ওর ঠোঁটটা নিজের ঠোঁট দিয়ে বন্ধ করে দেয়। সঞ্জয়ের ঠোঁটের ভেতর নীরবে গোঙাতে থাকে মঞ্জুষা। সঞ্জয় দু’হাতে মঞ্জুষার দুটো হাত চেপে ধরে চুমু খেতে খেতে মনের সুখে রমন চালিয়ে যেতে থাকে। মঞ্জুষার সারা শরীর জুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সে প্রাণপণে উপভোগ করতে থাকে সঞ্জয়ের জান্তব আদরটাকে। অনেকক্ষণ এভাবে রমন করার পর একসময় সঞ্জয়ের শরীর ক্লান্ত হয়ে এলে মঞ্জুষা সঞ্জয়কে পাশ ফিরিয়ে দিয়ে ওর উপর চড়ে বসে মঞ্জুষা। তারপর চুমুতে, আচড়ে ভরে দিতে থাকে সঞ্জয়ের সমগ্র শরীরটাকে। সঞ্জয় পাল্টা আদরে উত্তেজিত করে তোলে মঞ্জুষাকে। তার বলিষ্ঠ হাতের আঙুলগুলো খেলা করে বেড়ায় মঞ্জুষার দেহের প্রতিটা ভাঁজে। সেই আদরে আত্মহারা মঞ্জুষা অস্ফুটে শীৎকার দিয়ে ওঠে।মঞ্জুষার মিঠে রিনরিনে কন্ঠে শীৎকার শুনতে শুনতে জাগ্রত হয়ে ওঠে সঞ্জয়ের পৌরুষ। উন্মত্ত প্রেমিকের মতো সে আদরে আদরে ভরে তোলে মঞ্জুষার সমগ্র দেহটাকে। সমগ্র ঘরে সমুদ্রের গর্জনের সাথে ভেসে বেড়াতে থাকে আদরে আদরে পাগলিনী হওয়া মঞ্জুষার শীৎকার আর ওদের মধ্যে চলা অশ্লীল কথাবার্তা। আবেগে চোখ বন্ধ হয়ে আসে মঞ্জুষার। একসময় ক্লান্ত হয়ে মঞ্জুষা বিছানায় এলিয়ে পড়লেও সঞ্জয় প্রবলভাবে রমন চালিয়ে যেতে থাকে।
এইভাবে অনেকক্ষণ পর আদর শেষে মঞ্জুষার ভেতরে নিজেকে সম্পুর্ণভাবে নিঃশেষ করার পর সঞ্জয়ের অবসন্ন দেহটা মঞ্জুষার পাশে এলিয়ে পড়ে। ক্লান্ত বিধ্বস্থ মঞ্জুষা সঞ্জয়ের হাতের আঙুলগুলো নিজের হাতে নিয়ে অস্ফুটে বলে ওঠে, “থ্যাঙ্ক ইউ! থ্যাঙ্ক ইউ ফর বিইং উইথ মি। লাভ ইউ জান!” প্রত্যুত্তরে সঞ্জয় মঞ্জুষাকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা স্নেহচুম্বন এঁকে দিয়ে বলে, "লাভ ইউ টু জান!" উরুসন্ধির মৃদু যন্ত্রণা ছাপিয়ে একটা অদ্ভুত ভালোলাগা ছড়িয়ে পড়ে মঞ্জুষার সমগ্র শরীরে। ওর চোখের কোল বেয়ে বেরিয়ে আসে এক ফোঁটা অশ্রু।
*****
এক সপ্তাহ পর শট শেষে সকলের হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা সেট। দুর্দান্ত নেচেছে আজ মঞ্জুষা। সকলে তো বটেই এমনকি কোরিওগ্রাফারও মানতে বাধ্য হয়েছেন মেয়েটার মধ্যে ট্যালেন্ট আছে। নাহলে একসপ্তাহ আগেও যে মেয়ে নাচতে গিয়ে স্টেপ ভুল করছিল সেই মেয়েটা আজ প্রত্যেকটা স্টেপ নির্ভুলভাবে করেছে। লাঞ্চটাইমে ওর সহকর্মী ঐশিকা ওকে নিভৃতে জিজ্ঞেস করে, “ব্যাপারটা কি বলতো? একসপ্তাহের মধ্যে এমন কি হল যে এত অসুস্থ মেয়েটা হঠাৎ সুস্থ হয়ে গেল? কী এমন টনিক দিল সঞ্জয়দা যে এনার্জি কমছেই না? সিক্রেটটা কি বস?”
সারাদিন ধরে নাচার ফলে ক্লান্ত মঞ্জুষা ঐশিকার দিকে তাকায়। তারপর গত সপ্তাহের ট্রিপের কথা ভাবতে ভাবতে মুচকি হেসে চোখ টিপে রহস্যভরা গলায় বলে ওঠে , “ম্যাজিক!”

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এখানে মন্তব্য করুন