লাউঞ্জে বসে চোখ বুঁজে অডিও স্টোরিটা মন দিয়ে শুনছিল অতীন। এমন সময় ওর ঘোর কাটল মধুজার স্পর্শে। চোখ মেলে মধুজার দিকে তাকাতেই সে টের পেল মধুজা কিছু একটা বলছে। মধুজার কথাটা শোনার জন্য কান থেকে একটা ইয়ারবাড খুলতেই অতীন শুনতে পেল মাইকে একটা নারীকণ্ঠ বলছে, “Good afternoon Ladies and Gentleman. This is the pre-boarding announcement for flight 16B to Delhi. We are now inviting those passengers with small children, and any passengers requiring special assistance, to begin boarding at this time. Please have your boarding pass and identification ready. Regular boarding will begin in approximately ten minutes time. Thank you.”
মধুজা ততক্ষণে সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। ব্যাকপ্যাক কাঁধে নিয়ে মধুজা একটা হাত অতীনের দিকে বাড়াতেই সেই হাতটা ধরে অতি কষ্টে সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়াল অতীন। তারপর elbow crutch-এ ভর করে এগিয়ে গেল বোর্ডিং লাইনের দিকে। পেছন পেছন মধুজা এগিয়ে চলল কাঁধে ব্যাকপ্যাক আর একটা ট্রলিব্যাগ নিয়ে। যারা “রামধনু এফ.এম” পড়েছেন তাদের জন্য অবশ্য অতীন ও মধুজার পরিচয় দেওয়া নিষ্প্রয়োজন তাও যতক্ষণ ওরা বোর্ডিং লাইন পার করে প্লেনে চড়ছে ততক্ষণ পাঠকের উদ্দেশ্যে আরেকবার ওদের পরিচয় পর্বটা সেরে ফেলা যাক।
পেশায় রেডিও জকি ও নেশায় বাচিক শিল্পী মধুজা বর্তমানে বেতার জগতে একটা স্বল্প পরিচিত নাম। তেমন প্রথিতযশা খ্যাতনামা বাচিকশিল্পীদের সাথে কাজ করার সুযোগ না পেলেও দুএকটা অডিও গল্পে নিজের কন্ঠ দিয়েছে সে। এর আগে রামধনু এফ.এম-এ কর্মরত থাকলেও কিছু কারণবশত সেই রেডিও স্টেশনটা উঠে যাওয়ায় অন্য একটা জনপ্রিয় রেডিও স্টেশনে যোগ দিতে বাধ্য হয় মধুজা। বর্তমানে সেখানেই কাজ করছে সে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অপরাজেয়, নির্ভীক সৈনিকের নাম ক্যাপ্টেন অতীন রায়চৌধুরী। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তার দক্ষ সৈন্য পরিচালনা, সুচিন্তিত সমরকৌশল ভারতীয় সেনাকে কত সাফল্য এনে দিয়েছে তার কোনো হিসেব নেই। আজীবন দেশরক্ষার ব্রতে ব্রতী অতীন যতবার কোনো দেশবিরোধী দমন অভিযানে গেছে ততবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুকুটে যোগ হয়েছে নতুন পালক। আপাতদৃষ্টিতে হাসিখুশি, রসিক মেজাজের অতীনকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে সময় বিশেষে কতটা নির্মম হতে পারে সে। তবে নিজের সেনাবাহিনীর কেরিয়ারে সাফল্যের অনেক মেডেল প্রাপ্তি ঘটলেও একটা দাগ থেকে গেছে অতীনের জীবনে। যার ক্ষতচিহ্ন তাকে আজীবন শরীরে বয়ে বেড়াতে হবে। যার মাশুল স্বরূপ প্রাণের চেয়ে প্রিয় দেশমাতৃকার সেবা থেকে নিজেকে অব্যহতি দিয়ে সেনাবাহিনী থেকে সময়ের আগে স্বেচ্ছাবসর নিতে হয়েছে তাকে। যদিও ঘটনাটা আসলে কী ঘটেছিল সেটা অতীন ছাড়া আর কেউ জানে না। এমনকি মধুজাও নয়। অতীন সকলকে জানিয়েছে জঙ্গিদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় ভুল করে গ্রেনেডের সামনে চলে এসেছিল সে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে কোমরের চোট পাওয়ার পর প্রায় দুই বছর বিছানায় পঙ্গু হয়ে পড়েছিল সে।
অমানুষিক যন্ত্রণায় উন্মাদপ্রায় অতীন একবার ভেবেছিল এই জীবন আর রাখবে না। কিন্তু বাড়ির লোক, মধুজার কথা ভেবে নিজেকে শেষ করে দিতে পারেনি সে। ভেবেছিল বাড়ি ফিরলেও মধুজার সামনে আসবে না সে। সে চায়নি মধুজা ওকে এই অবস্থায় দেখুক। কিন্তু পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফেরার পর যখন মধুজার মুখোমুখি হল অতীন, সেদিন মধুজা ওকে শুধু আপন করেই নেয়নি। অতীনের থেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিও আদায় করে ছেড়েছিল। সেদিন বিছানায় আধশোয়া ক্যাপ্টেন অতীন রায়চৌধুরী মধুজাকে কথা দিয়েছিল সে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াবে।
তারপর কেটে গেছে তিনটে বছর। এই তিনবছরে মধুজার অক্লান্ত সেবায়, সাহচর্যে, ডাক্তারদের প্রচেষ্টায় এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে মধুজাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছে সে। প্রায় তিনবছর পর অবশেষে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়িয়েছে অতীন।
আর তারপর… তারপরের কথাটা নাহয় একটু পরেই বলছি। আপাতত ওদের বোর্ডিং পাস চেক করা হয়ে গেছে। এবার নাহয় মূল গল্পে ফেরা যাক। চেকিং পর্ব সেরে নেওয়ার পর লাগেজগুলো কনভেয়ার বেল্টে চাপিয়ে ওরা যখন ফ্লাইটের সিটে বসল ততক্ষণে সূর্যদেব পশ্চিমে পাড়ি দিয়েছেন। জানলার ধারে বসে সেদিকে তাকিয়েছিল মধুজা। প্লেনের ভেতর শোনা যাচ্ছে ক্যাপটেনের কেজো কণ্ঠস্বর। যদিও সেদিকে মন নেই তার। বরং এই মুহূর্তে তার মন পড়ে আছে বাড়িতে। মা নিশ্চয়ই এতক্ষণে কান্নাকাটির পর্ব সেরে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকেছে চা বানাতে। আর বাবা নির্ঘাত এই সুযোগে টিভির চ্যানেল ঘুরিয়ে খবরের চ্যানেল চালিয়েছে। আরেকটু পরে দুজনের মধ্যে ঝগড়া লাগল বলে। অতীনের বাড়িতেও বোধহয় একই ঘটনা ঘটছে তবে সেখানে বোধহয় খবরের জায়গায় খেলার চ্যানেল চলছে। অতীনের বাবা ফুটবলপ্রেমী। ওদের বাড়ির সকলেই হার্ডকোর মোহনবাগান সমর্থক। মধুজার বাবা অবশ্য তেমন ক্রীড়াপ্রেমী নন। তার যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান রাজ্য-দেশের খবর নিয়ে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পাশের সিটে বসে থাকা অতীনের দিকে তাকাল মধুজা। অতীন অবশ্য ততক্ষণে আবার কানে ইয়ারবাড গুঁজে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে ফেলেছে। জানলা দিয়ে গোধূলিবেলার সোনালী আলো এসে পড়ছে অতীনের সদ্য কামানো মসৃণ সবুজাভ গালে এবং শার্টের উপরে। বিকেলের এই কনেদেখা আলোতে অপরূপ লাগছে অতীনকে। কিছুক্ষণ অতীনের দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকার পর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল মধুজা। তারপর অতীনের একটা বাহু দুহাতে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রাখল। অতীন চোখ মেলে তাকাল মধুজার দিকে। তারপর মৃদু হেসে কান থেকে একটা ইয়ারবাড খুলে মধুজার দিকে এগিয়ে দিতেই মধুজা সেটা কানে গুঁজে নিয়ে শুনতে লাগল রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গল্প, “অতিথি”। আর ওর চোখের সামনে ভেসে বেড়াতে লাগল ছমাস আগের ঘটনাগুলো।
(মাসছয়েক আগে)
— তাহলে রেডি তো?
— রেডি!
— সব নিয়েছিস?
— হ্যাঁ।
— হাল্কা গরমের জামাকাপড়, হট ওয়াটার ব্যাগ, ক্যামেরা, ওষুধ…
— আরে হ্যাঁ রে বাবা হ্যাঁ! সব নিয়েছি। মা আর আমি মিলে একসাথে সবটা গুছিয়ে নিয়েছি। কিছুই বাদ…
— কী হল?
— এই ফ্লাইটের টিকিটটা তোকে দিলাম নাকি আমার কাছে?
— কই না তো! আমাকে কোনো টিকিট দিসনি তুই।
— অ্যাঁ? মেরেচে! তারমানে টিকিটটাই ভুলে মেরে দিয়েছি!
— জানতাম! প্রতিবার বেরোবার সময় একটা না একটা ব্লান্ডার করলে চলে না তোর! এখনই উবের ক্যাব চলে আসবে আর এখনই… কোথায় রেখেছিস? ট্রলিব্যাগে না ব্যাকপ্যাকে? নাকি ঘরের ভেতরে রেখে এলি? দাঁড়া আমি ব্যাকপ্যাকটা দেখছি। তুই ঘরের ভেতরটা খুঁজে দেখ।
কথাটা বলে অতীনের পিঠ থেকে ব্যাকপ্যাকটা নামিয়ে নেয় মধুজা। মুখ ব্যাজার করে একের পর এক জিপার টেনে ব্যাকপ্যাকের প্রতিটা কুঠুরিতে খোঁজ করতে থাকে সে। অতীন ক্রাচে ভর দিয়ে ঢুকে যায় ওর ঘরে। খানিকক্ষণ খোঁজার পরেই ব্যাকপ্যাকের ধার থেকে একটা জিনিস বের করে আনে সে। ছোটো চৌকো জিনিসটাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় তার। আর সেই মুহূর্তেই নিজের ঘর থেকে টিকিট হাতে বেরিয়ে আসে অতীন।
— পেয়েছি! ঘরেই ছিল বুঝলি! রিডিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ছিল। ভাগ্যিস তুই মনে করালি! নাহলে আজ ভো…
মধুজার হাতে ধরা চৌকো বাক্সটা দেখামাত্র মুখের কথাটা মুখেই থেকে যায় অতীনের। ইস! আজ সকালে যে কার মুখ দেখে উঠেছিল সে? ভোগান্তিটা যে এভাবে আসবে ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি সে! অতীনের দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে মধুজা বাক্সটা তুলে ধরে জিজ্ঞেস করে, “এটা কী?” আমতা আমতা করে অতীন বলে ওঠে,
— ইয়ে মানে…দেখতেই তো পারছিস এটা কী, আবার জিজ্ঞেস করছিস কেন?
— দেখতে পারছি বলেই তো জিজ্ঞেস করছি।
— ওটা আমার নয়, বাবার।
— তা প্যাকেটটা বাবার হলে তোর ব্যাকপ্যাকে কী করছে এটা?
— সেটা আমি কী করে বলবো? ভুল করে হয়তো ঢুকে গেছে। তাছাড়া এটা আমার ব্র্যান্ড নয়, আমি নেভি কাট খাই।
কথাটা বলে জিভ কেটে ফেলে অতীন। এই রে! নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে বেফাঁস সত্যি কথাটা বলে ফেলেছে সে। প্যাকেটটা ডাস্টবিনে ফেলতে ফেলতে মধুজা বলে, “যাক! নিজের মুখেই স্বীকার করলি যে তুই আবার স্মোক করা শুরু করেছিস। আমাকে আর জোর করতে হল না।” অতীন একবার ঢোক গিলে আত্মপক্ষ সমর্থনের উদ্দেশ্যে বলে ওঠে, “ইয়ে মানে মধু…” মধুজা অতীনের ব্যাকপ্যাকটা আবার গোছাতে গোছাতে বলে ওঠে, “থাক! আর নিজের হয়ে সাফাই দিতে হবে না। আমার যা বোঝার ছিল তা বোঝা হয়ে গেছে। মানুষ হিসেবে যদি তোর মিনিমাম লজ্জাটুকু না থাকে তাহলে আমিই বা আর কী করতে পারি? এখন এখানে মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে না থেকে টিকিটটা আমাকে দিয়ে নিচে যা। ক্যাবটা কতদূর এল দেখ।” অতীন কিছুক্ষণ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকার পর ধীর পায়ে মধুজার দিকে এগোতে যাবে এমন সময় নিচতলা থেকে ভেসে আসে অতীনের মায়ের কন্ঠস্বর, “কি রে? তোদের হল? ট্রেনের সময় হয়ে এলো তো!” একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অতীন নেমে যায় নিচের বৈঠকখানার উদ্দেশ্যে।
*****
দার্জিলিং-এর হোটেলের সামনে যখন অতীনদের ট্যাক্সিটা পৌঁছল তখন বিকেল চারটে বাজে। রুম আগে থেকে বুক করা ছিল। রিসেপশনে গিয়ে বলতেই হোটেলের কর্মচারি চাবি নিয়ে ওদের ঘরটা দেখিয়ে দিল। লোকটা চলে যেতেই ঘরের দরজা বন্ধ করে জানলার সামনে এসে দাঁড়াল অতীন। তারপর জানলার পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে তাকাল। দিনের আলো কমে যেতেই ধীরে ধীরে রাতের কৃত্রিম এল.ই.ডি আলোতে আলোকিত হচ্ছে দার্জিলিং-এর রাস্তাঘাট। পর্যটকদের ভীড়টাও ক্রমশ বাড়ছে। ক্রাচটা একপাশে রেখে জানলার ধারের চেয়ারটায় বসল অতীন। তারপর আড়চোখে তাকাল মধুজার দিকে। মধুজা ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে বাইরের পোশাক ছেড়ে টিশার্ট আর পাটিয়ালা প্যান্টের উপর একটা হুডি পরে নিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে গেছে। আসার সময় গোটা উড়ানপথে একটাও কথা বলেনি মধুজা। এমনকি এয়ারপোর্ট থেকে পাহাড়ে আসার গোটা পথটাতেও গাড়ির জানলা দিয়ে চুপ করে বাইরের দৃশ্য দেখে গেছে সে।
অতীন আর মধুজাকে ঘাটাল না। জ্যাকেটের পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে বাড়ির সবাইকে ওদের গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার সংবাদ জানিয়ে দেওয়ার পর চুপ করে বসে রইল জানলার সামনে। সকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটার জন্য কোথাও যেন একটা তাল কেটে গেছে। যে আনন্দ আর উৎসাহের সাথে এই ট্রিপটা ওরা দুজনে প্ল্যান করেছিল সেই আনন্দটাই মাঠে মারা গেছে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর কোনোমতে চেয়ার থেকে উঠে রুম সার্ভিসে ফোন করে রাতের খাবার হিসেবে চিকেন দো পেঁয়াজা আর রুটি অর্ডার করে ক্রাচে ভর দিয়ে উঠে এগিয়ে গেল বাথরুমের দিকে।
বিছানায় ফোন হাতে বসে থাকলেও আড়চোখে অতীনের প্রতিটা পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছিল মধুজা। অনুভব করতে পারছিল কথা বলার জন্য, সকালের ওই ঘটনার জন্য মধুজার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অতীন ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে পড়লেও মধুজার মৌনব্রত ধারণের জন্য কিছু বলতে পারছে না। ভেতর ভেতর একটা দহনজ্বালা ওকে জ্বালিয়ে মারছে, কিন্তু সেটার বহির্প্রকাশ ঘটাতে পারছে না সে। জ্বলুক! এটুকু শাস্তি ওর প্রাপ্য। ডাক্তারের বারণ, নিরন্তর অশান্তি, দীর্ঘদিনের উত্তপ্ত বাদানুবাদের পরেও অতীনের ধুমপানের অভ্যাস ছাড়াতে পারেনি মধুজা। প্রতিবার ধরা পড়ার পর মধুজার কাছে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার কথা দিলেও কিছুক্ষণ পরেই আড়ালে লুকিয়ে জ্বলন্ত সাদা কাঠির নেশায় মশগুল হয়েছে অতীন। বারংবার বাধা দিতে দিতে ক্লান্ত, বীতশ্রদ্ধ মধুজা বুঝেছে এভাবে অতীনের সিগারেটের নেশা ছাড়ানো অসম্ভব। মানুষটা যদি নিজের ভালোমন্দ নিজেই না বোঝে তাহলে তাকে জোর করাটা বৃথা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল মধুজা। আচমকা একটা ভারী কিছু পড়ার শব্দের সাথে সাথে কাঁচ ভাঙার একটা ঝনাৎ শব্দে ওর ঘোরটা কেটে গেল। শব্দটা বাথরুম থেকে এল না? কথাটা মাথায় আসতেই চকিতে খাট থেকে নামল মধুজা। দ্রতপায়ে এগিয়ে গেল বাথরুমের দিকে। বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটু ইতস্থত করার দরজায় টোকা মারল সে। ভেতর থেকে কোনো সাড়া এল না। মধুজা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ডাকল, “অতীন?” এবারেও কোনো উত্তর না আসায় একটু জোরে knock করল সে। তারপর উৎকণ্ঠা আর ভয় মেশানো কন্ঠে ডাকল, “অতীন? কী হয়েছে? দরজা খোল! অতীন! দরজা খোল অতীন!”

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এখানে মন্তব্য করুন