অনুসরণকারী
বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
অস্তরাগ ষোড়শতম পর্ব
শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
অস্তরাগ পঞ্চদশতম পর্ব
শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১
অস্তরাগ চতুর্দশতম পর্ব
ঊর্মির
দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিল সুজাতাও। বেশ কিছুক্ষণ ওর মুখ থেকে কথা সরছিল না।
কিছুক্ষণ পর সম্বিত ফিরে পেতেই ড্রইং রূমে উপস্থিত সকলকে চমকে ঠোঁটের মাঝে আঙুল
রেখে শিস দিয়ে উঠল সে। তারপর এগিয়ে গিয়ে ঊর্মিকে জড়িয়ে ধরে ওর গালে চকাম করে একটা
চুমু খেয়ে বলল, “ কী
সুন্দর লাগছে আমার ঊর্মিরানীকে! রজতদা তো দুরস্থ আমিই চোখ
ফেরাতে পারছি না। আমি ছেলে হলে আর বিবাহিত না হলে তোকে নিয়ে আজ রাতেই পালিয়ে যেতাম!”
বলে নিজের চোখের কোল থেকে অল্প কাজল নিয়ে ঊর্মির কানের পেছনে চুলের
গোড়ায় ছুঁইয়ে দিয়ে বলল, “আমার ঊর্মিরানীর উপর যাতে কারো নজর
না লাগে, তাই টিপ দিয়ে দিলাম।”
বিকেল বেলার পর থেকে ঊর্মি এমনিতেই সুজাতার আয়োজন দেখার পর লজ্জায় পড়ে গিয়েছিল। এবার সুজাতার প্রগলভ
ব্যবহারে আরো লজ্জা পেয়ে গেল। সুজাতা একহাতে
ঊর্মিকে জড়িয়ে রজতাভর সামনে এনে দাঁড় করিয়ে বলল, “এই নিন রজতদা! আপনার কাছে আমার প্রিয় সখীকে রেখে গেলাম। এবার আপনারা একটু
নিভৃতে বসে একটু প্রেম করুন ততক্ষণ আমি দেখে আসছি ওদিকে নটবরদার রান্না কতদুর এগোলো?” বলে ঊর্মিকে রজতাভর পাশে বসিয়ে সুজাতা ছুটে গেল রান্নাঘরের দিকে।
রজতাভর পাশে বসে আপন মনে হেসে উঠল ঊর্মি। তারপর চারদিকের সাজসজ্জার দিকে তাকিয়ে বলল, “সত্যি সুজাতাটা পারেও বটে! একবেলার মধ্যে না জানিয়ে কতকিছু
আযোজন করে বসল বলো তো? এইসব বাড়াবাড়ি এখন পোষায়? আমরা কী আর সেই নবদম্পতি আছি?”
-
করুক না! ক্ষতি কী? বান্ধবীর
বিবাহবার্ষিকী পালনে আমি তো কোনো অন্যায় দেখছি না।
-
তা দেখবে কেন? তুমিই তো আসল নাটের গুরু!
কী ভেবেছ আমি কিছু বুঝতে পারব না? আমাদের বিবাহবার্ষিকীর
কথা সুজাতার তো মনে থাকার কথা নয়। ওকে নির্ঘাত তুমিই বলেছ! সত্যি রজত! এখনও ছেলেমানুষি গেল না তোমার। সুজাতাটা তো পাগল, তুমিও ওর সাথে মিশে পাগলামি শুরু করে দিয়েছ!
–
কে বলছে দেখো? বিকেলবেলা আয়োজন দেখে তো গদগদ হয়ে
পড়েছিলে! এখন সেজেগুজে পটের বিবি হয়ে বসে আছো আর আমাকে পাগল বলছ?
বাইরে যতই বিরক্তি দেখাও না কেন ভেতর ভেতর তুমিও যে একইরকম খুশি এটা
তুমি মানতে বাধ্য! আর রইল ছেলেমানুষি। শুনে রাখো ঊর্মি, দেহের বয়স যতই বাড়ুক না কেন, মনের বয়স বাড়তে দিতে নেই!
মনের বয়স বাড়তে দিলে দেখবে পৃথিবীটাই পানসে হয়ে গেছে। কাজেই মেজাজটাকে
সবসময় শরিফ রাখার চেষ্টা করো। কারন মেজাজটাই
আসল রাজা!
রজতাভর কথা শুনে ঊর্মি প্রত্যুত্তরে কিছু বলতে যাবে এমন সময় বাংলোর সব আলো
ঝুপ করে নিভে যায়। রজতাভ মুখ
দিয়ে একটা আওয়াজ বের করে বলে “লোডশেডিং। চুপ করে বসে থাকো। অন্ধকারে উঠতে যেও
না। দাঁড়াও সুজাতাকে
ডাকি। ও আলো দিয়ে
যাক।” বলে উঠতে গিয়ে থমকে যায় রজতাভ কারন রান্নাঘর থেকে একটা সুদৃশ্য কেক হাতে নিয়ে
এগিয়ে আসছে সুজাতা। কেকের উপরে
জ্বালানো মোমবাতির আলোয় সুজাতাকে অদ্ভুত লাগছে। মোমবাতির আলোয় পায়ে পায়ে ড্রইংরুমে এসে টেবিলে
কেকটা রাখে সুজাতা। আর কেকটা
টেবিলে রাখামাত্র ঘরের আলো জ্বলে ওঠে। ওরা দেখে ড্রইংরুমে তথাগত ছাড়াও আরো অনেকে
এসে দাঁড়িয়েছে। ড্রাইভার
রবি, সকালে পার্কে দেখা বন দপ্তরের কর্মী, অফিসার ছাড়াও আরো অনেকে। আলো জ্বলে ওঠা মাত্র ওরা হই হই করে ওঠে, “সারপ্রাইজ!” রজতাভ এবার একটু অপ্রতিভ হয়ে পড়ে। তথাগত এগিয়ে এসে রজতাভকে জড়িয়ে ধরে বলে, “কী ভেবেছিলে ভায়া? এই তথাগত চৌধুরী থাকতে তোমার বিবাহবার্ষিকীটা
পানসে ভাবে কাটবে? কাভি নেহি! শুনে রাখো
মেজর! ঊর্মি যেমন সু-এর বন্ধু, তুমিও তেমনই আমার বন্ধু! শুধু বন্ধুই নয় একদিক থেকে আমার
ভাইও বটে! আর আমার ভাই হয়ে আমার এলাকায় আনন্দ করতে এসে হতোদ্যম
হয়ে ফিরে যাবে এটা আমি হতে দিতে পারি না! হ্যা একটা দুর্ঘটনা
ঘটে গেছে ঠিকই, তাতে আমাদের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হয়েছে সেটাও ঠিক,
কিন্তু পণ্ড হয়ে যায়নি! জাস্ট অনুষ্ঠানে কিছু বিলম্ব
ঘটেছে মাত্র। কাজেই আজকের
অনুষ্ঠানটা হবেই! বাকিটা পরে বলব আপাতত দুজনে মিলে কেকটা কাটো
দেখি।” বলে একটা ছুড়ি এগিয়ে দেয় রজতাভর দিকে। রজতাভ কিছুক্ষণ ইতস্তত করার পর হেসে ছুড়িটা
হাতে নেয়। তারপর ঊর্মির
সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কেকটা কাটে। ড্রইংরুমে
উপস্থিত সকলে একসাথে উইশ করে, “হ্যাপি অ্যানিভার্সারি টু
ইউ!”
কেক কাটার পর তথাগত সকলের সাথে রজতাভদের পরিচয় করিয়ে দেয়। ফরেস্ট কনজারভেটর
সাহেবের সাথে পরিচয় করা মাত্র তিনি আগে ক্ষমা চাইলেন সকালের ঘটনার জন্য।
- উই আর এক্সট্রিমলি সরি ফর দ্য ইনকনভিনিয়েন্স
মেজর মজুমদার। আসলে আজ
শুধু আপনারাই নন আরো অনেক দূর থেকে আসা ট্যুরিস্টরাই ফিরে গেছে পার্ক থেকে। বুঝতেই পারছেন এরকম
একটা ঘটনা, তার উপর গণ্ডারের ডেডবডি দেখতে ভীড় বাড়লে ইনভেস্টিগেট
করতে অসুবিধে হত তাই পার্কটাকে আজকের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। অবশ্য পাব্লিকের
আর দোষ কোথায়? ডেভিড ছিলই যাকে বলে স্টার অফ দ্য নর্থান পার্ট
অফ কাজিরাঙ্গা। এত ফ্রেন্ডলি, এত ডিসেন্ট ছিল যে মানুষের কাছে চলে আসতো আদর পেতে। সেই আদরটাই ওর কাল
হয়ে দাঁড়াল। দোজ বাস্টার্ডস…
-
ক্ষমা করবেন, ডেভিড মানে…
-
সকালে যার মৃতদেহ দেখলে সেই ডেভিড। এখানে প্রত্যেকটা
গণ্ডারের একটা করে কোডনেম আছে। ডেভিড শুধু
আমাদের পার্কের প্রিয় গণ্ডারই ছিল না। আমাদের সকলের প্রিয় গণ্ডারও ছিল। এখানে উপস্থিত পুরোনো
যারা আছেন তাদের কাছে ডেভিড সন্তানতুল্য ছিল। গোটা বন দফতর ক্ষেপে আছে। যারা ডেভিডের পরিণামের
জন্য দায়ী তাদের সকলকে খুঁজে বের করব আমরা।
বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে তথাগত।
ঘরের পরিবেশ ভারী হচ্ছে দেখে মৃদু হেসে কনজারভেটর সাহেব প্রসঙ্গ বদলে বলেন, “যাক গে বাদ দিন ও কথা! আমাদের প্রফেশনাল হ্যাজার্ড,
বোঝেনই তো! তা এদিকে প্রথম না আগেও এসেছেন?”
রজতাভরা এই প্রথম এসেছে শোনার পর কনজারভেটর সাহেব বলেন, “বেশ তা কদিন যখন আছেন এখানকার স্পেশালিটিগুলো চেক করতে ভুলবেন না। চৌধুরী ওনাদের চেরাও
নাচ দেখাওনি?”
তথাগত মাথা নেড়ে বলে, “না স্যার। ইচ্ছে ছিল সকালে
পার্কে প্রোগ্রামটা সেড়ে বিকেলে নিয়ে যাবো। তা আর হল কই? দেখি কাল একবার ট্রাই করব।” রজতাভ হা করে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে তথাগত হেসে বলে,
“আমাদের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের আরেকটা আকর্ষণ। প্রতি সন্ধ্যেবেলা
অর্কিড এন্ড বায়োডাইভার্সিটি পার্কে নাচের আসর বসে। বাকিটা বলে স্পয়েলার দেব না। কাল গেলে দেখতে পারবে।” রজতাভ হেসে বলে, “বেশ তাহলে কাল বিকেলের অপেক্ষায় রইলাম।”
রাতে
অতিথিরা একে একে বিদায় নেওয়ার পর নটবর আর রবিকে খাইয়ে, ওদের বাড়ির লোকের জন্য খাবার গুছিয়ে পাঠিয়ে দিয়ে,
ঘরের বাকি কাজ সেরে সুজাতা যখন নিজের ঘরে ঢুকল তখন রাত প্রায় সাড়ে
বারোটা। ঘরে ঢুকে সুজাতা দেখল অন্যদিন বেশ রাত করে জেগে থাকলেও আজ তথাগত বেশ আগেই শুয়ে
পড়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। সারাদিন ভীষণ খাটনি গেছে বেচারার। তার উপর সন্ধ্যের
অনুষ্ঠানে না জানি কতটা ড্রিঙ্ক করেছে। ক্লান্ত, নেশাচ্ছন্ন
ছিল বলেই হয়তো বেশিক্ষন জেগে থাকতে পারেনি। সুজাতা তথাগতকে জাগালো না। চুপচাপ
ঘরের দরজা লাগিয়ে, বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, সন্ধ্যের পোশাক ছেড়ে একটা নাইটি পরে নিয়ে বিছানায় বসল।
সারাদুপুর
ঘুমোয়নি বলে মাথাটা টনটন করছে। বিছানার পাশের ড্রয়ার থেকে মাথাব্যথার ওষুধ বের
করে একটা ট্যাবলেট জিভের তলায় রেখে অল্প জল খেয়ে তথাগতর দিকে পিঠ করে শুয়ে পড়ল
সুজাতা। কিছুক্ষণ পর তথাগতর একটা হাত এসে পড়ল সুজাতার গায়ের উপর। সুজাতা বুঝলো
তথাগত ঘুমোয়নি, ভান করে
শুয়েছিল। সুজাতা পাত্তা দিল না। অন্যদিন হলে আলাদা কথা ছিল, কিন্তু আজ সে ভীষণ ক্লান্ত। এখন তার শারীরিক সুখের চেয়েও বেশি প্রয়োজন
ঘুমের। সে মুখ দিয়ে নেতিবাচক শব্দ করে, তথাগতর হাত নিজের শরীরের উপর থেকে
সরিয়ে বোঝাতে চাইল আজ তার আর ইচ্ছে নেই মিলিত হবার। কিন্তু তথাগত সে
নিষেধ মানলে তো?
সুজাতার
বারন করা সত্ত্বেও তথাগতর হাতটা ক্রমশ সচল হয়ে সুজাতার সর্বাঙ্গে বেড়াতে লাগল। প্রথমে সুজাতার ঘাড়ে,
গলায়, কানের লতির পেছনে আলতো করে বিলি কাটতে
লাগল তথাগতর আঙুল। তাতেও যখন কোনো লাভ হল না, তখন সেই হাত সুজাতাকে কামোত্তেজ্জিত করার জন্য
প্রবেশ করল সুজাতার নাইটির গলার ভেতর দিয়ে। সুজাতা বুকে সেই কঠোর হাতের নিষ্পেষণ, স্তনবৃন্তে চিমটি কাটা কিছুই বাদ
গেল না। কিন্তু এর পরেও সুজাতার সাড়া না পেয়ে সেই হাত
ক্রমশ নামতে সুজাতার নিতম্বে আসতেই সুজাতা আর থাকতে পারল না।
- কি হচ্ছেটা কী? বললাম না আজকে মুড নেই!
সুজাতার ধমকে তথাগত
কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল। তারপর আবার সুজাতাকে উত্যক্ত করতে শুরু করল। সুজাতা আবার
মুখ দিয়ে বিরক্তিসূচক শব্দ করতেই তথাগত উঠে পড়ল। তারপর সুজাতাকে গায়ের জোরে
সুজাতাকে ঘুরিয়ে বিছানার মাঝখানে নিয়ে এনে সুজাতার দুটো হাত চেপে সুজাতার কানে
কানে ফিসফিস করে বলল, “ একদম চুপ! মুড নেই মানে কী? কীসের এত ঘ্যাম তোমার?”
– আজ থাক তথা। আজকে
শরীরটা ভালো নেই। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।
- আর আমার কী হবে? আমিও
তো সারাদিন পরিশ্রম করেছি! জানো না সারাদিনের পরিশ্রমের পর কী চাই আমার? এতক্ষন
ধরে তোমাকে জাগিয়ে যাচ্ছি কেন বুঝতে পারছ না? আমার তোমাকে চাই।
- আজকে না তথা। আজ আমি
ক্লান্ত।
- বেশ তো! তাহলে তোমাকে
পরিশ্রম করতে হবে না। তুমি চুপ করে শুয়ে থাকো। আমিই আদর করছি তোমাকে।
- তথা প্লিজ!
– একদম চুপ! চুপ করে শুয়ে
থাকো!
বলে সুজাতার ঠোঁটে নিজের
ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় তথাগত। প্রাণপণে শুষে নিতে থাকে সুজাতা নরম ঠোঁটের আদ্রতাকে। মদের
গন্ধে গা গুলিয়ে এলেও সুজাতা নিরুপায়। তার হাতদুটো তথাগতর একটা হাতে আবদ্ধ। অপর
হাত সুজাতার ঊরুসন্ধিতে নিবদ্ধ। সুজাতা যে চিৎকার করে নিষেধ করবে তারও উপায় রাখেনি
তথাগত। পাগলের মতো সে চুমু খেয়ে চলেছে সুজাতাকে। সুজাতা বোঝে আত্মসমর্পণ ছাড়া আর
কোনো উপায় নেই তার কাছে। এই মুহূর্তে তথাগত একজন কামুক পুরুষ ছাড়া আর কেউ নয়। বার
বার নিষেধ করেও তথাগত শুনবে না। বরং বাধা পেলে সে জোর করবে তাকে। তার চেয়ে তথাগতর
কামতৃষ্ণা যত তাড়াতাড়ি মেটে সে চেষ্টা করাই ভালো। যত তাড়াতাড়ি তথাগতর কামতৃষ্ণা
মিটবে, তত তাড়াতাড়ি নিস্তার পাবে সে। অবশেষে হাল ছেড়ে সে সাড়া দেয় তথাগতর আদরে।
তথাগত সাড়া পেয়ে খুশি হয়ে সুজাতার হাত ছেড়ে নিজের মাথা নামায় ঊরুসন্ধির দিকে।
পরদিন বিকেলে অর্কিড এন্ড
বায়োডাইভার্সিটি পার্কে পৌঁছনো মাত্র ওরা দেখে পার্কে হাল্কা লোক জড়ো হতে শুরু
করেছে। তথাগত আগে থেকে বলে রেখেছিল বলে ওরা একেবারে মঞ্চের সামনে গিয়ে বসে। কিছুক্ষণ
পর মঞ্চে একে একে কুশীলবরা উঠে দাঁড়ায়। ঝলমলে পোশাক, আর পালকে ওদের অনবদ্য দেখতে
লাগছে। ধীরে ধীরে সুর্যাস্তের আলো দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ামাত্র মঞ্চের আলো জ্বলে উঠল।
আর তার সাথেই বেজে উঠল বাজনা। মঞ্চের কুশীলবদের সাথে চারজন মাদল গোছের একটা বাজনা
নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা প্রথমে ঢিমে তালে তারপর দ্রুতগতিতে বাজনা বাজাতে লাগল।
বাজনার
তালে তালে নেচে উঠলো উপজাতির
পোশাকে একঝাক সজ্জিত তরুণ তরুণী। গোটা মঞ্চ
জুড়ে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল তারা। ক্রমশ নাচের তালের হিল্লোল ছুঁয়ে গেল উপস্থিত
সকলকে। চেয়ারে বসে বাজনার তালে তালে মাটিতে পা ঠুকতে লাগল রজতাভ। মাথা দোলাতে লাগল
ঊর্মিও। আশেপাশে সকলেই তখন কম বেশি বাজনার তালে সম্মোহিত। কিছুক্ষণ পর
অনুষ্ঠান শেষ হতেই গোটা পার্কে করতালির বন্যা বয়ে গেল।
*****
দুপুরবেলা খাবার পালা শেষ
করে ঐশী ঘরে ঢুকতেই দেখল অভীক জানলার দিকে মুখ করে
বিছানায় বসে মগ্ন হয়ে কি যেন একটা পড়ছে। এবং সেটা পড়তে পড়তে এতটাই বুঁদ হয়ে আছে যে
ঐশী ঘরে ঢুকলেও টের পায়নি সে। ঐশী পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল অভীকের দিকে তারপর একঝটকায় ওর
সামনে থেকে জিনিসটা কেড়ে নেওয়ামাত্র চমকে উঠল। অভীক ততক্ষণে লালচে চোখে ঐশীর দিকে
তাকিয়েছে। ঐশী জিনিসটা হাতে নিয়ে অভীকের দিকে তাকাল। তারপর অস্ফুটে জিজ্ঞেস করল, “কোথায়
পেলি এটা?”
(চলবে...)
শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১
অস্তরাগ ত্রয়োদশতম পর্ব
শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১
অস্তরাগ দ্বাদশতম পর্ব

সাদা অর্কিডের দেশে অন্তিম পর্ব
হোটেলে ফেরার পর লাগেজ গুছিয়ে নিতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না মধুজার। শুধুমাত্র কালকের বাড়ি ফেরার সময়ের পোশাকগুলো বাইরে রেখে চটপট অতীন আর ওর জামাকা...
-
রেস্তরাঁর ছাদ থেকে অস্তপ্রায় সুর্যর দিকে তাকিয়ে মুখে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেন রজতাভ। “কিরে? আর কতক্ষণ?” বলে ঐশ্বর্...
-
“Ladies and gentlemen, may I have your attention please? Thank you! আজ আমরা সকলে এখানে উপস্থিত হয়েছি আমার প্রিয় বন্ধু প্রখ্যাত চিত্রশিল্প...
-
স্টুডিও থেকে গাড়িটা বেরোনো মাত্র ব্যাকসিটে হ্যালান দিয়ে বসল মঞ্জুষা। সারাদিন আজ বড্ড ধকল গেছে। এই সোমবার ওদের সেটে একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে না...