সেই মতো বিধান মার্কেটের দিকে রওনা হলেন সকলে। সেখানে একটা রেস্তরাঁয় চারপ্লেট বিরিয়ানী আর চিকেন চাপের অর্ডার দিয়ে গুছিয়ে বসলেন সকলে। ঐশীর পাশে বসে সুজাতা বলে উঠলেন,
- তাহলে আপনার মেয়েকে কিন্তু আমি নিজের করে নিলাম রজতাভ। আপনি কিন্তু আর ওকে শাসন বা বকাঝকা করতে পারবেন না।
- একই কথা অভীকের ক্ষেত্রেও খাটে সুজাতা। তবে চিন্তা করবেন না ওকে আমরা ঠিক গড়ে পিঠে ঘোড়া বানিয়ে দেব!
বলে অভীকের কাঁধে একটা চাপড় মারলেন রজতাভ। সুজাতা হেসে বললেন, “সেই! ছেলেটা আমার বরাবর দুগ্ধপোষ্য শিশু কিনা!"
অপ্রস্তুত হয়ে অভীক বলে ওঠে, “ মা প্লিজ! শ্বশুরমশাইয়ের সামনে অন্তত...”
- তুই থামতো! যা সত্যি তাই বলছি! এতবছর হয়ে গেল তাও কোনো অকেশনের কাপড় সাজিয়ে দিতে লাগে, দরকারি কাগজপত্র হাতের সামনে এগিয়ে দিতে হয়। যতই তোর বিয়ে হোক, চাকরি কর! তুই বাচ্চাই। জানেন রজতাভ? হায়ার স্টাডিজ-এর জন্য শিলিগুড়ি আসার আগের দিন কি কান্নাই না কেঁদেছিল আপনার জামাই! যেন ছেলে নয় মেয়ে বিয়ে দিয়ে কন্যাবিদায় হচ্ছে। একমাস পর পুজোর ছুুটিতে এসে বলে আর যাবেনা! ভাবুন তো কি জ্বালা! আরে ছেলেমানুষের এটাই তো বয়স মায়ের আঁচল ছেড়ে বাইরের জগতটাকে দেখা, নিজের মতো করে বাঁচতে শেখার। তা না ছেলে আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে! প্রায় মেরে ধরে পাঠিয়েছিলাম। আর এখন? এই শহর ছেড়ে যেতেই চায় না।
- মা! প্লিজ! পাশে ঐশী বসে আছে! এরপর সারাটা দিন আমাকে ছিচকাঁদুনে বলে ভ্যাংচাবে।
- বেশ করবে! তোর মতো ধেড়ে শিশুকে এই ভাবেই মানুষ করতে হবে। কি রে ঐশী মা পারবি না?
ঐশী চুপচাপ চোখ বুঁজে বসেছিল। সুজাতার ডাকে চোখ খুলে মুচকি হেসে বলল, “পারবো!"
খাবার পালা শেষ করে সুজাতাকে নিয়ে ওরা পৌঁছলেন বাসস্ট্যান্ডে। রজতাভ আর অভীক বাসের টিকিট কাটতে এগিয়ে যেতেই ঐশীর হাতদুটো জড়িয়ে ধরে সুজাতা বললেন,“ এই যে মেয়ে! অনেক তো ছোটালে এই বুড়িটাকে এবার কিন্তু তোমাদের ছুটতে হবে। কাল তোমাদের অপেক্ষায় থাকব বলে রাখলাম। আর এবার থেকে আর আন্টি নয়, মা বলে ডাকবে।”
- বেশ তাই হবে। আজ রাতটা কাটিয়ে কালকেই তোমার কাছে চলে আসব আমি। তবে একটা শর্ত আছে।
- কি শর্ত?
- তোমার হাতের স্পেশাল আলুর ভর্তার দম আর গরম গরম ছাতুর পুর দেওয়া পরোটা চাই কিন্তু। ঐ যে ছাতুর সাথে মিহি করে চিনি মিশিয়ে নাড়ুর মতো রান্না করে সেটার পুর পরোটার লেচিতে দিয়ে ভেজে উপরে অল্প বাটার মাখিয়ে দিতে যেভাবে সেরকমই চাই!
চমকে ওঠেন সুজাতা! এই পদ তো তিনি বিয়ের পর তথাগতর জন্য তৈরী করতেন। তথাগত চলে যাবার পর বহুকাল এই পদ রান্না করেন নি!অভীকেরও জানার কথা নয়! এই মেয়ে জানল কি করে?
সুজাতা কিছু বলার আগেই রজতাভরা ফিরে আসায় চুপ করে যান। কিছুক্ষণ পর বাস আসতেই উঠে পড়েন সেটায়। জানলা দিয়ে দেখেন ঐশী তার দিকেই তাকিয়ে হাসছে। হাসিটা প্রতিদিনের মতো প্রাণখোলা নয়। বরং ব্যথাতুর, কষ্টে ভরা অথচ রহস্যময় এক হাসি।
সুজাতার বাস চলে যাবার পর ওরা বেরিয়ে পড়ল। রজতাভ বললেন, “এখন সবে সাড়ে তিনটে বাজে। এখন তোদের বাড়ি ফিরে কোনো কাজ নেই। শুনলাম আইনক্সে নাকি নতুন একটা রোম্যান্টিক অ্যাকশন মুভি এসেছে। ফেসবুকে ভালো রিভিউ দেখেছি সিনেমাটার। তোরা এক কাজ কর। দুজনে মিলে সিনেমাটা দেখে আয়। আর আমি ততক্ষণ রাতের খাবারের বাজারটা করে ফেলছি। সিনেমা দেখা শেষ হলে সোজা বাড়িতে চলে আসবে দুজনে। আমি আর যাবো না। বাজার সেরে সোজা ফিরে যাবো নিজের ঘরে। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড় তোরা। এখন বেরোলে চারটের শো-টা ধরতে পারবি। যা পালা!”
- কিন্তু বাপি...
- কোনো কিন্তু নয়! দুজন সদ্য বিবাহিত দম্পতির সেলিব্রেশনে কাবাব মে হাড্ডি হবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই। তোরা যা! এঞ্জয় ইয়োরসেল্ফ!
হেসে দুজনের কাঁধে হাত রাখে রজতাভ। লজ্জায় লাল হয়ে ঐশী বলে ওঠে।
- বাপি প্লিজ! রাস্তায় সবার সামনে...এভাবে!
- থাক! আর লজ্জা পেতে হবে না। তার চেয়ে বরং বেরিয়ে পড়। সাবধানে যাস। আমি এলাম।
বলে দুজনকে বাসস্ট্যান্ডে রেখে বাজারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন রজতাভ। ছেলেমেয়ে দুটোর একান্ত মুহূর্তে আর কোনো বিঘ্ন ঘটুক তা তিনি চান না। ওরা দুজনে চুপ করে রজতাভর চলে যাওয়া দেখে। তারপর বেরিয়ে পড়ে কিছু একান্ত মুহূর্ত কাটানোর উদ্দেশ্যে।
*****
রাতে খাবার পালা শেষ করে শোয়ার জন্য অভীক ঐশীর ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেল ঐশী বিছানায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। অভীক মৃদু হেসে ঘরের দরজা লাগিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ঐশীকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে নাক ডোবাল। একটা বেশ মৃদু অথচ ভীষণ মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে ঐশীর শরীর থেকে। সেই গন্ধে ডুব দিতে দিতে ঘাড়ে আলতো করে একটা চুমু খেল অভীক। ঐশী বাধা দিল না। অভীক গলা বাড়িয়ে দেখল আজকের তোলা ছবি গুলো ঐশী ফেসবুকে পোষ্ট করেছে। টুকটাক রিঅ্যাকশন পড়ছে ছবিগুলোতে। ক্যাপশনে লেখা ‘পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি। ঐশীর কাঁধে মাথা রেখে অভীক বলল,“ তাহলে শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়েই গেল বল?” ঐশী আলতো স্বরে বলল, “হুম!”
- আমার তো এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না! মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন দেখছি। এতদিনের এত ঝগড়া, এত অপেক্ষা, এত মান-অভিমানে ভরা আমাদের সম্পর্ক অবশেষে পুর্ণতা পেল!
- হুম!
- ঐশী?
- হুম?
- তুই খুশি তো এই বিয়েটা নিয়ে? না মানে আমরা তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে কোনো ভুল করলাম না তো?
- উহু!
- তাহলে কথা বলছিস না কেন? থিয়েটারেরও তুই আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছিলি। তুই যাই বলিস না কেন আমি ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম। কি হয়েছে বলবি?
- কিছু না। আমি ভীষণ টায়ার্ড অভীক! কাল সারারাত একেই প্রায় জেগে কাটিয়েছি। তার উপর আজ সারাদিন ধকল গেছে। আমার ঘুম পাচ্ছে। তোর পাচ্ছে না?
- আজকের রাতেও তোর ঘুম পাচ্ছে?
- হুম! কেন আজ কি আছে?
- কিছু না! তুই শুয়ে পড়।
বলে ঐশীকে ছেড়ে উঠতে যায় অভীক। ঐশী অভীকের হাত চেপে ধরে। তারপর ফিক করে হেসে বলে, “ ব্যাস? হয়ে গেল? এই তোর পুরুষত্বের জোর? কোথায় আমাকে প্রোভোক করবি, আমাকে বাধ্য করবি তা না হাল ছেড়ে দিচ্ছিস?”অভীক হেসে বলে,
- হাল ছাড়িনি। শুধু তোর ইচ্ছেটাকে সম্মান দিচ্ছি। শোন ফিজিকাল রিলেশনশিপে দুজনের সম্মতি, ইচ্ছে-অনিচ্ছেটা ম্যাটার করে। বিয়ের প্রথম রাতে জোর করে বেড়াল মারাটা আমি সমর্থন করি না। ইভেন বিয়ের প্রথমরাতেই সেক্স করতেই হবে এই কনসেপ্টটাই জঘন্য লাগে আমার। গোটা জীবন পড়ে থাকে ভালোবাসার জন্য, আদরের জন্য কিন্তু না ঐ দিনই নিজের পৌরুষ প্রমাণ করতে হবে কেন? ফুলশয্যা, মধুনিশিযাপন এর মানে যদি সেক্স হয় তাহলে আমি বলব আমি ক্যাবলাই ঠিক আছি। আমার মতে বিয়ের প্রথম রাতে দুজন প্রেমের মানুষের মধ্যে ভালোবাসার, আদরের একান্ত গোপনীয় আর মধুর মুহূর্তটাকেই মধুনিশিযাপন বলা উচিত। এদিন সেক্স বাদেও অনেক কিছু করা যায়। যেমন রাতের নিস্তব্ধতায় এক অপরের হৃদস্পন্দন শুনে প্রেমের মানুষ হওয়া যায়। গল্প করা যায়। রইল ফিজিকাল রিলেশনশিপ, ওটা কোনো পটি বা খিদে নয় যে চট করে পাবে। ওটারও নির্দিষ্ট সময় আছে।
- একে অপরের সাথে মিলিত হবারও সময় লাগে? সেক্সুয়াল আর্জ, শরীরের খিদে ম্যাটার করে না?
- না করে না। তোর কাছে ফিজিকাল রিলেশনশিপ মানে সেক্স হতেই পারে। তবে আমার কাছে ওটার মানে হল লাভমেকিং। যেখানে নিজের তৃপ্তির বা পার্টনারকে পরিতৃপ্ত করার তারা থাকবে না। দুজন মানুষ ইমোশনালই, প্যাশনেটলি পরস্পরকে ভালোবাসবে, আদরে আদরে ভরে তুলবে,পরস্পরকে নতুন ভাবে আবিস্কার করবে। পরিতৃপ্তির চরমে পৌঁছেও ভালোবাসায় পুর্ণ করে তুলবে পরস্পরকে। এতদিন লোকলজ্জা, পরিবারের জন্য আলাদা থাকায় যা আদর বাকি ছিল তা মনে প্রাণে উসুল করে নেবে, একে অপরকে চিনেও যতটুকু অজানা ছিল তা জেনে নেবে। যা আদর, যা খুনসুটি এতদিন করতে পারেনি, বিরহে জ্বলেছে তা মিটিয়ে নেবে সুদে আসলে। ভালোবাসার লেনদেন হবে একে অপরের সম্মতিতে। এটাকে লাভমেকিং বলে। এসব না থাকলে ওটা পাতি সেক্স হয়ে যায়।
ঐশী হা করে তাকায় অভীকের দিকে। অভীক ঐশীর গালে আলতো করে আঙুল বুলিয়ে বলে, “আমি চাই না আমাদের মধ্যে ফিজিকাল রিলেশনশিপে মানে পাতি সেক্স হোক। তোকে যখন পেতে চাই পুরোটা পেতে চাই। শরীর দিয়েই নয় মন দিয়েও। তার জন্য যদি অপেক্ষা করতে হয় করবো। কিন্তু একটা কথা জেনে রাখ যেদিন এই লাভমেকিংয়ের ইচ্ছেটা তোর মনেও জাগবে সেদিন আমাকে তোর কাছে আসতে হবে না। তুই সেদিন আসবি আমার কাছে। সেদিন কিন্তু আমি একমুহূর্তও অপেক্ষা করবো না, কোনো বাধা মানবো না। সেদিন হবে আমাদের প্রকৃত ফুলশয্যা।”
বলে ঐশীর কপালে একটা চুমু খেয়ে শুয়ে পড়ে অভীক। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে ঐশী অভীকের দিকে তাকায়। তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে, আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ পর চোখ খোলে অভীক। পাশ ফিরে নাইটল্যাম্পের আলোয় দেখে ঐশী ঘুমোচ্ছে। সিলিং ফ্যানের আলতো হাওয়ায় গালের পাশের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে সামনের দিকে চলে এসেছে। অভীক কিছুক্ষণ ঐশীর দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর উঠে টেবিল থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে।
হলঘরের আলো নেভানো। কোনোমতে পায়ে পায়ে বারান্দায় এসে বসে সিগারেটের প্যাকেট একটা সিগারেট বের করে ধরায়। তারপর একটা লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ে। কিছুক্ষণ পর সিগারেটে শেষটান দিয়ে সিগারেটটা বারান্দা দিয়ে বাইরে ফেলে ঐশীর ঘরে ঢুকে ঐশীর ব্যাগ থেকে বের করে আনে ডাইরিটা। বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে যখন ঐশী ওর জামাকাপড় গুছোচ্ছিল তখনই ডাইরিটা আলমারি থেকে পড়ে যায়। অভীক তুলতে যাবার আগেই ঐশী ছোঁ মেরে ডাইরিটা নিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়। আচমকা ঐশীর এই আচরণে অবাক হয়ে অভীক ওর দিকে তাকালে ঐশী পরিস্থিতি সামাল দিতে অভীককে তাড়া দেয় ওর লাগেজ গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। অভীক বেশী কথা বাড়ায় নি। সরাসরি বলেছিল ওর লাগেজ গুছোনোই আছে। মেস থেকে বেরোবার আগে মা গুছিয়ে দিয়ে মেসের ম্যানেজারের কাছে জমা রেখে এসেছে। কাল সকালে বেরিয়ে ওখান থেকে লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে পড়বে ওরা।
ডাইরিটা হাতে নিয়ে স্টাডিরুমে চলে আসে অভীক। তারপর স্টাডিরুমের দরজা আটকে আলো জ্বালিয়ে ডাইরিটা পড়তে বসে।
বহুদিন ধরে অযত্নে থাকার জন্য পাতাগুলো হলদে হয়ে এসেছে ঠিকই। তাও লেখাগুলো পড়া যায়। স্টাডিরুমের চৌকিতে বসে ডাইরিটা পড়তে শুরু করে অভীক।
******
প্রচণ্ড গরমে ঘুম ভেঙে গেল সুজাতার। চোখ মেলে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বুঝল কারেন্ট নেই কারন সারারাত প্রচণ্ড জোরে চলা সিলিংফ্যানটা এখন স্তব্ধ হয়ে নিশ্চল অবস্থায় ছাদের সাথে ঝুলে আছে। সুজাতা ঘুম ঘুম চোখে ডানপাশে তাকাতেই দেখতে পেল তথাগতকে। ওর দিকে পিঠ করে আদুর গায়ে শুয়ে আছে তথাগত। গরমের ফলে পেশীবহুল পিঠে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছে। সেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে বেডশিট, গায়ে দেওয়ার চাদর। ওর অবস্থাও তথৈবচ। পরনে একটা সুতো পর্যন্ত নেই। সমগ্র শরীর ঘামে সিক্ত। সেই ঘামে গায়ে চাপা দেওয়ার চাদর, এমনকি বেডশিট পর্যন্ত ভিজে চপচপে হয়ে আছে। চেষ্টা করেও বিছানায় উঠে বসতে না পেরে কিছুক্ষণ চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে রইল সুজাতা। মাথাটা ভীষণ বাজে রকম ভাবে ধরে আছে ওর। কাল রাতে বেশী ওয়াইন খাওয়াটা ঠিক হয় নি। ঊর্মি মানা করেছিল বটে কিন্তু ওরা শুনলে তো! কিছুক্ষণ চোখ বুঁজে শুয়ে থাকার পর কারেন্ট এলে ধীরে ধীরে উঠে বসার সময় তলপেটে একটা হাল্কা যন্ত্রণা টের পেলেও সেটাকে পাত্তা না দিয়ে বিছানা ছেড়ে কোনোমতে বাথরুমে ঢোকে সুজাতা। দীর্ঘ দুবছর তথাগতর সাথে সংসার করায় এই যন্ত্রণা ওর গা সওয়া হয়ে গেছে। মিলিত হবার সময় তথাগত আর তথাগত থাকে না। চুড়ান্ত প্যাশনেট অথচ ভীষণ জান্তব পশুতে পরিণত হয়। তখন ওর কাছে আদর করাটা নয় সুজাতাকে জয় করাটা মুল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম প্রথম তথাগতর এই বন্য আদর ভালো লাগত সুজাতার। মিলনের সময় ও তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতো তথাগতর এই প্রবল পৌরুষোচিত ডমিনেটিং যৌনতা। বিনিময় ভরে দিত তথাগতকে প্রবল আদর আর সুখের আতিশয্যে। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যাপারটা ক্রমশ একঘেয়ে হতে লাগল। রোজ রাতে শরীরের খিদে তথাগতর এই বন্য আদর ক্রমশ যৌন অত্যাচার মনে হতে লাগল সুজাতার। প্রবল গতিতে প্রবেশ করে যোনী প্রায় ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া, চুমু খেতে খেতে ঠোঁট কামড়ে রক্ত বের করে দেওয়া, সমগ্র শরীরে বিশেষ করে বুকে লাভবাইটের জায়গায় দাঁতের দাগ বসিয়ে দেওয়া, এভাবে বন্য আদরে ক্রমশ ক্ষতবিক্ষত হতে লাগল সুজাতা। মিলনের সময় তথাগত যেন রক্তপাতে আনন্দ পায়। মিলনে জান্তব সুখটাই যেন ওর কাছে প্রধান। যেন সুজাতাকে জয় করে দাবিয়ে রেখে ওর গর্ভে নিজের বীজ বপন করাটাই ওর লক্ষ্য। সেখানে সুজাতার আদরের, ভালোবাসার কোনো জায়গা নেই। কেবল মুখ বুঁজে তথাগতর এই বন্য আদর উপভোগ করা ছাড়া আর কোনো ভুমিকাই নেই।
অথচ পরদিন সকালে তথাগতর ব্যবহার সবচেয়ে বেশী অবাক করতো ওকে। ভীষণ অমায়িকভাবে হাত ধরে আগের দিনের পাশবিকতার জন্য যখন ক্ষমা চাইত তখন সুজাতার মনে হতো যেন সে অন্য মানুষের সাথে কথা বলছে। কালরাতের মানুষটার সাথে সকালে মানুষটার যেন আকাশপাতাল তফাৎ। আগের রাতের সেই মানুষটার সাথে এই মানুষটার কোনো মিলই নেই!
প্রথম প্রথম ভাবতো এসব হয়তো ওর মনের ভুল কিন্তু যতদিন যেতে লাগল ততই এই ভুল ক্রমশ ভাঙতে লাগল তার। তারপর একদিন মিলনের সময় হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে যখন তথাগত ওর গলাটা টিপে ধরল তখন ওর ভুল পুরোপুরি ভেঙে গেল। সে রাতের কথা ওর আজও মনে আছে। প্রতিরোধ করতে করতে একসময় ভোরের দিকে ক্রমশ অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল ও। তথাগত সেটা খেয়াল না করেই প্রায় সারারাত ধরে উন্মত্ত পশুর মতো অবিরাম রমণ করে যাচ্ছিল। শেষে খেয়াল হওয়ায় সুজাতাকে ছেড়ে দিয়ে ওর জ্ঞান ফেরাতে উদ্যত হয়।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে জড়িয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে সুজাতা। কালরাতের তথাগতর আদরের মাত্রাটা বেশীই হয়ে গেছে। বুকে, পেটে, হাতে অজস্র কামড়ের দাগ সেটারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। কেউ টের পাবার আগে সেগুলোকে মেকাপ দিয়ে লুকিয়ে নিতে হবে। বুক-পেটের ক্ষত না হয় পোশাক দিয়ে ঢেকে নেবে। হাতের ক্ষতটা ঢাকতে মেকাপ লাগবেই। ভাবতে ভাবতে মেকাপের সেটটা ব্যাগ থেকে বের করে সুজাতা। তারপর আলতো করে রং বুলোতে থাকে আগের রাতে হওয়া ক্ষতগুলোর উপরে।
(চলবে...)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এখানে মন্তব্য করুন