২০শে আগষ্ট ২০১৯,
রাত দশটা, বাণপুর, বর্ধমান
হোটেলে ফিরে ঠান্ডা জলে স্নান করতেই সারাদিনের জ্বালাপোড়াটা একটু কম মনে হলো। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ফ্যানটা চালিয়ে দিয়ে খালি গায়েই বিছানায় শুয়ে পড়লাম। গত পাঁচদিন ধরে যা ধকল যাচ্ছে তা বলার মতো নয়। তার উপর
এই গরমে পরচুলো, নকল দাঁড়ি পরে ছদ্মবেশে থাকতে হচ্ছে সারাদিন।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে প্রথমে ব্যোমকেশ কে ফোন করলাম। সব শুনে ব্যোমকেশ সেটাই
বললো যেটা বিগত চারদিন ধরে বলে আসছে, “একটু চোখ কান খোলা রেখো আর ভৈরবের প্রতিটা
কার্যকলাপ লক্ষ্য করো।”
ফোনটা রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম। আজ আশ্রমেই রাতের খাবার সেরে নিয়ে হোটেলে
ঢুকেছি। কাজেই আর কোনো চাপ নেই।হাত বাড়িয়ে বেডসুইচ টিপে ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিয়ে চোখ
বুঁজে বিগত চারদিনের কথা মনে করতে লাগলাম। এখানে এসেছি ষোলো তারিখ সন্ধ্যেবেলায়।
কথা ছিলো ভৈরবকে আমি হাসপাতাল থেকে ফলো করবো। সেই মতো ছদ্মবেশ নিয়ে দশটার
দিকে হাসপাতালে গিয়ে শুনি ভৈরব সকাল নটার দিকে বেরিয়ে গেছে। অগত্যা হাসপাতাল থেকে
বেরিয়ে ব্যোমকেশকে ফোন করে আমিও বেরিয়ে পড়লাম ট্রেনের উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম ভৈরব
হয়তো ট্রেনে যাবে কিন্তু স্টেশনে গিয়ে বুঝলাম ভৈরব এদিকে আসেনি।বুঝলাম ভৈরব বাই
লেন যাচ্ছে। মনে মনে নিশ্চিন্ত হলাম যাক অন্তত ও আসার আগে আমি বর্ধমান পৌছে যাবো।
কিন্তু বিধিবাম।
যে ট্রেনে উঠেছিলাম সেটা রামপুরহাট পর্যন্ত বেশ ভালো গতিতে ছুটলেও রামপুরহাট
ছাড়তেই বেশ ঢিমে তালে চলতে শুরু করলো তারপর আচমকা স্থির হয়ে গেল। কিছুক্ষন পর
জানা গেল ইঞ্জিনে প্রবলেম হয়েছে। অগত্যা নামতে হলো। ট্রেনের সহযাত্রীরা একটু
অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আমি সেটা কে এড়িয়ে এগিয়ে গেলাম স্টেশনের দিকে।
স্টেশনে Enquiry কেবিনে জানা গেল পরের ট্রেন তিন ঘন্টা লেটে চলছে। মাথাটা
গরম হয়ে গেলেও নিজেকে সামলে স্টেশন থেকে বেরোলাম। তখন আমার একমাত্র লক্ষ্য ভৈরবের
আগে বর্ধমান পৌছনো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম বারোটা বাজে। একটু নিশ্চিন্ত হলাম। কারন
কাল শাম্ব বলেছিলো বারাসাত টু কৃষনগর হাইওয়ে তে আজ বিশাল জ্যাম হবে। কারন আজ নাকি
ভোটের এর জন্য রুলিং পার্টির প্রার্থী হিসেবে কোন এক নায়িকার র্যালী আছে। শর্মি
আজ গেছে সেটার কভারেজ করতে। ভৈরব এতক্ষনে নির্ঘাত সেই জ্যামে আটকে আছে। কাছেই একটা
হোটেল ছিলো সেখানে ভাত খেয়ে একটা সিগারেট
ধরাতে মেজাজটা একটু ফুরফুরে হলো। সিগারেটে টান দিতে দিতে স্টেশনে ঢুকলাম।
তারপর ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসে রইলাম। আর এই জিনিসটাই কাল হলো আমার। তখন যদি
ট্রেনের আশায় না বসে সোজাসুজি বাস ধরতাম।তাহলে হয়তো এতোটা দেরী হতো না। বসে থাকতে
থাকতে একটু ঝিম লেগে গিয়েছিল। হঠাত্ ঘুমটা ভাঙল ফোনের শব্দে।ফোনটা কানে নিতেই
শুনতে পেলাম ব্যোমকেশের গলা, “কতদুর? ” উঠে বসে বললাম, “রামপুরহাট।ট্রেন লেট
করেছে।”
ব্যোমকেশ অসহিষ্ণু গলায় বলল, “আর তুমি পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছো? ওদিকে ভৈরব
প্রায় পৌছে গেছে।” আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম দুটো বাজে । চটপট উঠে
দাঁড়ালাম।এবাবা এযে অনেকক্ষন ঘুমিয়েছি। ব্যোমকেশকে বললাম, “চিন্তা নেই ভৈরব হয়তো
এতক্ষনে ক…” বাকি কথাটা বলার আগে ব্যোমকেশ যেটা বলল সেটা শোনার পর
নিজেকে মনে মনে খিস্তি না দিয়ে পারলাম না। বারাসাতের সেই র্যালীটা নাকি শেষ মুহুর্তে বাতিল হয়ে গেছে।
নিউজ চ্যানেলে দেখাচ্ছে।ব্যোমকেশ ওপারে অসহিষ্ণু গলায় বলে চলেছে, “একটা কাজ যদি
তোমাকে দিয়ে হয়। ট্রেন লেট করেছে তো পরের স্টেশনে নেমে গিয়ে বাসে করে যেতে তা না…” আমি কোনোমতে
ফোনটা কাটলাম।
বাপরে যা রেগে গেছে ব্যোমকেশ!
অবশ্য রাগার মতোই কাজ করেছি। কিন্তু এখন আর উপায় নেই। আমাকে আরো এক ঘন্টা
বসতে হবে। কাজেই প্ল্যাটফর্মে সিমেন্টের বেঞ্চে বসলাম। তবে বেশিক্ষন বসতে হলো না।
একটা প্যাসেঞ্জার ট্রেন মিনিট দশেকের মধ্যে এলো। সেটায় চড়ে আমার পরবর্তী প্ল্যান
কষে নিলাম। তারপর প্রায় সন্ধ্যেবেলায় পৌছলাম বর্ধমান স্টেশনে।
রেলের ওয়েটিংরুমে ছদ্মবেশ নিয়ে পোশাক পাল্টে বেরিয়ে পড়লাম। স্টেশনের
সামনেই কতগুলো গাড়ি ছিলো তার মধ্যে একটায় বসে গন্তব্য বলতেই গাড়ি সোজা বেরিয়ে
পড়লো সেদিকে। ড্রাইভারের কাছে শুনলাম আজ সকালে নাকি আরো অনেক রিপোর্টার এসেছে।
বাবাজির নাকি আজই আসার কথা।এই কথাটা আমিও জানতাম। কারন কলকাতায় ভৈরবের হাসপাতালে
থাকাকালীন কয়েকজন কে স্কুপের জন্য ঘুরঘুর করতে দেখেছি। ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো আমিও
রিপোর্টার নাকি। বোধহয় আমার পোশাক, আর ব্যাগপত্র দেখে ওর তাই মনে হয়েছে। মনে মনে
খুশি হলাম যাক ছদ্মবেশটা বৃথা যায় নি। মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম।
সেই থেকে বিগত চারদিন ধরে হোটেল-আশ্রম,
আশ্রম-হোটেল করছি। আমার কাজ সকাল সকাল ভৈরবের আশ্রমে যাওয়া, সারাদিন
ভক্তদের ভীড়ে মিশে ওর কাজকর্ম লক্ষ্য রাখা। সকালে পুজো থেকে রাত্রের সন্ধ্যারতী
পর্যন্ত ওকে ফলো করা। প্রথমদিন অবশ্য একটু অসুবিধে হয়েছিল। এতগুলো সাংবাদিক এর
ভীড়ে ওকে ফলো করা। পরে অবশ্য সুবিধে হয়ে যায়। তবে বেশিদিন হয়তো আর এই হোটেলে থাকা
যাবে না। হোটেলের লোকেদের সন্দেহ হতে পারে। তাই ঠিক করেছি সোজা ভৈরবের আশ্রমেই
থাকবো। এতে আমার সুবিধেই হবে। দেখি কাল ব্যোমকেশ এর সাথে কথা বলতে হবে।
******
২৫শে আগষ্ট,২০১৯, রাত দুটো শ্রী
শ্রী চন্দ্রকান্ত ভৈরবগিরি মহারাজ আশ্রম,
বাণপুর, বর্ধমান
আজ পাঁচ দিন হলো আমি ভৈরবের ডেরায়। জীবনে অনেক অর্থলোভী ভন্ড পিশাচ দেখেছি।
কিন্তু ভৈরবের মতো নরপশু দুটো দেখিনি। ভৈরব তাও সময় বিশেষে নিজের রূপ দেখায়।
কিন্তু অর অন্যতম সহযোগী বজ্রধর। সাক্ষাত্ শয়তানের প্রতিভু। এমন কোনো পাপ কাজ নেই
যা ও পারে না।
বাইরে থেকে এই আশ্রমটাকে দেখলে কোনো পুন্যাত্মার আশ্রম বলে মনে হতে পারে।
কিন্তু ভেতরে ঢুকলে বোঝা যায় ছবিটা সম্পুর্ণ উল্টো। বেআইনি টাকার লেনদেন, গাঁজার
ব্যবসা, এমন কি ব্যাভিচার পর্যন্ত চলে এখানে। প্রায় রোজ রাতেই ঐ বজ্রধরের একটা
মেয়ে লাগে। বড়ো, ছোটো, কুমারী, বিবাহিতা, বিধবা, নাবালিকা, মধ্যবয়স্কা কোনো
বাছবিচার নেই ঐ রাক্ষসটার।
প্রথমদিন আশ্রমের ভোগ খাবার পর হোটেল আমার সেই রাতে গভীর ঘুম হওয়ায় সন্দেহ হয়েছিল।পরের দিন খাবার
থেকে কিছু টুকরো লুকিয়ে রাস্তার নেড়িকে দিয়েছিলাম। নেড়িটার একই অবস্থা
দেখে নিশ্চিত হই আমি। আশ্রমের ভক্তদের রোজ রাতের ভোগে ঘুমের
ওষুধ মিশিয়ে দেয় যাতে কেউ মেয়েটার চিত্কার শুনতে না পারে।
তারপর পৈশাচিক খিদে মেটানো শেষ হলে সে অচৈতন্য হতভাগীগুলোকে পাঁজাকোলা করে
ফেরত দিয়ে আসে তাদের ঘরে।যারা বাঁচে তারা টেরও পায় না কি সর্বনাশ ঘটে গেছে তাদের
জীবনে। আর যারা বাঁচে না তাদের অর্ধজীবন্ত কবর দিয়ে সেখানে জবার চারা লাগিয়ে দেয়
দানবটা!
মাঝে মাঝে মনে হয় রণিকে খবর দিয়ে হারামজাদাগুলোকে ধরিয়ে দিই। পরক্ষনেই মনে
পড়ে আমাদের লক্ষ্য এই বজ্রধর নয়। আমাদের লক্ষ ভৈরব। তাই না চাইলেও আমাকে চুপ থাকতে
হয়। ঈশ্বরে বিশ্বাস আমার কোনোকালেই ছিল না। কিন্তু আজ ঐ বছর পনেরোর নিষ্পাপ বাচ্চা
মেয়েটার ওরকম পরিনতি দেখে এবার আমিও কায়মনে প্রার্থনা করছি যদি ঈশ্বর বলে সত্যি
কেউ থাকেন তাহলে এই পাপের সাম্রাজ্যের যেন শীঘ্র ধ্বংশসাধন হয়।
******
৩০শে আগষ্ট,২০১৯, ভোর চারটা শ্রী শ্রী চন্দ্রকান্ত ভৈরবগিরি মহারাজ আশ্রম,
বাণপুর, বর্ধমান
বিগত বারো-চোদ্দো দিন ধরে আমি ভৈরবের উপর নজর রেখে বসে আছি। রোজ রোজ ওর
প্রবচন পুজো দেখে বোর হচ্ছিলাম।তবে আজকের সকালে যে জিনিসটা ঘটলো তার জন্য
আমি প্রস্তুত ছিলাম না। । দাঁড়ান সকালবেলা ঘুম ভাঙল ভীষন হই হট্টগোলের শব্দে।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম চারটে বাজে। এত সকালে কি হলো আবার? চোখ কচলাতে কচলাতে ছদ্মবেশ
নিয়ে বাইরে বেরোতেই অবাক হলাম। আশ্রমের সকলে ছুটোছুটি করছে। প্রায় সকলে মন্দিরের
সামনে দাঁড়িয়ে। ব্যাপারটা কি দেখার জন্য মন্দিরের দিকে এগোলাম। ভীড় কাটিয়ে
মন্দিরের সামনে পৌছে দেখলাম ভৈরব মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে আছে। আশেপাশের সকলের
মুখেও ত্রাসের ভাব স্পষ্ট। সকলে ফিসফিস করে বলাবলি করছে। এদিক ওদিক চাইতেই দেখলাম
মন্দিরের পেছনে জবাবাগানেও লোকের ভীড়। তবে কি…?
ধীরে ধীরে সেদিকে এগোলাম। তারপর জবাবাগানের ভেতরে প্রবেশ করলাম। বেশী ভেতরে
যেতে হলো না কিছু দুরেই জটলাটা দেখতে পেলাম। জটলার মাঝে যেতেই আমার চোখ স্থির হয়ে
গেল।
জটলার মাঝে একটা রুপোর ত্রিশুল পোঁতা। ত্রিশুলটা আমি চিনি। ভৈরব সভায় বসার
সময় এই ত্রিশুলটা হাতে নেয়। লম্বায় ছফুট ত্রিশুলটার কারুকার্য সত্যিই দেখার মতো।
কিন্তু এখন সেই কারুকার্য বোঝার উপায় নেই। পুরোটাই ঢেকে গেছে রক্তে আর অন্ত্রে
! ত্রিশুলটার বামদিকের ফলায় আটকে
হৃদপিন্ড। ডানদিকেরটায় আটকে লিভার আর ত্রিশুলটার মাঝের ফলাটায় আটকে আছে বজ্রধরের
কাটা মাথাটা! চোখদুটো যেন কেউ খুবলে নিয়েছে। চোয়াল হা করা, মুখ দেখে মনে হচ্ছে যেন
ভীষণ ভয় পেয়েছে!
বজ্রধরের মাথাটাকে ভালো করে দেখছিলাম হঠাৎ সম্বিত ফিরলো পুলিশের সাইরেনে।
নির্ঘাত কোনো ভক্ত খবর দিয়েছে হয়তো। আর এখানে থাকা ঠিক হবে না। ভক্তমন্ডলীও দেখলাম
একে একে সরে পড়ছে। আমিও আমার ঘরের পথ
ধরলাম।
*****
বিকেল হতে চললো এখনো গোটা আশ্রম পুলিশে আর মিডিয়ায় ছয়লাপ। মন্দিরে, ভোজনঘরে, জবাবাগানে, এমনকি আমাদের থাকার ঘরে সব জায়গায় পুলিশ
তল্লাশি জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এমন কি কলকাতা থেকেও
পুলিশ এসেছে দেখলাম। অবশ্য এর কারনও আছে। জবাবাগানে যেখানে ত্রিশুলটা পোঁতা ছিলো সেই জায়গাটা খুঁড়ে বজ্রধরের কবন্ধ ছিন্নভিন্ন
মৃতদেহটা পাওয়া গেছে। তবে শুধু ওর দেহটাই পাওয়া যায় নি
সাথে পাওয়া গেছে বেশ কিছু নরকঙ্কাল।
এরকম পর পর বেশ কয়েকটা নরকঙ্কাল পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা গোটা
জবাবাগান তছনছ করে খুঁড়তেই পাওয়া যায় আরো নরকঙ্কাল, পচা দেহাংশ, ও পর পর পনেরোটা
বাসি থেকে টাটকা লাশ। এখনও জবাবাগান খুঁড়ে চলেছে পুলিশ। আর যত খুঁড়ছে ততই
নরকঙ্কাল বেরোচ্ছে। এমন কি মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আসনের তলায় ফুলের আড়ালে
পাঁচটা নরকঙ্কালের মাথা পাওয়া গেছে। কাজেই সিআইডির আগমন অবসম্ভাবী। তারা এসেই
ভৈরবকে জেরা শুরু করে দিয়েছেন। পাঁচ ঘন্টা হতে চললো এখনো ভৈরবের ঘর থেকে কেউ বেরোয়
নি।
আজ গোটা আশ্রমের নিবাসীরা নিস্তব্ধ। গতকালও যারা ভৈরবের নামে জয়ধ্বণি
দিচ্ছিলো আজ তারা অবিশ্বাসে, আতঙ্কে, বিশ্বাসভরসা হারানোর যন্ত্রণায় বাকরুদ্ধ। কেউ
বাইরে বেরোতে চাইছে না। স্থানীয় লোকের ভীড়ে আশ্রমের প্রতিটা কোণ ভরে গেছে। অথচ
প্রত্যেকে চুপ করে দাঁড়িয়ে। যেন তারা কোনো কিছুর অপেক্ষা করছে। আমি চুপচাপ এককোণে
দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর দেখছিলাম পুরো ঘটনাটা। সকালে পুলিশের সাইরেন শোনার পর ঘরে ফিরে
ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর সুযোগ বুঝে আশ্রম থেকে বেরিয়ে হোটেলে উঠেছি।
ব্যোমকেশকে ফোন করে জানাতে ও বললো, “ভালো করেছো সরে এসেছো। তবে বিপদ এখনও
কাটেনি আজ অমাবস্যা। আজই ভৈরবের উপর চরম আঘাত হতে পারে। এই বজ্রধরের মৃত্যুটা একটা
অজুহাত ওকে বের করে আনার। ক্ষিপ্ত জনতার ভীড়ে মিশে ওকে মেরে ফেললে কেউ ধরতে পারবে না
আততায়ীকে। খুব সতর্ক হয়ে নজর রাখো। এই আমাদের শেষ চান্স।”
ঠিক সাতটার দিকে ভৈরবের ঘর থেকে বেরোলেন একজন। নীচে নেমে সাংবাদিকদের
উদ্দেশ্যে জানালেন অনেকগুলো প্রশ্নের সদুত্তর না পাওয়ায় আপাতত ভৈরবকে রিমান্ডে
নিচ্ছেন তারা। ভৈরব ইচ্ছে জানিয়েছে যাবার আগে মায়ের চরনে মাথা ঠেকাতে চায় সে। তারা
পাঁচমিনিট সময় দিয়েছেন।
আশ্চর্যের ব্যাপার এই কথাটা শুনে উপস্থিত জনতার যতটা প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা
ছিলো ততটা হলো না। বরং তারা যেন সায় দিলো এই সিদ্ধান্তে। কিছুক্ষন পর বাকি অফিসারদের সাথে বেরোলো ভৈরব। বিধ্বস্থ, ক্লান্ত, অন্তিম বিচারের জন্য প্রস্তুত
সে ধীর পায়ে নেমে এলো নীচে। আর ও নীচে নামার
পর বুঝতে পারলাম জনতা কেন তখন অফিসারের কথায় সায় দিচ্ছিল। তারা জানতো
এসময় বিক্ষোভ করলে তারা হাতের কাছে পাবে না ভৈরবকে। তাই এই সাময়িক
বোঝাপড়া করেছিলো তারা। ভৈরব নীচে নেমে মন্দিরের দিকে এগোতেই
ওকে লক্ষ্য করে শয়ে শয়ে উড়ে এলো ডিম, টমেটো, ইট, পাথর।
আকস্মিক এই আক্রমনের জন্য পুলিশ প্রস্তুত ছিলো না। তারা প্রথমে
কিংকর্তব্যবিমুঢ় হলেও পরক্ষনে ভৈরবকে গার্ড করে এগিয়ে চললো। কিন্তু সাথে থাকা
সিআইডি অফিসাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। একজনই মাত্র রয়ে গেল ভৈরবের সাথে। আর তখনই আমি
দেখলাম ওকে। সিভিল ড্রেসে সিআইডি অফিসারের ছদ্মবেশে সে ভৈরবকে টানতে টানতে মন্দিরে
নিয়ে গিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দরজা আটকে দিলো। কিন্তু এখানে কি করছে ও? এই বেশে
কেন? তবে কি…
উত্তেজিত জনতা আর বাধা মানলো না। তার পুলিশি বাধা ভেঙে এগিয়ে গেল মন্দিরের দিকে। ধাক্কা মেরে ভেঙে
ফেলল দরজাটা। কিন্তু দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর সকলে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর গর্ভগৃহ থেকে
বেরিয়ে এসে আশ্রমে তান্ডবলীলা শুরু করে দিলো। আমি সদর দরজার কাছে ছিলাম বিপদ বুঝে
বেরিয়ে এলাম। একজন ভক্তও আমার সাথে বেরিয়ে আসছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল, মন্দিরের ভেতরে কেউ নেই। না সেই অফিসার না ভৈরব। বিপদ বুঝে অফিসার
ভৈরব কে নিয়ে পালিয়েছে।
ব্যাপারটা বুঝতে আমার কিছুক্ষন সময় লাগলো। তারপর সমগ্র বিষয়টা বুঝতে
পারলাম। তার মানে ওই…! সবটা বোঝার পর হোটেলে ফিরে কাঁপা কাঁপা হাতে
ব্যোমকেশকে ফোন করলাম। ব্যোমকেশ ফোন ধরে বললো, “বলো।” আমি বললাম, “কোথায় তুমি? ”
ব্যোমকেশ সোজা জবাব দিলো, “ছাগলের সাথে। এই পাঠাটাকে বাঁচাতে হবে বলেছিলাম না? ”
“তাই বলে…”
“কোনো কথা নয়। হোটেলের নিচে আমি বসে আছি গাড়িতে। তাড়াতাড়ি নেমে এসো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
আমাদের বর্ধমান ছাড়তে হবে।”
নীচে নেমে এসে চেকআউট করে রাস্তায় দাঁড়াতেই একটা মারুতি ওমনি প্রায় গা
ঘেষে দাঁড়ালো। ব্যোমকেশ দরজা খুলে দিতেই গাড়িতে বসলাম আমি। ব্যোমকেশ গাড়ি চালু
করে দিলো। আমি ইশারায় ভৈরব কোথায় জিজ্ঞেস করতেই সেও পেছনে ইশারা করলো।পেছনে তাকিয়ে
দেখলাম কালো কাপড় দিয়ে ভৈরবের চোখ মুখ বাঁধা। হাত পা নারকেল দড়ি দিয়ে পিছমোড়া
করে বেঁধেছে ব্যোমকেশ।
হাইওয়ে পর্যন্ত ব্যোমকেশ চুপচাপ গাড়ি চালালো। আমি ওকে কোনো প্রশ্ন করলাম
না। কারন আমি জানি ওকে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাবো না।হাইওয়েতে গাড়ি নামা মাত্র
ফোনটা বেঁজে উঠলো। বের করে দেখলাম রণি। রিসিভ করা মাত্র রণি গর্জে উঠলো,“তোরা কোথায়?” আমি নির্বিকারভাবে বললাম,“আমরা মানে?” রণি
একইভাবে বললো,“মানেটা তুই ভালো করেই জানিস।নিউজচ্যানেলের টেলিকাস্টে কেউ লক্ষ্য না
করুক আমি তোকে ভৈরবের আশ্রমে দেখেছি নীল। গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ভৈরবের সাথে
সাথে ব্যোমকেশকে খুঁজছে। আজ সন্ধ্যের
টেলিকাস্টে গোটা বাংলা দেখেছে কিভাবে তোর ধর্মের ধ্বজাধারী ব্যোমকেশ ঐ
পাপী ভন্ডটাকে বাঁচিয়েছে। তুই আমার বন্ধু তাই বলছি তোর আর ব্যোমকেশের কোনো ক্ষতি
হবে না। প্লিজ বল কোথায় এখন তুই?”
আমি রণির কথা শুনে বললাম,“তুই ভুল ভাবছিস রণি।
ব্যোমকেশ ভুল করতে পারেনা।ওর এই কাজে নির্ঘাত কোনো উদ্দেশ্য আছে…” আমার কথার আগে
ব্যোমকেশ আমার ফোনটা কেড়ে নিয়ে নিজের কানে কিছুক্ষন শুনলো তারপর একটা হাই তুলে
দিয়ে বললো,“এই জুয়াটা না খেললে খুনিকে ধরা যেত না রণি। তাই ঝুকি নিতে বাধ্য হয়েছি।
আজ রাতটা ভীষণ গুরুত্বপুর্ণ। আশা করি আজ
রাতের মধ্যে তোমার শিকারকে তোমার হাতে
তুলে দেবো। তাই বলছি একটু ধৈর্য ধরো। আর যদি পারো তো বীরভুমের মাল্লারপুরে
এসো। ওখানে অসীতবাবু আছেন।উনিই তোমাকে আমার কাছে পৌছে দেবেন। তবে নীলের ফোন না
পাওয়া পর্যন্ত একদম এগোবে না।”বলে ফোনটা কেটে ব্যোমকেশ আমাকে ফেরত দিয়ে
বললো,“মাল্লারপুর ঢুকলে রণিকে আবার ফোন
করবে। চার্জ আছে তো?”
আমি মাথা নাড়লাম। তারপর জিজ্ঞেস
করলাম,“গাড়িটা কার?” ব্যোমকেশ মাথা নেড়ে বললো ,“জানি না। তবে ভদ্রলোক গাড়িতে
চাবি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। ভাগ্যিস ফুল ট্যাঙ্ক ছিল না হলে…”আমি
পেছন দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভৈরব শুয়ে আছে। তারপর সামনে ফিরে বললাম,“ওকে অজ্ঞান করলে
কি করে?” ব্যোমকেশ জবাব দিলো,“ক্লোরোফর্ম।” এবার প্রশ্ন করলাম,“কিন্তু কেন?” ব্যোমকেশ কিছু বলল না। কিছুক্ষন পর
বললাম,“আমাদের বাঘ কে?” ব্যোমকেশ লুকিংগ্লাসে পেছনে তাকিয়ে বলল,“আজ রাতে জানতে
পারবে।” তারপর চুপচাপ গাড়ি চালাতে লাগলো।
এদিকে আমার ফোনে সমানে ফোন, ম্যাসেজ এসেই
চলেছে। নেহাত সাইলেন্ট করা আছে নাহলে শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যেত। আমি চুপচাপ
বাইরের অন্ধকারে তাকিয়ে রইলাম। আজ অমাবস্যা। আকাশে চাঁদ নেই ঠিকই তবু নক্ষত্রের
টিমটিমে আলো রয়েছে আকাশ জুড়ে। সেই অন্ধকার নেমে এসেছে হাইওয়েতে।অন্ধকার রাস্তা
চিরে চলেছে আমাদের গাড়ি মাল্লারপুরে যেখানে এসব কিছু শুরু হয়েছিল।
******
ফোনটা কেটে দেওয়ায় রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো
রণির। প্রবল আক্রোশে টেবিলে ঘুষিটা মেরে উঠে দাঁড়ালো সে। ছিঃ ছিঃ লজ্জায় মাথা
কাটা যাচ্ছে তার। আজ সকালে যখন খবরটা এলো রণি খুশি হয়েছিল। সেদিন ভৈরবের কনফেশনটা
শোনার পর ওর ইচ্ছে করছিলো ভৈরবকে ওখানেই মেরে ফেলে। আজ দুপুরে যখন সম্পুর্ণ খবর
এলো উত্তেজনায় নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি। ও চেয়েছিল তখনই ফোর্স নিয়ে বেরোবে।কিন্তু
তার আগেই উপর মহল থেকে জানা গেল কেসটা সিআইডি নিচ্ছে।
তখন যদি বেরিয়ে পড়তো তাহলে এই চুনকালিটা
লাগতো না মুখে। তাও বিকেলে স্বস্তি ছিলো হারামজাদাটাকে কলকাতায় আনা হবে।
সন্ধ্যেবেলা আচমকা তলব পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলো সে। ডিসি ডিডির থমথমে মুখ দেখে
খটকা লেগেছিল। পরে তার কাছ থেকে সবটা শুনে বিশ্বাস করতে পারেনি সে। ডিসিও হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। বার বার আক্ষেপ
করছিলেন রণিকে না পাঠানোর জন্য। রণি ফুটেজটা চেয়ে নিয়ে নিজের রুমে এসে কম্পিউটারে
চালিয়ে দেখছিল। প্রত্যেকটা জায়গা খুটিয়ে দেখার পর দাঁতে দাঁত চেপে ফোন করে নীলকে।
মাথাটা সাংঘাতিক তেতে আছে। বাথরুমে গিয়ে
মাথায়,ঘাড়ে
জল দিতে লাগলো রণি। কিছুক্ষন পর নিজের রুমে ঢুকে ফ্যানটা চালিয়ে চেয়ারে গা হেলান
দিয়ে বসে চোখ বুঝতেই ব্যোমকেশের বাকি কথা গুলো এবার কানে বাজতে লাগলো তার।
সোজা হয়ে বসলো রণি। ‘মাল্লারপুর’।জায়গাটার নাম ভীষণ চেনা লাগছে।কোথায় যেন শুনেছে
ও মনে পড়ছে না। একটু ভাবতেই মনে পড়লো কোথায় শুনেছে। আর মনে পড়া মাত্র শরীরটা টানটান হয়ে উঠলো তার।
সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারকমে একজনের খোঁজ নিলো সে। ওপাশের কথা শুনে ভুরু কুঁচকে গেল
রণির। নিজেকে সামলে একটা বিশেষ ফাইল চাইলো সে।
ঘন্টাদেড়েক পর রণির গাড়িটা হুটার বাজিয়ে
কলকাতার রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো।তার ঠিক পেছনে সশস্ত্র সিভিল ড্রেস পরিহিত জনা পনেরোর
পুলিশের দল নিয়ে আরেকটা গাড়ি বেরোলো।যাদের
গন্তব্য বর্তমানে মাল্লারপুরে।
******
মল্লারপুরে যতক্ষনে আমরা ঢুকলাম বেশ রাত হয়ে
গেছে। রাস্তায় দুটো জায়গায় থেমেছিলাম আমরা। এক জায়গায় তেল ভরতে। আরেক জায়গায় সিট
অদলবদল করার জন্য। রণির কথায় এটা স্পষ্ট যে প্রতিটা টোলে পুলিশ ব্যোমকেশকে খুঁজে
বেরাচ্ছে। অগত্যা এছাড়া উপায় নেই। “মাল্লারপুরে ঢোকার একটু আগে আমাকে ডেকে
দেবে।কারন গ্রামের মাঝে এই গাড়ি নিয়ে যাবার কোনো মানে হয় না। মন্দিরে যাবার একটা শর্টকার্ট হাইওয়ের পাশে
আছে।” বলে পেছন সিটে বসে চোখ বুঁজে পেছনে হেলান দিলো ব্যোমকেশ।
হাইওয়ে ধরে সোজা গাড়ি চালাতে লাগলাম আমি।
মোবাইলে গুগল ম্যাপ খুলবো তারও উপায় নেই রণি ট্র্যাক করতে পারে। অগত্যা রাস্তার
সাইনবোর্ডই ভরসা। এটা জানতাম যে একটা রুটে মাল্লারপুরের আগে ময়ুরেশ্বর পড়ে আরেক রুটে পড়ে
মহম্মদবাজার । ভেবেছিলাম ব্যোমকেশ সিউড়ির রুটটাই ধরবে কিন্তু আসানসোলে এসে ও যখন
রুট বদল করলো আমি একটু অবাক হলাম। কারন সবচেয়ে শর্টকার্ট রাস্তা মানে সিউড়ির রুট
না ধরে ও সাঁইথিয়ার রুট ধরে বললো,“শর্টকার্ট রুটে পুলিশ থাকতে পারে তাই একটু ঘুর
পথে যাবো। চিন্তা নেই অমাবস্যা কেটে গেছে অনেকক্ষন। তবে সিদ্ধযোগ চলছে সেটাই যা চিন্তার।”
সাঁইথিয়ায় পেট্রোল পাম্পে গাড়িতে তেল ভরলাম।
তারপর গাড়ি ময়ুরেশ্বর ক্রস করতেই ব্যোমকেশ কে ডাকলাম। ব্যোমকেশ গাড়ি দাঁড় করাতে
বলল। তারপর তারপর সামনে এসে চালকের আসনে বসে হাই তুলে বলল,“অনেকক্ষন ঘুমিয়েছি না?”
আমি মাথা নাড়লাম। ব্যোমকেশ
বলল,“অনেকক্ষন
চালিয়েছ এবার পেছনে বসে একটু জিরিয়ে নাও। আজ রাতে অনেক ধকল আছে।”আমি পেছনে গিয়ে বসলাম।
ভৈরবের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। সে মরার মতো গাড়ির ফুটবোর্ডে শুয়ে আছে।
গাড়ির পেছনে হেলান দিয়ে বসে থাকতে থাকতে চোখ
লেগে গিয়েছিল। আচমকা একটা ঝাকুনিতে ঘোরটা কেটে গেল। উঠে বসে দেখলাম গাড়িটা হাইওয়ে
ছেড়ে একটা কাঁচা রাস্তায় নেমে গেছে।একটু চোখ রগড়ে দেখলাম গাড়িটা একটা মাঠের
মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু দুর গিয়ে গাড়িটা থামালো ব্যোমকেশ। তারপর গাড়ি থেকে নেমে
পেছনের দরজা খুলে ভৈরবকে কাঁধে তুলে এগোতে লাগলো সামনের জঙ্গলের দিকে।পেছন পেছন আমিও
গাড়ি থেকে নেমে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে এগোলাম। বেশীদুর যেতে হলো না ।জঙ্গলে প্রবেশ
করে কিছুটা এগিয়ে থামলাম আমরা।
জঙ্গলের মাঝে একটা মন্দির। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে বুঝলাম আমরা ঠিক
জায়গায় পৌছেছি। এটা মন্দিরের পেছনদিক। মন্দিরের কালীমুর্তিটা এই আলোয় আরো ভীষণদর্শনা এবং রহস্যময়ী লাগছে। ব্যোমকেশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর মুখ নির্বিকার। ধীরে ধীরে
ভৈরবকে মাটিতে নামিয়ে আমাকে ইশারায় ফ্ল্যাশটা নেভাতে বললো। আমি সামনে তাকিয়ে
ফ্ল্যাশটা নিভিয়ে দিতেই চারদিকের জমাট অন্ধকার ঝুপ করে নেমে এলো আমাদের সামনে। রাস্তায়, মাঠে তাও নক্ষত্রমন্ডলী আকাশে একটু ক্ষীণ আলো এনেছিল।
এখানে তাও নেই। নিকষ,কালো অন্ধকারে আমরা দুজন জঙ্গলের মাঝে দাঁড়িয়ে
আছি।ব্যোমকেশের উদ্দেশ্যে চাপা গলায় বললাম,“অতঃ কিম?”
বাতাসে ব্যোমকেশের ফিসফিসানি ভেসে এলো,“প্রতিক্ষা আহ!” সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে একটা ধপ করে ভারী শব্দ হলো! তারপর পাশে কে যেন মাটিতে পড়ে গেল। শব্দটা শুনে আমি চমকে উঠলাম। কি হলো ব্যাপারটা? কিছুক্ষন
চুপচাপ থেকে ফিসফিস করে ডাকলাম ,“ব্যোমকেশ!?” জবাবে কিছু
শোনার আগেই মাথার পেছনে প্রচন্ড আঘাত আছড়ে পড়লো আমার। তারপর আর কিছু মনে নেই।
(আগামী পর্বে সমাপ্য)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এখানে মন্তব্য করুন