১২ই
আগস্ট ২০১৯, ভোর তিনটে,শ্রী শ্রী
চন্দ্রকান্ত ভৈরবগিরি মহারাজ আশ্রম, বাণপুর, বর্ধমান
ধ্যান সম্পুর্ণ হলে উঠে দাঁড়ালো ভৈরব। গড় হয়ে
সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলো আশ্রমের অধিষ্ঠাত্রী দেবী রঙ্কিনীকে। মা তার এই পুজোটাও
গ্রহণ করেছেন। এই নিয়ে সর্বমোট সতেরোটা পঞ্চমকার সাধনার মাধ্যমে পুজো করেছে সে। এই
সাধনা অতো সহজ নয়। আবার অতো কঠিনও নয়। সম্পুর্ণ সুলক্ষনা, নিখুঁত, কুমারী, স্বয়ম্ভুকুসুমসম নারী না হলে যেমন এ কার্য হয় না। তেমনই বিশেষ তিথি
ছাড়াও এ পুজো অসম্ভব। এই সাধনায় নুন্যতম ভুল হলে নেমে আসে অভিশাপ। মা সিদ্ধি তো
দেন না উল্টে কেড়ে নেন সমস্ত শক্তি। আদিশক্তি যেমন দয়াবতী তেমনই ক্রুরস্বভাবা।
অবশ্য ওর জীবনে অভিশাপ ছাড়া আর কিইবা আছে? দীর্ঘ বাইশ
বছর তাকে শক্তিহীন হয়ে থাকতে হয়েছে ঐ তারাপীঠের ঐ তান্ত্রিক সন্ন্যাসী আর তার
চেলাটার জন্য। ওই সন্ন্যাসী কিভাবে ওর শক্তি শুষে নিয়েছিলো আজও জানেনা ও। তবে সন্ন্যাসীর
মৃত্যুর খবরে ভীষণ খুশি হয়েছিল সে। দরজাটা খোলার আগে পরনের ধুতিটার কোঁচা বেশ শক্ত
করে পরে নিয়ে দরজা খুলল ভৈরব। দরজার পাশেই ছিলো ওর বহুদিনের পুরোনো চ্যালা বজু। এই
সাধনার ব্যাপারে শুধুমাত্র ঐ জানে।
দরজাটা খুলে বাইরে বেরিয়ে ভৈরব তাকিয়ে দেখলো ভোররাত হয়েছে।
পাখির কুজন শোনা যাচ্ছে। তবে সুর্যোদয় হতে বেশ সময় আছে। সারারাত জেগে পুজো করায় সে
বেশ ক্লান্ত। এখন তার দরকার ঠান্ডা জলে স্নান করে একটা লম্বা ঘুম। কাল অনেক কাজ আছে।
ভৈরব ক্লান্ত গলায় বললো, “বজু?”
বজু হাত জোড় করে বলল, “বলুন প্রভু।”
মৃদু হেসে ভৈরব বলে, “আমার পুজো সম্পুর্ণ। মা আজও কৃপা
করেছেন। তুই ভেতরটা পরিস্কার করে আয়। তারপর মাকে শয়নে দেবো।”
বজুর বুঝতে দেরী হয়না ওর প্রভু কি বলতে চাইছে।সে হাত
কচলে বলে, “এখনই করে দিচ্ছি প্রভু। তবে একটা নিবেদন ছিল।”
“বুঝেছি। পরিস্কার করে দিয়ে প্রসাদটা নিয়ে যাস। তবে
হ্যা খুব সাবধান। ওর মধ্যে এখনও মা বিরাজমান হয়ে আছেন। শান্তি জল ছিটিয়ে জলে
পরিশুদ্ধ করে নিবি। যদিও এখন অজ্ঞান । তবে সাবধান জ্ঞান ফিরলেও যাতে টের না পায়।”
বজু মাথা নেড়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ভৈরব সামনের দিকে এগিয়ে
গিয়ে দাঁড়ায়। চারদিকে তাকায় সে। কি নেই তার কাছে? বাড়ি-গাড়ি,
টাকা-পয়সা, ভক্তমন্ডলীর দান করা সোনা রুপো, দামী রত্ন। মাঝে মাঝে মনে হয় এসবের কি কোনো প্রয়োজন আদৌও আছে তার? না
এসবের মোহ সাময়িক। সব সময় সে এই মোহে ডুবে থাকে না। ডুবে থাকলে এই সব শেষ হতে
কতক্ষন?কিন্তু এসবে না তার আগে আসক্তি ছিলো না এখন আসক্তি আছে। সকলের মনের খবর যোগবলে টের
পায় সে। কিন্তু তার মনের কথা কে জানে? সে
তো চেয়েছিল সিদ্ধিলাভ করতে। কিন্তু…
মুচকি হাসে ভৈরব। আজকাল বড্ড দার্শনিক চিন্তা মাথায়
আসছে। সে নিজেও জানে না কেন আসছে। এই চিন্তাগুলো তাকে শান্তিতে বসতে দেয় না।
তখন এই টাকা, সম্পত্তিতে সে আর শান্তি পায় না। শান্তি খুঁজতে
মায়ের পুজোয় বসে সে। আর মায়ের পুজোর সময়টুকুতেই শান্তি পায় সে। তারপর আবার দহন
শুরু হয়। আচমকা পেছনে খুট করে শব্দ হওয়ায় পেছন ফিরে দেখে বজু একহাতে মদের বোতল আর
একটা ক্যারিব্যাগে পুজোর ব্যবহৃত উপকরণগুলো। আর কাঁধে একটা মেয়ে। পরনের বেশ
আলুথালু। দেখে বোঝা যায় এখনও অজ্ঞান। একরাশ কোঁকড়ানো চুল ঢলে পড়েছে।
এই চুল দেখে উদাসীন হলো ভৈরব। পঁচিশ বছর আগের একটা কথা
বিদ্যুৎচমকের মতো ওর স্মৃতিতে খেলে গেল। মৃদু হেসে বললো, “দেখিস আবার
দাগটাগ লাগিয়ে বসিস না।সন্দেহ করতে পারে। সাবধানে প্রসাদ গ্রহন করবি। আর যদি জ্ঞান
ফিরে আসে তাহলে তো তুই জানিস কি করতে হবে? ”
শেয়ালের মতো ধুর্ত হাসি খেলে যায় বজুর ঠোটে, “তা আর জানি
না? চিন্তা করবেন না প্রভু। নতুন জবার
চারা এনেছি। বাগানে লাগিয়ে দেবো।”
“হু। যা এখন।” বলে হাটতে হাটতে নিজের ঘরে ঢোকে ভৈরব। দরজা
লাগিয়ে নগ্ন হয়ে বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার চালিয়ে দেয় সে।ঠান্ডা জলে ভালো করে স্নান
করতে করতে সে চলে যায় পুরোনো স্মৃতি তে।
পঁচিশবছর আগে সে চিত্রসেনা ও বুদ্ধকপালের যুগ্ম মন্দিরের
হদিশ পেয়েছিল এক তিব্বতি তান্ত্রিকের কাছে। শুনেছিল তার পুজোর পদ্ধতি। তারপর…
******
২৪ শে
অক্টোবর ১৯৯৫, মাল্লারপুর, বীরভূম
পুজো শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন সর্বেশ্বর চক্রবর্তী। দীপান্বিতা কালিপুজোতে বেশী চাপ থাকে না।
গাঁয়ের কজনই থাকেন বাকিরা তো তারামায়ের
কাছে পুজো দিতে যান। সরাতে যজ্ঞকুন্ড থেকে যজ্ঞাবশেষ তুলে যজ্ঞের তিলক তৈরী করে
মোড়লমশাই আর তার ছেলের কপালে তিলক কেটে দিলেন।
মোড়লমশাই হেসে বললেন, “একে আশির্বাদ করুন ঠাকুরমশাই।
অসীত এবার কলেজে দ্বিতীয় বছরে পড়ছে। সামনেই পরীক্ষা। যাতে ভালোয় ভালোয় পাশ করে।”
“নিশ্চয়ই করবে। কাল ছেলে দেখতে হবে তো? আমাদের অসীত বাবা যেমন মেধাবী
তেমনই বুদ্ধিমান। আমি আশির্বাদ করছি দেখবেন পাশ করে ও আপনার, আমার , আমাদের গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে।”বলে অসীতের মাথায় হাত রাখেন
ঠাকুরমশাই।
তারপর দ্বার থেকে একটু সরে দাঁড়ান তিনি। পুজোর অন্তিমে
বলি শুরু হবে। তারপর মায়ের পায়ের কাছে সরায় রক্ত রেখে দ্বার বন্ধ করে দেবেন
ঠাকুরমশাই।
নিয়মমতো যে সংকল্প করে সেই পাঁঠা নিবেদন করে মায়ের কাছে।
ঘাতকের মাধ্যমে সেই পাঁঠাকে বলি দিয়ে উৎসর্গ করা হয় মায়ের কাছে। গাঁয়ের মোড়ল
প্রতিবছর ঘাতক হন। তবে এবার তিনি এই কাজ করতে অপারগ। গতমাসেই স্ট্রোকটা হয়েছে। তাই
এবছর তার হয়ে অসীত ঘাতক হবে। অসীত প্রথমে মৃদু আপত্তি জানিয়েছিল এই অহেতুক প্রাণী
হত্যার ব্যাপারে। এই পুজোর নামে এই অহেতুক প্রাণী হত্যা তার ভালো লাগে না। তার মনে
প্রশ্ন জাগে একজন মা হয়ে কি করে কেউ সন্তানের রক্তপান করতে পারেন? নিজের সন্তানের মৃত্যু দেখতে পারেন? এ নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পায় না সে।
ঠাকুরমশাইকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল সে। ঠাকুরমশাই
বলেছিলেন, “এতে কি করা যাবে বলো? এ মানুষের বিশ্বাস। মানুষ ভাবে মাকে পাঁঠা উৎসর্গ
করে দিয়ে সে পুণ্য করছে। কিন্তু সে জানে না নিজের অজান্তে এক অন্যপাপে নিমজ্জিত
হচ্ছে। বলি খারাপ জিনিস নয়। বলির অর্থ হলো নিজের সব দোষ, ত্রুটি, লোভাদি ষড়রিপুকে
ত্যাগ করা। বলি মানে নিজের প্রিয় জিনিসকে মায়ের চরনে উৎসর্গ করে নিজেকে মায়ের শরণে
নেওয়া। তন্ত্রে ষোলরকম বলির উল্লেখ থাকলেও মন থেকে তোমার পাপকে না বলি দিলে কোনো
মতে বলি পুর্ণ হয়না। তন্ত্রমতে শ্রেষ্ঠ বলি হলো নিজ দেহ থেকে রক্ত উৎসর্গ। কিন্তু
সেটা সকলে পারে না। বলা ভালো করতে চায় না। ফলে এটা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ
লোক বলির সঠিক মানে না জেনে এসব করে। বিবেকানন্দ আমাদের মধ্যে বীরভাব, ক্ষর্তৃভাব জাগাতে এই
বলিপ্রথা ফেরালেও তিনিও বুঝেছিলেন এতে লাভ তো হয়নিই উল্টে অহেতুক প্রাণী হত্যা
বেড়েছে। কিন্তু মানুষকে বললেসে বুঝবে না। যুগে যুগে ধর্মের প্রতি মানুষের বিশ্বাস
অটুট রয়েছে সেটা অন্ধবিশ্বাসই হোক না কেন। কাজেই কিছুই করার নেই।”ঠাকুরমশাই ম্লান
হেসেছিলেন। অসীতও বুঝেছিল ঠাকুরমশাইও এব্যাপারে
অসহায়।
মন্দিরের পাশের ঘরে পোশাক পাল্টে অসীত বেরিয়ে এলো।এখন ওর
পরনে লালপাড় সাদা ধুতি। উর্ধাঙ্গ সম্পুর্ণ নগ্ন। ঠাকুরমশাইয়ের কাছে আসতেই ঠাকুরমশাই নতুন খাঁড়াটা ওর হাতে তুলে দিলেন।
প্রতিবছর মায়ের জন্য নতুন খাঁড়া আনা হয়। বলির শেষে রক্তমাখা খাঁড়াটাও মায়ের চরনে
উৎসর্গ করা হয়। খাঁড়াটা হাতে নিয়ে দেখল অসীত।লম্বায় তিনফুট প্রস্থে একফুট
খাঁড়াটা। বেশ ভারী। মন্দিরে পুজো উপলক্ষ্যে লাগানো হ্যালোজেনের আলোয় ঝকঝক করছে।
ঠাকুরমশাই ইশারা করতেই একজন তার পাঁঠা নিয়ে হাড়িকাঠে
শোয়ালো। মোড়লমশাই এগিয়ে এসে বললেন, “একদম ভয় পাবি না। সোজা নামিয়ে দিবি।
এক কোঁপে করতে হবে পারবি তো? ”অসীত মাথা নাড়ে। হাড়িকাঠের সামনে এসে দেখে পাঁঠাটা
তারস্বরে চিৎকার করছে। হয়তো নিজের অন্তিম সময় আগত টের পেয়েছে। পাঁঠাটার জন্য মায়া
হয় তার।কিন্তু সে নিরুপায়। মনে মনে পাঁঠাটার কাছে ক্ষমা চায় সে। তারপর খাঁড়া তুলে
মাপজোক করে বলির জন্য তুলে ধরে ঠাকুরমশাইয়ের দিকে তাকায়।
ঠাকুরমশাই এগিয়ে এসেছেন একটা সরা নিয়ে। হাড়িকাঠের কিছু
দুরে সেটা রেখে অসীতের পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রপাঠ করেন। তারপর ইশারা করেন বলি দিতে।
নিমেষের মধ্যে চোখ বুঁজে খাঁড়াটা নিখুঁতভাবে
নামিয়ে দেয় অসীত । চারদিকে জয় মা জয় মা রব ওঠে। চোখ খুলে দেখে পাঁঠাটার
মাথা কেটে অব্যর্থভাবে সোজা সরার উপর পড়েছে। ফিনকি দিয়ে রক্তও গিয়ে পড়ছে সরায়।
সে বাবার দিকে তাকায়। দেখে তার বাবা গর্বের সাথে গোঁফে
তা দিচ্ছেন। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোয় তার বুক থেকে। এই তার বাবা যিনি সারাজীবন
বিজ্ঞাননির্ভর হতে বলতেন। কুসংস্কার কে প্রশয় দিতে মানা করতেন। সেই বাবা এই বর্বর
কান্ডে গর্ব বোধ করছেন। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে তার। ততক্ষনে আরেকটা পাঁঠা রাখা
হয়েছে হাড়িকাঠে। যন্ত্রচালিতের মতো সেটাকেও বলি দেয় সে।
“বলিটা দিলে বটে তবে এত প্যানিক করার কিছু নেই।” বলে
বিছানার পাশে বসে অসীতের জ্বরটা দেখল ভৈরব।
“বালের প্যানিক। দুটো পাঁঠা বলি দিতেই বাবু ফুলের ঘায়ে
মুচ্ছো যাচ্ছেন। বলি এতেই এতো কষাইখানায় গেলে তো মুতে দিবি শালা।” বলে খিলখিল করে হেসে উঠলো কানাই।
“আহ! বাজে কথা বলো না কানাই। প্রথম প্রথম এরকম হয়। পরে
অভ্যেস হয়ে যায়।” বলে ধমকে ওঠে ভৈরব।
“সে যাই বলোভৈরবদা ।প্রথম বলিতে যেরকম মুখচোখ করলো আমার
তো হেবি হাসি পেয়ে গিয়েছিল।” বলে খিলখিল করে হেসে উঠলো
নীলু। ওর সাথে কপিল, চাঁদু আর কানাই হেসে উঠলো।
ভৈরবমৃদু হেসে বললো, “আচ্ছা বেশ। এখন ছাড়ো। অসীত এখন অসুস্থ ওকে ঘুমোতে দাও। আচ্ছা
অসীত? এখন তুমি ঘুমোও। আমরা যাচ্ছি।এই
সকলে বাইরে চলো।”বলে সকলে বাইরে বেরিয়ে যায়। অসীত ঘুমিয়ে পড়ে।
বাইরে বেরিয়ে কপিল জিজ্ঞেস করে, “আচ্ছা ভৈরবদা অসীতের
সাথে ঐ ঠাকুরমশাইকে দেখলাম। উনিই কি…”
গম্ভীর গলায় ভৈরব বলে, “হুম।”
নীলু বলে, “তাহলে দেরী কেন? এখনই বেরিয়ে পড়ি আমরা।
পুরোহিতের সাথে আলাপ করে মন্দিরে…” বলার আগে মুখ
চেপে ধরে ভৈরব। হিসহিসে গলায় বলে, “আসতে ! কেউ শুনতে পেলে কেলেঙ্কারী হবে।অসীতও
জানেনা আমরা কেন এসেছি এখানে। এখানে মন্দিরটা অভিশপ্ত।কেউ এ নিয়ে কথা পর্যন্ত বলে
না। কাজেই সাবধান। আমরা যে উদ্দেশ্যে এসেছি জানতে পারলে গ্রামের লোকজন কালকের ঐ
পাঁঠাগুলোর মতো আমাদের কেও বলি দিয়ে দেবে। এখন কিছু করবে না। অসীত আগে সুস্থ হোক।
ওর মাধ্যমে আলাপ করবো ঠাকুরমশাইয়ের সাথে। তারপর… এখনও
অনেক দেরী। মনে রাখবে তাড়াহুড়ো করলেই কার্য ব্যর্থ হয়। তাই সাবধান! ”
******
“কই গো গিন্নি হলো তোমাদের? আর কতক্ষন? ছেলেটা তখন থেকে
না খেয়ে বসে আছে তো ? ” অধৈর্য হয়ে ডাক দেন ঠাকুরমশাই। থালা হাতে পুরোহিত গিন্নি
বাইরে বেরিয়ে বলেন, “আসছি গো আসছি দাঁড়াও বাপু। পুজোআচ্চা করে আজকের দিনে একটু সাজগোঁজ
করবে তো নাকি? আয় শ্যামা।” পুরোহিত গিন্নির পেছন পেছন বেরিয়ে আসে শ্যামা। লালপাড়
সাদা শাড়ি পরে একঢাল ভিজে চুলে তাকে অপরূপ লাগছে।
রাজুর সামনে হাটু গেড়ে বসে শ্যামা। পুরোহিত গিন্নি
থালাটা শ্যামার হাতে দেন। শ্যামা রাজুর কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে বলে, “ভায়ের কপালে
দিলাম ফোঁটা…।” ফোঁটা নেবার পর শ্যামাকে প্রনাম করে রাজু বলে, “এবার
আমি উঠলাম দিদি।” ঠাকুরমশাই হেসে বললেন, “এই উঠলি
মানে? কোথায় যাবি? সকাল থেকে কিছু খাস নি। কিছু খেয়ে যা।” রাজু উঠে চটিটা পায়ে
গলিয়ে বললো, “অসীতদাদের বাড়ি। শহর থেকে অসীতদাদের কয়েকজন
বন্ধু এসেছে। ওদের একজন ম্যাজিক জানে। আজ ওদের বাড়িতে ম্যাজিক দেখাবে।”
“দেখো কান্ড সে তো সেই বিকেলবেলায় এত সকাল সকাল গিয়ে কি
করবি? চুপচাপ বোস, তোর মা আর দিদি লুচি আর আলুর দম বানিয়েছে। সেটা খেয়ে নে আগে।তারপর না হয়…”
এমন সময় অসীতের কন্ঠস্বর শুনে ঠাকুরমশাই থেমে যান
।তাকিয়ে দেখেন অসীত উঠোনের এককোণে
দাঁড়িয়ে আছে। ওর সাথে ওর সমবয়সী পাঁচজন অচেনা দাঁড়িয়ে। অসীত হেসে বলে,
“জেঠু আসবো? ” ঠাকুরমশাই হেসে বলেন, “ আরে
এসো এসো। দেখো গিন্নি কে এসেছে। তা ওদিকে দাঁড়িয়ে কেন? এসো।”
অসীত এগিয়ে আসে। ঠাকুরমশাই হেসে বলেন, “তা শরীর কেমন এখন?
পরশুদিন পুজোর পর যেভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে! ”
“এখন ঠিক আছি। জ্বরটা কালদুপুরেই ছেড়ে গিয়েছিল। শরীরটা
একটু দুর্বল আছে। ভাবলাম শুধু শুধু বিছানায় শুয়ে থাকার চেয়ে এদের একটু গ্রাম
ঘুরিয়ে দেখাই। ও ভালো কথা এদের সাথে আলাপ করিয়ে দিই। এ হলো কানাই, এ নীলকন্ঠ, ও হলো কপিল,
ও চাঁদু মানে চন্দ্রশেখর আর ইনি হলেন আমাদের সবার সিনিয়ার কুন্দনদা।”
সকলে ঠাকুরমশাইকে নমস্কার জানালো। ঠাকুরমশাই সবাইকে
প্রতিনমস্কার করে বললেন, “বেশ বেশ। তা আমাদের গাঁয়ে আপনাদের বলাবাহুল্য তোমাদের স্বাগত। অবশ্য এ
গাঁয়ে তেমন দেখার কিছু নেই। ঐ কালিমন্দির আর খেলার মাঠ ছাড়া। তা অসীত বড়ো ভালো
সময় এসেছো। রাজুকে তুমিই বোঝাও। আজ তোমাদের বাড়িতে নাকি ম্যাজিক দেখানো হবে। সেই
জন্য উনি এখন থেকেই নেচে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে পেটে কিছু পড়েনি। আর উনি এখনই
ভাইফোঁটা সেরে না খেয়ে চলে যাচ্ছিলেন তোমার বাড়ি।”
অসীত মুচকি হেসে রাজুর গালে হাত দিয়ে বলে, “তাই নাকি?
বেশ তো ভালোই হলো। আমার সাথে আমার বন্ধুদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাবি। তবে তার আগে
খেয়ে নিতে হবে।যা খেয়ে দেয়ে আয় আমরা তোর বাবার সাথে ততক্ষন গল্প করছি।”রাজু মাথা
নেড়ে একছুটে দৌড় লাগায় ভেতরে।
রাজু চলে যাবার পর ঠাকুরমশাই হেসে বলেন, “ তা কোথায়
কোথায় ঘুরবে ঠিক করলে?” অসীত হেসে বলে, “ আমাদের মধ্যে আমি আর
কুন্দনদাই বীরভূমেরছেলে। বাকিরা সব কলকাতার। ঠিক করেছিলাম পুজোর পরদিনই ওদের
গ্রামটা ঘুরিয়ে দেখাবো । তারপর আজ তারাপীঠ বক্রেশ্বর ঘুরে কাল সোজা হোস্টেল।
কিন্তু বিধিবাম। দুদিন জ্বরের ঘোরে ঘরেই কাটাতে হলো। মাঝখান থেকে ওদের ছুটিটা
মাটি হয়ে গেল।”
কুন্দন হেসে বলে, “আহা ঠিক আছে! কোনো ব্যাপার না। শরীর খারাপ তো হতেই পারে।
মনখারাপ করো না। একবার ভেবে দেখো কতদিন পর গ্রামবাংলার টাটকা বাতাসে শ্বাস নিতে
পারছি আমরা। শহরের গতিময় জীবন, দুষিত
বায়ুএখানে নেই। এরকম নির্মল জায়গায় গোটা জীবন কাটাতে পারলে মন্দ কি? ”
ঠাকুরমশাই হেসে বলেন, “বাহ আজকের যুগের ছেলে হয়েও তুমি
গ্রামবাংলার জীবন সমর্থন করো দেখে ভালো লাগলো। তা বাড়ি কোথায় তোমার? ”
কুন্দন মুচকি হেসে বলে, “আটলায়।” ঠাকুরমশাই
অবাক হয়ে বলেন, “বলো কি? সেতো…”
ঠাকুরমশাইকে থামিয়ে কুন্দন হেসে বলে, “আজ্ঞে তাঁর পৈত্রিক ভিটের থেকে আমার বাড়ির
দুরত্ব ততটাই যতটা আপনাদের বাড়ি থেকে
অসীতের বাড়ির।” ঠাকুরমশাই কুন্দনের কাঁধে হাত দিয়ে বলতে যাচ্ছিলেন, “বড়ো
সৌভাগ্য তোমার…! ”
বলতে গিয়েও থমকে গেলেন কুন্দনকে স্পর্শ করে। কিছুক্ষন
ভ্রু কুঁচকে তাকালেন ওর দিকে তারপর নিজেকে সংযত করে নির্মল হেসে কথাটা সম্পুর্ণ
করলেন, “স্বয়ং বামদেবের গ্রামে তোমার জন্ম। তোমায় আশির্বাদ করি তোমার চৈতন্য হোক।”
বলে আচমকা কি একটা মনে পড়ায় বললেন, “দেখেছ কান্ড! আরে এতক্ষন ধরে তোমরা দাঁড়িয়ে
আছো। এসো দাওয়ায় বোসো। আজকে সকালের খাবার
তোমরা আমাদের বাড়িতে খাবে।”
অসীত একটু ইতস্তত করে, “এবাবা কি বলছেন আপনি জেঠু? নানা ওসব কিছু লাগবে না। আমরা
খেয়ে এসেছি। শুধু শুধু জেঠিমার কষ্ট…”
অসীতকে থামিয়ে দেন পুরোহিত সর্বেশ্বর চক্রবর্তী।গম্ভীরগলায় বলেন, “চুপ করো।সেদিনের
পুঁচকে ছোকরা আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে। মুখ
দেখেই বোঝা যাচ্ছে সকাল থেকে কিছু পেটে পড়েনি।
কিছু কষ্ট হবে না। এসো আমার সাথে এসো বলছি।”
বলে অসীতের হাত ধরে দাওয়ায় এনে বসান ঠাকুরমশাই। পেছন
পেছন বাকিরাও আসে। সবার পেছনে থাকে কানাই আর নীলু।কানাই ফিসফিস করে বলে, “
পুরুতটার মেয়েটাকে দেখলি? ” নীলু ফিসফিস করে বলে, “হুম। তবে খবরদার ! আমরা এসেছি
অন্যকাজে ফুর্তি মারাতে নয়। ভৈরবদার কাজ মিটুক তারপর সব হবে।” কানাই উদাস গলায় বলে,
“ গ্রামেও এরকম জিনিস আছে জানলে আগে গ্রামেই আসতাম রে নীলু।”নীলু
গজগজ করে বলে, “আহ তোর ভাট বকাটা থামাবি কানু? তখন থেকে
বকে যাচ্ছিস।একটু থাম না বাল! ” কানাই ফিক করে হেসে এগোয়।
******
১২ই
আগস্ট ২০১৯, ভোর পাঁচটা,শ্রী শ্রী
চন্দ্রকান্ত ভৈরবগিরি মহারাজ আশ্রম, বাণপুর, বর্ধমান
চোখটা একটু লেগে এসেছিল ভৈরবের। আচমকা দরজায় কড়া নাড়ার
শব্দে ঘুম ভাঙে তার। ঘরের ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে পাঁচটা বাজে। তারমানে সে এতক্ষন
স্বপ্ন দেখছিল। উঠে বসে ভৈরব। চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খোলে সে। সামনে বজু
দাঁড়িয়ে। হাত কচলাতে কচলাতে বজু বলে, “প্রভু। কাজ হয়ে গেছে মেয়েটাকে এমন
ভাবে ওর ঘরে শুইয়ে এসেছি কেউ টের পাবে না।এবার আপনার স্নান করে মাকে শয়ন থেকে
তোলার সময় হয়ে গেছে প্রভু।”
ভৈরব মাথা নাড়ে। তারপর বলে, “আশ্রমের সবকটাকে ডেকেছিস?
” বজু মাথা নেড়ে বলে , “আপনি মন্দিরে পুজো শুরু করলেই
সবকটাকে ডাকবো।”
“হুম। তুই এখন যা আমি স্নান করে আসছি। ” বলে দরজা লাগিয়ে দেয় ভৈরব।
ঘন্টাখানেক পরে আশ্রমের নাটমন্দিরে ভক্তদের ভীড় বেড়ে
গেল। পুজো সেরে আরতীর প্রদীপ বজুর হাতে দিয়ে বেরিয়ে এলো ভৈরব। আজ সারাদিন বসার
উপায় নেই। একটু মায়ের প্রসাদ খেয়ে বসতে হবে প্রবচনে। তারপর স্নান সেরে ভক্তগুলোর
প্রসাদের ব্যবস্থা করে খেতে বসবে। সে তারপর দুপুরের বিশ্রাম সেরে সন্ধ্যেবেলায়
সন্ধ্যারতী করে মাকে বিশ্রাম দিয়ে সে বসবে জপে। আজকের কাজগুলো ভাবতে ভাবতে থমকে
দাঁড়ালো ভৈরব। তারপর পিছন ফিরে তাকালো সে।
ভক্তদের ভীড়ের একদম পেছন দিকে গাঁজার কলকেতে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি
মুচকি হাসছে ও কে? এতবছর কেটে গেছে লোকটা
এতটুকু বদলায় নি। ভৈরবকে দেখে হাত নাড়লো সে।ভৈরবের মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে।
দুহাতে চোখ কচলে নিয়ে আবার সেইদিকে তাকালো। নাহ কেউ নেই তো! মনের হবে
হয়তো ভেবে সে নিজের ঘরে গেল।
মায়ের ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করেচায়ের কাপটা নিতেই বজু এসে
বললো, “প্রভু কলকাতা থেকে দুজন বাবু আর কলকাতার খবরের চ্যানেল থেকে
একজন রিপোর্টার ম্যাডাম এসেছেন। দেখে ভীষণ মালদার পার্টি মনে হচ্ছে। ভেতরে
আসতে বলবো? ” ভৈরব মাথা নেড়ে চায়ে চুমুক দিয়ে বললো, “হু আর দরজাটা ভেজিয়ে নিচে দাঁড়িয়ে
দেখবি কেউ উপরে না আসে।”
সারাদিন অনেক শেঠের আনাগোনা লেগে থাকে আশ্রমে। মুলত ওদের
টাকাতেই এই আশ্রম চলে। এই শেঠরাও সেই সেয়ানা। বাইরে থেকে দেখায় কত বড়ো ভক্ত ভেতর
ভেতর এক একজন যে কত বড়ো রাঘব বোয়াল তা ভৈরবই জানে। কোথায় যেন শুনেছিল এই দেশে
সবচেয়ে বড়ো ব্যবসা হলো ধর্মের নামে ব্যবসা। এই ব্যবসায় লোকসান নেই বরং লাভ আছে।
এ দেশে মানুষের কুসংস্কার, বাবাজিদের
প্রতি অগাধ ভক্তি যতদিন থাকবে ততদিন এই ব্যবসা চলবে। ভৈরবও তাই তন্ত্রজ্ঞানার্জন
ছেড়ে এই ব্যবসায় নেমে পড়েছে। নেহাত হটযোগাভ্যাসটা ধরে রেখেছে। অবশ্য লাভের একভাগ
শেঠজিদের ফেরত দিতে হয়। স্থানীয় মিডিয়াকে তুষ্ট রাখতে হয়। আসলে এই ব্যবসাটা দাঁড়িয়ে
আছে ভক্তদের দান, শেঠদের অনুগ্রহ, মিডিয়ার
প্রচার আর মানুষের বিশ্বাসে।
তবে এইসব
কারবারের লেনদেন ভক্তদের সামনে করা যায় না। কারন একে শেঠদের দেওয়া টাকাটা মোটেও
সৎপথের হয় না। তার উপর পুলিশ, ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টতো আছেই। আজকাল আবার নেট
সস্তা হওয়ায় স্টিং অপারেশন বলে কি এক হুজুগ শুরু হয়েছে। গোপনে ভিডিও তুলে ফেসবুক
না কি ছাইবুকে তুলে দেয়।তারপর যত ঝামেলা শুরু হয়। তাই আজকাল ভীষণ সতর্ক থাকে বজু
আর সে। বজু আগে ভালো করে যাচাই করে নেয়
ক্লায়েন্ট পার্টি কে তারপর আসে তার পালা। অবশ্য তার চোখকে ধোকা দেওয়া শক্ত। যদি
সত্যিই মালদার পার্টি হয় তাহলে সে ডিল করে আর যদি ভিডিওবাজ লোক হয় তাহলে পরে… বজুর
কল্যানে মন্দিরের পেছনের বাগানে চারা গজায়। তাদের মধ্যে তেমন মেয়ে হলে তো কথাই
নেই।
এইসব ভাবতে ভাবতে দরজায় টোকা পড়ার শব্দে সম্বিত ফেরে
ভৈরবের। সে সতর্কভাবে সোজা হয়ে বসে। তারপর গলা খাকড়ে বলে, “দরজা খোলা আছে ভেতরে
আসুন।” দরজা খুলে প্রথমে দুজন লোক ঘরে ঢোকে। একজন একটু রোগা, অপরজন বেশ বলিষ্ঠ। বেশ
সম্ভ্রান্ত চেহারা। মনে মনে আশস্থ হয় ভৈরব।যাক এরা ভিডিও পাবলিক নয়। তারপরে যে
মেয়েটা ঢুকলো তাকে দেখে চমকে ওঠে ভৈরব।
আজ পর্যন্ত অনেক মেয়ে দেখেছে সে এত সুন্দর মেয়ে জীবনে
দেখে নি। শুভ্রকাঞ্চনবর্ণা, চশমার পেছনে পদ্মপলাশাক্ষী চোখ দুটো
ঈষৎ চঞ্চল, কোঁচকানো একঢাল চুলখোপা করা,
গলায় শঙ্খের মতো তিনটে ভাজ। মনে মনে বলে উঠলো সে,
“চিত্রিনীপ্রজাতির মেয়ে! ” মেয়েটা স্কিনটাইট জিন্স আর
শার্ট পড়েছে। তাতেই ফুটে উঠেছে মেয়েটার দেহসোষ্ঠব। মেয়েটাকে হা করে দেখতে লাগলো
সে। পাশে বসে থাকা শক্তপোক্ত গড়নের লোকটা বললো,“নমস্কার
আমার নাম অসমঞ্জ সোম। এ আমার ভাই প্রভঞ্জন সোম। আর উনি হলেন স্টার নিউজ এর
রিপোর্টার হৈমন্তী সেন। প্রভঞ্জনের হবু স্ত্রী।”
লোকটার কথায় সম্বিত ফিরলো ভৈরবের। সে লোকটার দিকে ফিরে
বললো, “হুম! বলুন কি ভাবে সাহায্য করতে পারি।”
পাতলা লোকটা হাল্কা কেশে বললো, “আসলে আমাদের গোটা পৃথিবীতে বিজনেস
ছড়িয়ে আছে। ইন্ডিয়াতে আমরা একটা টুরিজম, আর একটা রিসর্ট এর প্ল্যান করেছিলাম।
কিন্তু জমিটা নিয়ে বড়ো প্রবলেম আছে সেটা জানতাম না। লোকাল পুলিশ, লোকাল লিডারদের সাহায্য
নিয়েও লাভ হয় নি।”
“বুঝলাম কিন্তু এতে আমি কি করতে পারি? আমি সাধারন এক সাধু
মাত্র।”
এবার মেয়েটা বলে, “প্লিজ বাবাজি বুঝতেই পারছেন অনেক
কাঠখড় পুড়িয়ে এখানে এসেছি। আপনার তো এখানে অনেক ইনফ্লুয়েন্স আছে। কাইন্ডলি
আমাদের হেল্প করুন। আমরা আপনার এই আশ্রমেও অনেক টাকা অনুদান করতে রাজি আছি।
আমরা কলকাতাতেও আপনার আশ্রমের প্রচার করবো। আপনি তো জানেন মিডিয়ার ক্ষমতা কত।”
তা আর জানে না ভৈরব? হাড়ে হাড়ে চেনে এই রিপোর্টারদের।
তবে এদের দেখে মনে হচ্ছে এরা গাড্ডায় পড়েছে। এদের হেল্প করলে আখেড়েই লাভ। সে
আরামকেদারায় হেলান দিয়ে হেসে বলে, “মা জননী যখন এত করে বলছেন তবে তাই হবে।কিন্তু
আমার তিনটে শর্ত আছে।”
রোগা লোকটা বলে, “শর্ত? তা কি কি শর্ত?”
আরামকেদারায় হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে ভৈরব বলে, “প্রথম শর্ত
হলো জমিটায় রিসর্ট হবে না।হবে একটা আশ্রম। দ্বিতীয় শর্ত প্রথম শর্তটা নাকচ করতেই
পারি যদি রিসর্টের লাভের ৬১% আমাদের আশ্রমে দান বা আপনাদের
কর্পোরেট ভাষায় শেয়ার হিসেবে আসে। তবে এক্ষেত্রে টুরিজমটা আমার আশ্রম কেন্দ্রিক
করতে হবে।মানে ঐ তীর্থক্ষেত্র টাইপ। আর তৃতীয় শর্ত হলো, আপাতত মা জননী কে এখনি
আমার একটা ইন্টারভিউ নিতে হবে। এবং সেটা আমায় দেখাতে হবে। যদি আমি নিশ্চিত হই যে
এটা প্রচার করা যাবে। তবেই হেল্প করবো।”
মেয়েটা একটু হচকিয়ে বল, “মাপ করবেন কিন্তু আমি তো কোনো
ক্যামেরার সরঞ্জাম, ক্যামেরাম্যানকে আনিনি আমার সাথে। আমার এই ফোনে রেকর্ডিংই
ভরসা।”
ভৈরব হেসে বলে, “সে নিয়ে ভাববেন না। সব জোগাড়যন্তর করছি
আমি।ক্যামেরাম্যান, ক্যামেরা সব ব্যবস্থা
হয়ে যাবে। আপনি চিন্তা করবেন না। একমিনিট আজ তো এমনিতেই রাতে পুজোয় বসবো আমি। তখনই
আপনারা চলে আসবেন। জমির মালিক রোজ সন্ধেবেলা আমার আশ্রমে আসে। তার সাথে কথাও বলে
নেবেন। তারপর মা জননীর ইন্টারভিউ হবে। প্রস্তাবটা কেমন? ”
মেয়েটা এতক্ষন মুষড়ে পড়ছিল ভৈরবের প্রস্তাব শুনে মুখটা
আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। লোকগুলোও হাফ ছেড়ে বাঁচে। যেন কোনো বিরাট সমস্যার সমাধান
করে ফেলেছে ও। মেয়েটা মাথা নেড়ে বলে, “রাজি। তা কটায় আসতে হবে? ”
ভৈরব হেসে বলে, “সন্ধ্যারতীর পরেই। এই ধরুন সন্ধ্যা
সাড়ে সাতটায়।”
শক্তপোক্ত লোকটা এবার উঠে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে দেয়
করমর্দনের উদ্দেশ্যে। হেসে বলে, “ডান! তবে ঐ কথাই রইলো। আজ রাত সাড়ে
সাতটায় আসবো।”
ভৈরব জবাবে হাত জোড় করে নমস্কার করে। ওরা তিনজন বেরিয়ে
যাবার পর বজু ঘরে ঢোকে। ভৈরব অলসচোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলে, “কি বুঝলি? ” বজু হেসে
বলে, “মালদার পার্টি প্রভু। বড়ো দাও মেরেছ এবার।” ভৈরব বলে, “আর? ” বজু এবার বলে,
“আর কি? ” ভৈরব বলে, “ গুরুদেব বলতেন টাকা ছাইয়ের দলা। যত ওড়াবে তত উড়বে। আমি
সেটা নিয়ে ভাবছি না। ভাবছি ওকে নিয়ে।” বজু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে দেখে
বিরক্ত হয়ে ভৈরব বলে, “ওরে এখনও বুঝলি না? বেশ শোন মনে হয় তোদের আশ্রমের গুরুমার খোঁজ আমি
পেয়ে গেছি।আর আমায় মাতৃসাধনার জন্য পঞ্চমকার পুজোর আধার খুঁজতে হবে না তোকে। তোদের
গুরুমা হবে ঐ একটু আগে যে গেল সে। ”
বজু এবার বুঝতে পেরে খিকখিক করেহেসে বলে, “কে ঐ
রিপোর্টারটা? তা যা বলেছেন মাল কিন্তু খুব
চাম্পি।বুক আর পেছনটা পুরো…”
বজুকে সম্পুর্ণ কথাটা না বলতে দিয়ে দুটো আঙুলে বজুর
টুঁটি চিপে ধরে ভৈরব। হিসহিসে গলায় বলে, “খবরদার! মেয়েটার সম্বন্ধে একটাও বাজে কথা তোর মুখ থেকে
শুনলে তোরও ঐ জবাবাগানে ঠাই হবে বলে দিলাম। ও শুধু আমার হবে। আমার। চিত্রিনী নারী
সাক্ষাত মায়ের আধার। এতদিনে মা মুখ তুলে চেয়েছেন। ঐ মেয়ে আর কারো হবে না। আমি হতে
দেব না। দেবভোগ্যা কন্যে ও ।ওকে আমিই বিবাহ করবো। তারপর আবার আমি আমার শক্তি ফিরে
পাবো। আবার হবো আমি অপরাজেয়। আজ অর্থসামর্থ্য প্রতিপত্তি থাকলেও আমি প্রকৃত
শক্তিমান নই।কেবল হটযোগদ্বারা আজ ভক্তদের চমৎকার দেখাতে হয়। একটা হাতসাফাইবাজ আর
আমার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। তবে আর আমায় এভাবে কাটাতে হবে না। এরপর আমিই হবো
সর্বেসর্বা। তন্ত্রের সব ক্ষেত্রে হবো বলিয়ান। সমগ্র বিশ্ব পদানত হবে এই ঈশ্বরের
কাছে।”
বজুর প্রায় প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কোনোমতে চিঁচিঁ করে
বললো, “ক্ষমা করুন প্রভু আর হবে না ছাড়ুন।আমি মরে যাবো।” বজুকে ছেড়ে দেয় ভৈরব।
খাবি খেতে খেতে হাটু গেড়ে বসে পড়ে বজু। কোনোমতে নিজেকে সামলে বলে, “কিন্তু
গুরুমা আসবেন কেন। আর ঐ লোক দুটো গুরুমাকে ছেড়ে দেবেই বা কেন? ”
একটা কুটিল হাসি হেসে ভৈরব বলে, “আসবে আসবে একটা ফন্দি
এটেছি।না এসে পারবে না সে। শোন…” বলে বজুর কানে ফিসফিস করে বলে। বজু প্রথমে চমকে
যায়।লোকটা এতটা ধুর্ত? তা হবে নাই বা কেন? এই সাম্রাজ্য চালাতে হলে ধুর্ত হতেই হবে। পুরোটা
শুনে সেও শেয়ালের মতো হেসে ওঠে। ভৈরব বলে, “বুঝলি
তো? সব ঠিকঠাক পারবি? ” বজু মাথা
নেড়ে হেসে বলে, “একদম। চিন্তা করবেন না হয়ে যাবে।” ভৈরব
বলে, “বেশ তাহলে কাজে লেগে পড়। আমায় এখন দরবারে যেতে হবে। হাতে সময় কমকাজ বেশী।
শুভস্য শীঘ্রম। আজ রাত আটটায় কাজ শুরু হবে। জয় মা রঙ্কিনীদেবীর জয়।” বজুও হাত জোড়
করে কপালে ঠেকিয়ে বলে, “জয় মা রঙ্কিনীদেবীর জয়।”
******
১২ই
আগস্ট ২০১৯, রাত আটটা, শ্রী শ্রী
চন্দ্রকান্ত ভৈরবগিরি মহারাজ আশ্রম, বাণপুর, বর্ধমান
সন্ধেবেলায় সন্ধ্যারতী সারার পর ভৈরবের ঘরেই কথাবার্তা
হলো সবার। অসমঞ্জবাবুর বলা জমিটার মালিকভৈরবেরই একজন বড়ো ভক্ত। তাকে সন্ধ্যারতীর
পর ডেকে পাঠাতেই বেচারা ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। মিটিংয়ে তো পারলে অসমঞ্জবাবুর পায়ে পড়ে
ক্ষমা চায় সে । অনেক কষ্টে তাকে সামলান অসমঞ্জবাবু। কথাবার্তা পাকা হয়ে ডিল হয়
কুড়ি কোটিটাকায়। অসমঞ্জবাবু চেকে পেমেন্ট করেন টাকাটা। লোকটা চেক নিয়ে বেরিয়ে
যাবার পরমুচকি হাসে ভৈরব। হেসে বলে, “কি বুঝলেন?”
“আনবিলিভেবল আপনার তো দেখছি মারাত্মক ইনফ্লুয়েন্স! সকালে
আপনার প্রস্তাব নিয়ে একটু সন্দিহান ছিলাম। মনে হচ্ছিল বৌমা মিছিমিছি রাজি হলো। নাহ
আর কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের আপনার মতোই পার্টনার দরকার। দেখুন বাবাজি। আমাদের টাকা
পয়সা অঢেল থাকলেও যেটা নেই সেটা হলো লোকবল। আপনার সেটাও আছে।তো কি বলেন
পার্টনারশিপে রাজি? ”
অসমঞ্জবাবু উচ্ছসিত হয়ে হাত বাড়ান। ভৈরব হেসে বলে, “রাজি।”
বলে হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে। প্রভঞ্জন, হৈমন্তীকেও খুশি দেখায়।
প্রভঞ্জন হেসে বলে, “আজকের এই খুশির দিনটাকে সেলিব্রেট
করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আপনার এখানে তো মনে হয় মদ টদ পাওয়া যায় না।” ভৈরব হাসে , “কে বললো পাওয়া যায় না? মায়ের
পুজোয় কারণবারি তো আনুষঙ্গিক জিনিস। আমিও খাই তবে ঘুমোনোর আগে জপ সেরে।তবে আজ
আপনাদের সাথেই খাবো।তার আগে আমার সাথে আসুন।” বলে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে ভৈরব।
পেছনে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর পেছন পেছন তিনজন বেরিয়ে আসেন।
ভৈরব হাটতে হাটতে বারান্দার ধারে ঠাকুরঘরের সামনে দাঁড়ায়। অসমঞ্জবাবু এগিয়ে এসে বলেন, “ব্যাপার কি?
এতো ঠাকুরঘর! ” ভৈরব হেসে বলে, “ হুম। এখানেই আমি রাতের
জপ করি। আপনারা আমার সুহৃদ, আমার পার্টনার। কথায় আছে কোনো শুভকাজ শুরুর আগে
ভগবানের কাছে পুজো দিতে হয়। আজ আমাদের এই বন্ধুত্বের শুভসূচনায় মায়ের কাছে
আশীর্বাদ নেবো না? আমি জানি আপনারা বড়োলোক, বিদেশে থাকেন, বিজ্ঞানমনস্ক ভগবানে নয় কর্মে
বিশ্বাস করেন। কিন্তু আমি পুরোনোদিনের মানুষ তায় আবার সন্ন্যাসী তাছাড়া এ নিয়েই
কারবার বুঝতেই পারছেন।”
প্রভঞ্জনবাবু এগিয়ে এসে বললেন, “বুঝতে পেরেছি
কিন্তু…” হৈমন্তী হেসে
বলে, “আহা উনি যখন এত করে বলছেন চলোই না।আর কথাটা উনি মন্দ বলেন নি।সত্যিই তো আগে
শুভকাজে মায়েরা পুজো দিতেন। তাছাড়া এতে ওনার যেমন প্রচার হবে আমাদেরও একটা লাভ
হবে।”
অসমঞ্জবাবু চিন্তিত গলায় বলেন, “লাভ? কিসের
লাভ? ” হৈমন্তী বলে, “ওনার পাবলিকের উপর কতটা ইমপ্যাক্ট দেখতে পারছো? এরপর যদি
এখানকার পাবলিক জানতে পারে যে উই আর ক্লোজ টু ইচ আদার্স। এই জায়গায় কোনো প্রবলেম
হবে না।” ভৈরব হেসে বলে, “মা জননী আমার ভীষণ বুদ্ধিমতি। আমি আপনাদের লাভের জন্যই
বলছি। আপনাদের ক্ষতি হোক সেটা আমি চাই না।” অসমঞ্জ
চিন্তিত গলায় বলেন, “বেশ তবে চলুন।”
ভৈরব হেসে বলে, “জুতোগুলো এখানেই খুলে রাখুন। ভয় নেই
আমার আশ্রমে চোর আসে না।” বলে ঠাকুরঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। প্রভঞ্জনরা সেখানেই
জুতো খুলে পেছন পেছন ঢোকেন। ঠাকুরঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শিঁউড়ে ওঠেন তিনজনে। ভৈরব
হেসে বলে, “ভয় পাবেন না। মা আমার দেখতে ভয়ংকরী ঠিকই কিন্তু ভীষণ
কৃপাময়ী। ওটা ওনার বাহ্যিক রূপ। ভেতরে মা
ভক্তবৎসলা। আপনারা বাইরে দাঁড়িয়ে কেন? ভেতরে আসুন।”
ওরা ভেতরে আসার পর ভৈরব দরজা ভেজিয়ে পুজো শুরু করে। একে
একে পুজোর সমস্ত রীতি মানার পর যজ্ঞকুন্ডে কাঠ সাজিয়ে ভৈরব বলে, “আসুন মা জননী, আসুন অসমঞ্জবাবু আজ আপনাদের
কার্যসিদ্ধি আর আমাদের এই অটুট পার্টনারশিপের উপলক্ষ্যে যজ্ঞটা
সেরে ফেলি। এতে যেমন আমাদের উপর মায়ের কৃপা হবে তেমনই এই
সম্পর্কও অটুট হবে। ” বলে ভৈরব যজ্ঞটা শুরু করে।
“ওঁ ঐং ফট ষটকর্মণে স্বাহা।” বলে আগুন জ্বালিয়ে ঘৃতাহুতি
দেয় ভৈরব। এবং একশো আটবার ঘৃতাহুতির পর যজ্ঞাহুতির জন্য বেলপাতা ঘিয়ে মাখিয়ে
অসমঞ্জ ও প্রভঞ্জনবাবুকে দিতে বলে। এবং নিজেও দিতে থাকে। এই ভাবে যজ্ঞাহুতি দেওয়ায়
সকলে আগুনের দিকে খেয়াল করায় কেউ দেখতে পায়নি একটা জিনিস। অথচ খেয়াল করলে দেখতে
পেতো যে পলকের মধ্যে যজ্ঞচলাকালিন একটা ট্যাবলেট ঘিয়ের পাত্রে মিশিয়ে দিয়েছে ভৈরব।
ক্রমশ যজ্ঞাহুতি শেষ হবার পর পাত্রের সমগ্র ঘি যজ্ঞাগ্নীতে
ঢেলে দেওয়ার সাথে সাথে প্রচন্ড ধোঁয়ায় ঘরটা ভরে যায়। একটা
মিষ্টি চিনচিনে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ঘরে। ক্রমশ সে ধোঁয়ায় গন্ধে
আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ওরা তিনজন। অসমঞ্জ এবং প্রভঞ্জন লুটিয়ে
পড়েন মাটিতে। হৈমন্তী অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবার আগে ভৈরব
ওকে ধরে ফেলে একটু হাসে। যজ্ঞের স্থিমিত আগুনে সেই হাসি ভীষণ পৈশাচিক মনে হয়।
কিছুক্ষণ হেসে মনে মনে বলে, “কার্য
সম্পুর্ণ। যতটা কঠিন ভেবেছিলাম ততটাও কঠিন হলো না তোমার জন্য। এত সহজে তুমি আমার
মুঠোয় চলে এলে। নাহ মা আছেন। এইবার এই দুটোকে ঠিকানায় পৌছে দিলেই শান্তি। আজ থেকে
তুমি আমার।এতদিন পর যোগ্যসাধনসঙ্গিনী পেয়েছি।এত সহজে তো ছাড়বো না। তবে আজ নয়।
আগামী অমাবস্যায় হবে তোমার অভিষেক। ততদিন তোমায় স্পর্শ করবো না।তবে তার আগে…” বলে যজ্ঞ থেকে উঠে হৈমন্তীকে কোলে তুলতে যাবে এমন সময় মুর্তি পেছন থেকে
একটা মৃদুমন্দ্রস্বর বলে ওঠে…“ ছলেবলে কৌশলে
নারী হরণ করে ভোগ করার অভ্যেস এখনো গেল না দেখছি। এত শাস্তির পর দেখছি শুধরোবে
না তুমি।”
চমকে সামনের দিকে তাকায় ভৈরব। এতক্ষন কুম্ভক প্রক্রিয়ায়
শ্বাসবায়ু আটকেছিল। সামনের আগন্তুককে দেখে চরম আতঙ্কে ফোঁস করে নিঃশ্বাস বেরিয়ে
যায় তার। এতো সেই সন্ন্যাসীর চেলাটা! আগন্তুক একটু শ্বাস নিয়ে বলে, "হুম!
গাঁজা, আফিং আর অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়েছ। যাতে শত্রু সহজে অজ্ঞান হয়ে কাবু হয়ে
যায়। কিন্তু এই সব অস্ত্র দিয়ে আমায় কাবু করতে পারবে মনে হয় তোমার? নেহাত গুরুদেব
দয়া করে হঠযোগটা কেড়ে নেন নি কিন্তু আমি তো গুরুদেব নই ভৈরব। আমি আরো ভয়ংকর।”
ভৈরবের মনে হয় লোকটা যেন ওর মাথার ভেতর থেকে কথা বলছে।
তার উপর কুম্ভক প্রক্রিয়া ভগ্ন হয়ে মিষ্টি গন্ধটা তার নাকে লাগছে। ক্রমশ আচ্ছন্ন
হয়ে পড়ছে সে। হাটুদুটো অবশ হয়ে গেছে। পায়ে জোর নেই সে মাটিতে বসে নেশাছন্ন গলায়
ডাকে, “বজু! ” তারপর লুটিয়ে পড়ে। অজ্ঞান হবার আগে সে শুনতে পায় লোকটা ফোন বের
করে কাকে ফোন করে বলছে, “ কাজ হয়ে গেছে। অ্যাম্বুলেন্সে
খবর দিয়ে ঘরে চলে এসো রণি। তবে সাবধান মাস্ক পড়ে এসো। গোটা ঘরে মাদকদ্রব্যের
ধোঁয়ায় ভর্তি। এ ধোঁয়া একবার বুকে ঢুকলে দুদিনের আগে জ্ঞান ফিরবে না।”
(চলবে...)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এখানে মন্তব্য করুন