এ
কাহিনী আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের। তখনও শহুরে আধুনিকতা, বিদ্যুতের আলো গ্রামাঞ্চলে সব জায়গায় এসে
পৌঁছায়নি। লোকজন তখনও রাতের বেলা লন্ঠন, কুপির আলো ব্যবহার
করতো। সাধারণ জীবনযাপন করতো। দিনে দুবেলা দুমুঠো ভাত আর দুটো মোটা কাপড়ে তাদের
চলে যেত। যারা কর্মঠ ছিল তাদের চলে গিয়েছিল শহরে কারখানায় কাজ করতে। অল্প সংখ্যক
লোকেরা থেকে গিয়েছিল গ্রামেই। তারা চাষবাস করে কোনোক্রমে খরচ চালাত।
এই
সময় মানুষজনের ভগবানের প্রতি, সাধুদের প্রতি ভক্তি ছিল নিখাঁদ। তারা সাধুসন্তদের ভক্তিশ্রদ্ধা করতো।
তাঁদের সম্মানের আসনে বসাতো। এরকমই এক সাধু ছিলেন হলদিবাড়ির ধর্মানন্দ মহারাজ।
প্রচলিত ছিল ধর্মানন্দ মহারাজের কাছে কেউ গেলে খালি হাতে ফিরতো না। ধর্মানন্দের
কৃপায় তাদের সব মনোবাঞ্ছা পূরণ হতো। কালক্রমে একদিন ধর্মানন্দ বৃদ্ধ হলেন। ধীরে
ধীরে দেহত্যাগের সময় এলে তাঁর একান্ত প্রিয় দুই শিষ্যকে আশ্রমের দায়িত্ব প্রদান
করে অগণিত ভক্তদের কাঁদিয়ে দেহত্যাগ করলেন তিনি।
গুরুদেবের
মৃত্যুর পর তাঁর দুই শিষ্য চন্দ্র ও রণদা দুজনে যথাক্রমে চন্দ্রধর ও রণদানন্দ নাম
গ্রহণ করে আশ্রমের দায়িত্ব নিলেন। চন্দ্রধরের বরাবর ঈশ্বর চিন্তায় মন ছিল। তাই
তিনি আশ্রমে জপতপ, যজ্ঞ পুজাদির পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। অপরদিকে রণদানন্দ বৈষয়িক
বুদ্ধিসম্পন্ন এবং ভক্তদের নয়নের মণি হওয়ায় ভক্তদের
দীক্ষাদান, ও আশ্রমের বাহ্যিক সুরক্ষা ও পরিচালনের দায়িত্ব
নিলেন। দুই শিষ্যের নিষ্ঠায়, ও ব্যবহারে মুগ্ধ হল সমগ্র
আশ্রমের সদস্য তথা ভক্তকুল। যথারীতি ধর্মানন্দের চেয়েও বেশি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এই
দুই শিষ্যের।
এরকমই একদিন আশ্রমে বসে গুরুমন্ত্র জপ করছিলেন চন্দ্রধর
হঠাৎ এক শিষ্য এসে খবর দিল জ্যোতিষী তর্কবাচস্পতির সাথে জলপাইগুড়ির চক্রবর্তী
পরিবারের কর্তা তাদের নতুন পুত্রবধূকে নিয়ে এসেছেন। বিশ্রামাগারে তারা বিশ্রাম
করছেন। দুই গুরুদেবের মধ্যে একজনের তারা দর্শন করতে চান।
কথাটা
শোনামাত্র চন্দ্রধরের মনে পড়ে গেল কয়েক মাস আগের কথা। কয়েকমাস আগে একটা পুজো
উপলক্ষে আশ্রমে ভক্তসমাগম চলাকালীন এক প্রৌঢ় তার পায়ে উপর পড়ে কেঁদে ফেলেছিল।
কিছুতেই উঠছিল না। পোশাকআশাক দেখে দরিদ্র ব্রাহ্মণ মনে হয়েছিল তার। পরে ভক্তদের
ভীড় কমার পর তার কক্ষে আলাপ হয়েছিল তর্কবাচস্পতিদের সাথে। তখনই জানতে পেরেছিলেন
পুরো ঘটনাটা। জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম ধনী পরিবার হলেন চক্রবর্তীরা। শহরের বুকে
বড়োসড়ো কাপড়ের কারবার তাদের। জলপাইগুড়ি তো বটে কলকাতা বোম্বেতেও তাদের কাপড়
যায়। এই চক্রবর্তীদের বর্তমান কর্তা বেনীমাধব চক্রবর্তীর কনিষ্ঠপুত্র সোমব্রতর
বিবাহ স্থির হয়েছে নদীয়া নিবাসী জগমোহন ভট্টাচার্যের জ্যেষ্ঠ কন্যা ময়নার সাথে।
*****
জগমোহন
গরীব ব্রাহ্মণ। যজমানি আর গ্রামের মন্দিরে পুজো করে তার অতি কষ্টে দিন কাটে।
বাড়িতে আছে তার স্ত্রী আর দুই কন্যা ময়না ও অহনা। বড়ো মেয়ে ময়নাকে নবদ্বীপের
রাইরাজা উৎসবে দেখেছিল সোমব্রত। প্রথম দেখাতেই মন দিয়ে ফেলেছে সে। উৎসব শেষে খোঁজ
খবর নিয়ে সে একদিন পিতাকে নিয়ে হাজির হয় জগমোহনের বাড়িতে। জগমোহনকে প্রস্তাব দেয় ময়নার
সাথে তার বিয়ে দেওয়ার জন্য।
জগমোহন
গরীব মানুষ, মেয়ের বিয়ের চিন্তা নিয়ে এমনিতেই জেরবার ছিল সে। হঠাৎ এরকম প্রস্তাবে সে
প্রথমে বিহ্বল হলেও পরে রাজি হয়ে যায়। দুই বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। একসময়
দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে জগমোহন চলে আসে জলপাইগুড়িতে। বেনীমাধবের পৃষ্ঠপোষকতায়
শুরু করে যজমানির কাজ। এদিকে বর-কনে দুজনের কুষ্ঠি বিচার করতে বেনীমাধব কলকাতা
থেকে নিয়ে আসেন তর্কবাচস্পতিকে। আর সেখানেই ঘটে অঘটন।
কুষ্ঠিবিচার
করে জ্যোতিষী জানান ময়নার জন্মছকে কিছু দোষ আছে। সেটাই বিয়ের বড়ো বাধা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। এবার দোষ কাটাতে না পারলে সোমব্রতর সমূহ বিপদ হতে পারে। যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব এই বাধা কাটাতে হবে। সবটা শোনার পর বিয়েবাড়িতে নেমে এল শ্মশানের নিস্তব্ধতা।
বিশেষ করে জগমোহনের মাথায় যেন বাজ পড়ল। সে বেচারা কত স্বপ্ন দেখেছিল মেয়েকে নিয়ে।
এখন এত বড়ো সর্বনাশের কথা শোনার পর যেন ওর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। সে
ঝাঁপিয়ে পড়ল জ্যোতিষীর পায়ের উপর। হাউমাউ করে কেঁদে বিচার চাইল। এদিকে সোমব্রত
জানাল বিয়ে করলে সে ময়নাকেই করবে। বেনীমাধব কনিষ্ঠপুত্রকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন
বলেই হয়তো ছেলের আবদার ফেলতে পারলেন না। তিনিও উপায় জানতে চাইলেন। জ্যোতিষী
জানালেন এর উপায় একমাত্র জানতেন ধর্মানন্দ। কিন্তু তিনি বর্তমানে দেহ রেখেছেন।
তাঁর অবর্তমানে তার দুই শিষ্যই পারেন সমাধান করতে। সেই কারণেই আশ্রমে ওদের আগমন।
ঘটনাটা
শুনতে শুনতে সমাধান করে ফেলেছিলেন চন্দ্রধর। বেশি কিছু না, একটা স্বস্ত্যয়ন করে সেই যজ্ঞাবশেষ একটা
মাদুলিতে নিয়ে পরলেই কেটে যাবে। সেটাই বলে এদেরকে রণদার কাছে পাঠাতেন, কিন্তু সোমব্রতের জেদের কথা শুনে থমকে গেলেন তিনি। ছেলেটা কী এমন দেখল
মেয়েটার মধ্যে যে চরম বিপদের পরেও বিয়ে করতে চাইছে? কী এমন আছে
মেয়েটার মধ্যে? কথাটা মনে আসতেই তিনি কৌতুহলবশত দেখতে
চাইলেন ময়নাকে। অজুহাত হিসেবে বললেন ময়নাকে দেখলে বিপদের গুরুত্বটা আন্দাজ করতে
পারবেন তিনি। বেনীমাধব জানালেন তারা পাত্রপাত্রী দুজনকেই নিয়ে এসেছেন আশীর্বাদের
জন্য। বলে দরজার কাছে গিয়ে একটু গলা খাকড়াতেই একটা যুগল দেখা দিল। আর সেই যুগলের
মধ্যে নারীমুর্তির দিকে তাকাতেই চমকে গেলেন চন্দ্রধর। পরক্ষণে নিজেকে সামলে চন্দ্রধর বলে উঠলেন, “আরে! এরা তো নেহাতই বাচ্চা! এখনই সংসার করবে
কী করে? তা হ্যা গো জগমোহন মেয়ের বয়স কতো?” জগমোহন হাত কচলে জানালো, “মিথ্যে বলবো না গুরুদেব।
তবে মেয়েমানুষের অল্পবয়সে বিয়ে হওয়াই ভালো। তাও তো ওকে নিজের বুকে আগলে রেখেছিলাম
অনেকদিন। এই ফাল্গুনে আঠেরোতে পড়লো।”
— বেশ বেশ! তা কই হে! দূরে দাঁড়িয়ে কেন? এসো! আমার
সামনে এসো।
বলতেই
দুজনে এসে চন্দ্রধরের পা স্পর্শ করতেই স্নেহময় পিতার মতো দুজনের মাথায় হাত রেখে
চন্দ্রধর বললেন, “মঙ্গল হোক! তোমাদের জুটি শিব-পার্বতীর মতো অক্ষয় হোক। আর ভয় নেই সব বিপদ
কেটে যাবে। এখন যাও দুজনে গিয়ে ভোগপ্রসাদ খেয়ে এসো। রণদা, প্রসাদের
সময় হয়ে এল। যাও সকলকে নিয়ে ভোগগৃহে বসাও। আমি আসছি। ” কথাটা
শুনে রণদা বেরিয়ে গেলেন দুজনকে নিয়ে। চন্দ্রধর বসলেন তার আসনে ততক্ষণে তিনি তার পরবর্তী
পরিকল্পনা ভেবে ফেলেছেন। যে করেই হোক মেয়েটাকে তার চাই। আসনে বসে চন্দ্রধর জানালেন,
“দেখুন চক্রবর্তী মশাই ব্যাপারটা সত্যিই গুরুতর হলেও আশার আলো আছে।
তর্কবাচস্পতি যা বলেছেন তা সত্য হলেও অতটা ভয়ের কিছু নেই। তবে দুটো কাজ করতে হবে। আপাতত
স্বস্ত্যয়ন করে দুটো মাদুলি দেবো আপনাদের। বর কনেকে সেটা পড়ে থাকতে হবে প্রথম
সন্তান জন্মের আগে পর্যন্ত। এতে প্রাথমিক বাধা কেটে যাবে। তবে জগমোহনের মেয়েকে
দেখে যা বুঝলাম ও মেয়ে বেহুলার ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে। হাজার সাবধানতা থাকলেও
কালরাত্রীতেই একটা ভয় থেকে যাচ্ছে।”
এইটুকু
বলে থামলেন চন্দ্রধর। জগমোহনের অবস্থা তখন শোচনীয়। এই একটু আগে বিপদ কাটাবার জন্য
মাদুলির কথা শুনে নিশ্চিন্ত হলেও বর্তমানে আবার অন্ধকার নেমেছে মুখে। তর্কবাচস্পতি
মাথা নেড়ে বললেন, “ঠিক তাই! ও মেয়ে মহাসতী। মহাপুরুষের আশীর্বাদে জন্ম ওর। ওকে বিয়ে করলে
চক্রবর্তীমশাইদের উন্নতির সীমা থাকবে না। কিন্তু ঐ বাধাটাই যা ঝামেলা করছে। সে কারণেই
আমরা এসেছি আপনার কাছে। দয়া করে একটা সমাধান করে দিন আপনি!”
— আপনারা ভুল করছেন। আমি ঈশ্বর নই। বাঁচা-মরা সবই তাঁর হাতে। তিনিই সমস্যা
দিয়ে পরীক্ষা নেন। আবার তিনিই সমাধান করান। আমরা তো নিমিত্ত মাত্র। তবে একটা কাজ
করা যেতে পারে। তবে তার আগে আপনাদের অনুমতি চাই।
বেনীমাধব
মাথা নেড়ে বললেন, “কী রকম অনুমতি?” চন্দ্রধর হেসে বললেন, “খারাপভাবে নেবেন না। ময়নাকে কিন্তু আমি মেয়ের চোখে দেখেছি।”
— সে তো বুঝলাম কীসের অনুমতি চাইছেন?
— আসলে ময়নার যে বিপদ সেটা কাটাতে হলে ওকে একটা বিশেষ পুজোয় বসতে হবে।
পুজোটা হবে কালরাত্রীর রাতে। সেদিন সারারাত ওকে পুজোয় সংকল্প নিয়ে বসতে হবে।
— বেশ তো! বসুন না! এতে অসুবিধে কোথায়?
— অসুবিধে আছে বলেই তো আমি কুন্ঠিত। আসলে ঐ পুজোর সময় পুজাগৃহে পুরোহিত আর
যিনি পুজোর সংকল্প নিয়েছেন তাদের বাদে ভিন্ন ব্যক্তির থাকা নিষেধ। তা সে যেই হোক
না কেন। মানে ঘরে শুধু আমি, রণদা আর ময়না থাকবে। ঘরের দোর
বন্ধ করে সমগ্র রাত জুড়ে পুজোটা হবে। তবে আমি আশ্বাস দিতে পারি ময়নার বিন্দুমাত্র
ক্ষতি হবে না। ওকে আমি কন্যারূপে দেখেছি যখন এতটুকু নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
কথাটা
শেষ করামাত্র যেন ঘরের ভেতর নেমে এল গভীর নিস্তব্ধতা। যেন পিন পড়লেও শোনা যাবে।
জগমোহন স্থবির হয়ে বসে রইল ওর জায়গায়। বেচারী ওর সর্বনাশের সমাধান চাইতে এসেছিল।
এত বড়ো বিপদের মুখে পড়ে যাবে ভাবতে পারেনি। বেনীমাধবের ভ্রু কুঁচকে রইল। তিনি
ঢোক গিলে বললেন, “এর মানেটা আপনি বুঝতে পারছেন?”
— বুঝতে পারছি বলেই তো অনুমতি চাইছি।
— যদি না বলি?
— তাহলে আর কি? ওদের বিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করুন চরম
সর্বনাশের। যদি কালরাত্রীতে আপনার ছেলে বেঁচে যায় তাহলে দীর্ঘায়ু হবে। যদিও বাঁচার
সম্ভাবনা কম।
— তাই বলে চক্রবর্তী বংশের বউ একরাত পরপুরুষের সাথে...
— সাবধান! আপনি যে অর্থে কথাটা বলছেন সেটা এখানে খাটে না চক্রবর্তী মশাই!
এটা আশ্রম, এখানে প্রায় সকলেই ব্রহ্মচর্য ব্রত ধারণ করেছে।
হ্যা যদি আমি কোনো কাপালিক বা তান্ত্রিক হতাম তাহলে হয়তো ভয়ের কারণ হতে পারতো
আপনার। তাছাড়া ওকে আমি মেয়ের চোখে দেখেছি। একজন পিতা তার কন্যাকে কী করে... কথাটা
ভাবতে একবারও লজ্জা করলো না আপনার?
হিসহিসে
কণ্ঠে কথাগুলো বলে থামলেন চন্দ্রধর। তর্কবাচস্পতি
একবার চেষ্টা করলেন, “আর কোনো পথ নেই?”
— ক্ষমা করবেন! এছাড়া আর কোনো পথ নেই। কিন্তু যা দেখছি চক্রবর্তী মশাই
আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এ অবস্থায় আর কিছু করার নেই। মানুষ যদি মানুষকে
সামান্য বিশ্বাস না করতে পারে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আপনারা আসতে পারেন। ফেরার
আগে ভোগপ্রসাদ খেয়ে যাবেন।
বলে
আসন থেকে নেমে চন্দ্রধর দরজার দিকে এগোতে যাবেন এমন সময় শুনতে পেলেন চক্রবর্তী
মশাই বলছেন, “আমি রাজি! শুধু কথা দিন আমার বউমা...”
— অক্ষত ও কুমারী থাকবে। ওকে আমরা কেউ স্পর্শ পর্যন্ত করবো না এইটুকু আশ্বাস
দিলাম।
চক্রবর্তীমশাই
কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “বেশ! তবে তাই হোক।”
বলে জগমোহনদের নিয়ে বেরিয়ে গেলেন আশ্রম থেকে। চন্দ্রধর বসে বসে তাদের যেতে দেখে
মুচকি হেসে উঠলেন। অবশেষে অনেকদিন পর তার অভীষ্ট পূরণ হল। এতদিনে সাধনসঙ্গিনীর
দেখা পেলেন তিনি। চোখ বুঁজে মেয়েটার মুখ মনে করার চেষ্টা করলেন তিনি। লম্বায় তার বুকের কাছাকাছি হবে মেয়েটা।
শ্বেতশুভ্র বর্ণ দেহের। টানা টানা পদ্মের মতো চোখ, আর্যনারীদের মতো লম্বা টিকালো নাক, ফুলের পাপড়ির মতো ঠোঁট, কণ্ঠায় দুটো শঙ্খের ন্যায়
দাগ। ক্ষীণ কোমর, বেলফলের মতো স্তনযুগল! এ যেন কালিদাসের
বর্ণনা করা সাক্ষাত কোনো অপ্সরা বাঙালী সাজে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে! সোমব্রতের
নজরের তারিফ না করে পারলেন না তিনি। কোনো সন্দেহ নেই, একেবারে
খাসা হীরে তুলেছে ছেলে, কিন্তু এই কন্যা যে সংসারের জন্য নয়!
এ কন্যা যে দেবভোগ্যা! সাধনসঙ্গিনী হবার উপযুক্ত গুণ এর মধ্যে! যদি সাধনসঙ্গিনী
নাও হয় তাও এর গর্ভে যে জন্ম নেবে সে মহাতেজস্বী আর ক্ষণজন্মা হয়ে জন্মাবে। এই
মেয়েকেই তার চাই! একে কিছুতেই চক্রবর্তীদের বঁধু হতে দেওয়া যাবে না। এই মেয়ের উপর
একমাত্র তারই অধিকার থাকবে! ঈশ্বরের কৃপায় আশ্রমের ভাঁড়ার ভরে উঠলেও চন্দ্রধরের মনে শান্তি ছিল না। পিতার মৃত্যুর পর প্রায়
চারবছর কেটে গেলেও তিনি প্রকৃত সাধনসঙ্গিনীর সন্ধান পাননি। এই চারবছরে তিনি আর
রণদা একাধিক নারীকে ভোগ করেছেন। কিন্তু কারো মধ্যেই সেই সুখ পাননি তিনি। রণদাকে
বলে লাভ নেই। সে বৈষয়িক মানুষ, বাবার মতোই বাছবিচার নেই তার।
দিনের শেষে ঘরে একাধিক অর্থ আর বিছানায় একটা সোমত্ত মেয়েমানুষ হলেই হয়ে যায় তার।
কিন্তু তিনি অন্য ধাতুতে গড়া। নারীদেহে তার মোহ থাকলেও আসক্তি নেই। তার চাই প্রকৃত সাধনসঙ্গিনী। এত দিনে বোধহয় সেই অভাবটাও পূরণ হতে
চলেছে।
*****
এই পর্যন্ত বলে
থামল ব্যোমকেশ। আমরা সকলে আজ অনেকদিন পর হাজির হয়েছি বালুর বাড়িতে। চা সহযোগে
পুরোনো দিনের কথা বলতে বলতে ব্যোমকেশ ওর জীবনের প্রথমদিকের এক গল্প বলতে শুরু
করেছিল। ব্যোমকেশ থামতেই আমি বললাম, “এক সেকেন্ড! এই তুমি বললে চন্দ্রধর নাকি সেই
ধার্মিক মানুষ। তো তার মধ্যে…মানে।”
কথাটা শুনে
মুচকি হেসে বলল, “ওরা অন্তত এই বিশ্বাসটাই ভক্তদের মনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
আজকালকার ভাষায় যেটাকে ইমেজ বলে। ভক্তদের মনে সেটাই তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। সাধুর বেশে থাকা ধর্মানন্দ বাস্তবে
ছিলেন দুরাচারী, অর্থলিপ্সু ও প্রচণ্ড কামুক। সন্তানহীনা কত
নারীকে যে তিনি পুজোর নামে ভোগ করেছেন তার হিসেব নেই। এমনকি আশ্রমের আবাসিক
মহিলারাও বাদ যায়নি তার কাম ক্ষুধাগ্নির থেকে। আশ্রমের ভেতরের লোকদের কাছে
কানাঘুষো শোনা যায় চন্দ্রধর আর রণদানন্দ আর কেউ নয়, তার আপন
সন্তান। হয়তো সে কারণেই ওরা তাঁর এতটা প্রিয় ছিল। মানুষ হিসেবে পিতার কোনো গুণ না
পেলেও দুটো জিনিস পেয়েছিলেন চন্দ্রধর আর রণদা। সেটা হল অপরিমিত কাম, ও প্রবল অর্থলিপ্সা। চন্দ্রধর ঈশ্বরমতি হওয়ায় টাকাপয়সায় উৎসাহী না হলেও
নারীদেহের প্রতি লোভ ছিল অসম্ভব। তবে তা ঈশ্বরকার্যের হেতু।
পঞ্চমকার দ্বারা নারীদেহ ভোগ করতেন তিনি। ভাইয়ের মতো রণদা নারীদেহ ভোগ করতে পছন্দ
করলেও তার চেয়ে অর্থ, সোনা এসবের প্রতি মোহ ছিল সাংঘাতিক।
ধর্মানন্দের মৃত্যুর পর দুভাই যাকে বলে জাঁকিয়ে বসলেন পিতার সিংহাসনে। আর ভদ্রতার
মুখোশ পরে চালিয়ে যেতে লাগলেন তাদের কারবার। কারো কোনো বিপদ বা কোনো ইচ্ছে থাকলে
অর্থ আর ক্ষমতাবলে সেটা পূরণ করার পর চেয়ে নিলেন দক্ষিণা স্বরূপ অর্থ, কিংবা সেরকমই মূল্যবান জিনিস।”
– এতো রীতিমতো
বিশ্বাস নিয়ে খেলা! তখনকার যুগেও এসব ছিল?
– ছিল না বলেই
তো ওদের এই রূপ কেউ বিশ্বাস করেনি। করলে ওদের ব্যবসা কবে লাটে উঠত! তাছাড়া মানুষ
হিসেবে দুজনে ভীষণ ধুর্ত ছিলেন। ঝোপ বুঝে কোপটা মারতেন। যার ফলে খটকাটা কেউ ধরতে
পারত না।
– ঠিক ভৈরবের
মতো!
– একদম!
গল্পটা মাঝপথে
থেমে যাওয়ায় শর্মিষ্ঠা বিরক্ত হয়ে বলে উঠল, “উফ! তোমরা থামবে? ব্যোমকেশদা তারপর কী
হল বলো?” ব্যোমকেশ মুচকি হেসে গাঁজার জয়েন্টে একটা লম্বা টান দিয়ে বলতে শুরু করল।
******
তারপর
কেটে গেছে কয়েকমাস। আশ্রমের কাজের চাপে ময়নার কথা ভুলেই গেছিলেন চন্দ্রধর।
শিষ্যের কথায় সব মনে পড়ে গেল তার। তিনি শিষ্যকে বললেন রণদাকে একবার ডেকে পাঠাতে।
রণদা আসতেই তিনি চক্রবর্তীদের নিজের কক্ষে নিয়ে আসতে বললেন। শিষ্য বেরিয়ে যেতেই
রণদাকে যতটা সম্ভব ততটা সংক্ষিপ্ত করে নিজের পরিকল্পনা বোঝালেন চন্দ্রধর। সবটা
বোঝার পর রণদার ঠোঁটেও এক ধুর্ত হাসি ফুটে উঠল। গতকালই তারা ফিরেছেন বেনারস থেকে।
এবার একটা সম্মেলনের উদ্দেশ্যে চন্দ্রধরের সাথে তাকেও যেতে হয়েছিল। টানা পনেরোদিন
নারীসঙ্গহীন হয়ে রয়েছেন তারা। আজ সেই শরীরের খিদে মিটবে নারীদেহে। সবটা শোনার পর
তিনি বললেন, “তুমি যা বলবে তাই হবে তবে আগে আমি মেয়েটাকে ভোগ করবো!” চন্দ্রধর হেসে জানালেন তাই হবে।
কিছুক্ষণ
পর কনের সাজে ময়নাকে ঘরে ঢুকতে দেখে রণদা স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। চন্দ্রধরের কথা শুনে মেয়েটার রূপ আন্দাজ
করেছিলেন তিনি। তাই বলে এতটা? এতো সাক্ষাত কামদেবী! মেয়েটাকে
দেখতেই ভেতরে কামক্ষুধা জেগে উঠল রণদার। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে
নিতেই শুনলেন চন্দ্রধর বলছেন, "আগে চক্রবর্তীরা জলযোগ
সেরে নিন, বিশ্রাম করুন। তারপর সব হবে। তবে ময়না মাকে পুজোর
জন্য শুধু সরবত খেয়ে থাকতে হবে এই যা।" এইভাবে কলাকুশল বিনিময়ের পর ওদের
বিশ্রামাগারে পাঠিয়ে রণদাকে নিয়ে পুজোর জোগাড়ে লেগে পড়লেন চন্দ্রধর।
*****
রাতের
খাবারের পর সকলে ঘুমিয়ে পড়তেই ময়নাকে নিয়ে পুজাগৃহের সামনে এসে দাঁড়ালেন
বেনীমাধব। চন্দ্রধর গৃহের ভেতরেই ছিলেন, তার অনুমতিতে পুজাগৃহে ঢুকলেন বেনীমাধব। ময়নাকে বসিয়ে
কিছুক্ষণ পুজোর আয়োজন দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি। আর তিনি বেরোতেই গৃহের দরজা
লাগিয়ে দিলেন রণদা।
ঘরের দোর বন্ধ
করে দিতেই চন্দ্রধর পুজো শুরু করে দিলেন। মাতৃপুজোয় যা যা উপাচার লাগে সব দিয়ে
পুজো সেরে যজ্ঞে বসলেন চন্দ্রধর। ময়নার হাতে একটা লালসুতো বেঁধে মায়ের চরণের
সিঁদুর কপালে পরিয়ে যজ্ঞকুণ্ডের আগুনটাকে উসকে দিয়ে যজ্ঞে বসে মন্ত্রোচ্চারণের সাথে যজ্ঞে আহূতি দিতে লাগলেন
তিনি। গোটা ঘর ভরে উঠল যজ্ঞের ধোঁয়া আর চন্দ্রধরের উদাত্ত মন্ত্রোচ্চারণে।
প্রচণ্ড ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে উঠল ময়নার। আহূতি ছেড়ে দুহাতে চোখ ডলতে শুরু করল
সে। এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন চন্দ্রধর। তিনি রণদাকে চোখের ইশারা করতেই রণদা
উত্তরীয় দিয়ে নিজের মুখ ঢাকলেন। রণদার দেখাদেখি চন্দ্রধরও নিজের মুখ ঢেকে ঝোলা
থেকে বের করে আনলেন এক বিশেষ গন্ধক। সেটা ঘিয়ে মিশিয়ে আগুনে আহূতি দিতেই গোটা ঘর
ভরে উঠল একটা মিষ্টি গন্ধে। পরক্ষণেই ময়নার অচৈতন্য দেহটা লুটিয়ে পড়ল চন্দ্রধরের
কোলে। চন্দ্রধর মৃদু হেসে তাকালেন রণদার দিকে।
******
সেদিন রাতে পুত্রবধূকে
পুজোগৃহে রেখে আসার পর দু চোখের পাতা এক করতে পারেননি বেনীমাধব চক্রবর্তী। চক্রবর্তী
বংশের বউ কিনা একরাতের জন্য দুজন পরপুরুষের সাথে থাকবে? চন্দ্রধর যতই আশ্বাস দিন
না কেন, লোক সমাজ তো আর সেটা মানবে না। একটা বদনাম থেকেই যাবে সারাজীবন। কিন্তু
তিনিও যে নিরুপায়! ছোটোখোকাকে তিনি বড্ড ভালোবাসেন। ছেলেটার মঙ্গলের জন্যই তো এত
কিছু করতে হয়েছে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটু তন্দ্রামতো এসেছিল তার আচমকা একটা বুক
হিম করা আর্তনাদ শুনে বিছানায় উঠে বসলেন তিনি। চিৎকারটা পুজাগৃহের থেকে এল মনে হল।
তবে কি? এক লাফে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালেন বেনীমাধব। তারপর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে
এসে ছুটে গেলেন পুজাগৃহের দিকে। কিন্তু বেশিদুর যেতে হল না। পুজাগৃহের কাছে আসতেই
তিনি দেখতে পেলেন একটা ভীষণাকার নারীমুর্তি পায়ের নুপুরে প্রবল ঝঙ্কার তুলে বেরিয়ে
আসছেন পুজাগৃহ থেকে। নারীমুর্তিকে দেখামাত্র থমকে গেলেন তিনি।
নারীমুর্তিটির
গায়ের রঙ নীলচে রঙের। সমগ্র দেহ নানাবিধ অলংকার আর বহুমূল্য শাড়িতে আবৃত। ডানহাতে
ধরা একটা প্রকাণ্ড খাঁড়া, বামহাতে একটা নরমুণ্ড। আলুলায়িত কেশে মুখটা ঢাকা থাকলেও
তা যে ভীষণ ক্রূর এবং জিঘাংসার অভিব্যক্তিতে ভরা সেটা অন্ধকারের মধ্যেও বুঝতে
পেলেন বেনীমাধব। আর সেটা বুঝতেই তিনি আর এগোলেন না। একটা ভয় জাঁকিয়ে বসল তার মনে।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলতে লাগল এই মুহূর্তে এই নারীর সম্মুখে না যাওয়াই ভালো। তিনি পায়ে
পায়ে ফিরে এলেন নিজের ঘরে। ফেরার সময় শুনতে পেলেন পেছনে এক নারীর কণ্ঠে রক্তজল করা তীব্র জান্তব হুঙ্কার।
পরদিন সকালে
আশ্রমের আবাসিকদের চিৎকারে ঘুম ভাঙল তার। ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আশ্রমের সকলেই যেন
কি একটা কারণে ভীষণরকম ভাবে আতঙ্কিত। কাল রাতের কথা মনে পড়তেই পুজাগৃহের দিকে ছুটে
গেলেন তিনি। পুজাগৃহের সামনে গিয়ে যে দৃশ্যটা বেনীমাধব দেখলেন তার জন্য তিনি মোটেও
প্রস্তুত ছিলেন না। পুজাগৃহের সামনে পড়ে আছে রণদা আর চন্দ্রধরের মুণ্ডহীন উলঙ্গ
দেহ। দেখে মনে হচ্ছে যেন কেউ অমানুষিক জোরে দুজনের মাথা মুচড়ে নিয়েছে দেহ থেকে। সমগ্র
পুজাগৃহের মেঝে রক্তে থই থই করছে। ঘরের এককোণে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে চক্রবর্তীবাবুর
পুত্রবধূ ময়না।
*****
এইটুকু বলে
ব্যোমকেশ একটু থামল। তারপর টেবিলে রাখা অ্যাশট্রে তে জয়েন্টের শেষ টুকরোটা গুঁজে
দিয়ে বলল, “তারপরের ঘটনা বেশ সংক্ষিপ্ত। আশ্রমের দুজন অধ্যক্ষ্যের এরকম নৃশংস
মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন ফেলে দেয় চারদিকে। পুলিশ এলেও তারা তদন্ত করে কিছুই খুঁজে
পায়নি। ময়নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় কাল যজ্ঞ চলাকালীন আচমকা অসুস্থ বোধ করে
সে। তারপর তার আর কিছু মনে নেই। সেদিনই পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান
চক্রবর্তীমশাই। কিন্তু সেদিনের ব্যাখ্যা তিনি কোনোদিন খুঁজে পাননি। সেই ভীষণদর্শনা
নারীর জন্যই তার পুত্রবধূ রক্ষা পেলেও সেই নারী কে? তা তিনি কোনোদিন জানতে পারেননি।
জানতে পারলেন অনেক বছর পর গুরুদেবের কাছে।
সেবার কী একটা
কাজে আমি আর গুরুদেব জলপাইগুড়ি গিয়েছিলাম। সেখানেই আলাপ হয় আমাদের। কথা প্রসঙ্গে
তিনি আমাদের গোটা ব্যাপারটা জানাতেই গুরুদেব জানান, ‘আপনি ভাগ্যবান! সারাজীবন
তপস্যা করেও যিনি ধরা দেন না কোনো সাধকের কাছে সেই তিনি দেখা দিয়েছিলেন আপনাকে।
জানিয়েছিলেন আপনার পুত্রবধূর সুরক্ষার কথা। আপনার পুত্রবধূ ময়না মা-ও মহা পুণ্যবতী।
নাহলে মেয়ের বিপদে এভাবে মা ছুটে আসবেনই বা কেন? শুনুন আপনি যার বর্ণনা দিলেন তিনি
আর কেউ নন সাক্ষাৎ দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যা, দেবী তারা। সাক্ষাৎ তারা মা ছুটে
এসেছিলেন আপনার বংশের মান রক্ষা করতে।”
এতক্ষণ বালু চুপ
করে থাকলেও এবার আর পারল না, “ধুস! তা আবার হয় নাকি? গুলগাপ্পি মারার আর জায়গা
পেলে না? আমার মনে হয় ওটা আর কেউ নয় ময়না নিজেই ছিল। নিজের আব্রু রক্ষা করতেই
ডেস্পারেট হয়ে দুজনকে খুন করে। কিন্তু খুন করার পর সম্বিত ফিরতেই পালাতে গিয়ে
চক্রবর্তীবাবুর সামনে পড়ে গিয়ে নাটক করে। সেদিন ময়নাকেই দেখেছিলেন চক্রবর্তীবাবু।”
ব্যোমকেশ হেসে
বলে, “বেশ মেনে নিলাম। কিন্তু তাই বলে একটা আঠেরো বছরের মেয়ে দুজন শক্তসমর্থ
পুরুষকে এক কোপে মেরে দিল অথচ ওরা কোনো প্রতিরোধ করল না? তাছাড়া পুলিশ কিন্তু কোনো
রকম অস্ত্র পায়নি। পরে পোষ্টমর্টেমে জানা যায় দুজনের মাথা মুচড়ে ছিঁড়ে নেওয়া
হয়েছিল। একটা বাচ্চা মেয়ের পক্ষে এতটা অমানুষিক কাজ সম্ভব?”
বালু আরো কিছু
বলতেই গিয়েও বলতে পারল না। ব্যোমকেশ চেয়ারের হেলান দিয়ে বসে বলল, “সে তুমি যতই
যুক্তি সাজাও হে। সব যুক্তির বাইরেও একটা কিন্তু থেকেই যাবে। সাধে বলি বিশ্বাসে
মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। বাস্তব কথা কি জানো? মা আছেন! মন দিয়ে ডাকলে মা আসেন।
মা আসেন!”

