অনুসরণকারী

রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

মায়া




নিজের রুমে ঢুকেই সিলিংফ্যানের সুইচ অন করে ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে ঢকঢক করে অনেকটা জল খেয়ে চেয়ারে বসলেন অতীনবাবু। দিন দিন যা অসম্ভব গরম পড়ছে তাতে তাঁর মতো মোটা মানুষের টেকা দায়। কতদুর হবে বাড়ি থেকে স্কুলের দুরত্ব? বড়োজোর কুড়িমিনিটের হাটা পথ। সাইকেল চালালে মিনিট দশেক লাগে। অথচ সেটুকু পথ সাইকেলে পেরোতেই আজ প্রায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল তাঁর। জামাকাপড় ঘামে ভিজে চপচপে হয়ে গেছে। চেয়ারে বসে ব্যাকরেস্টে হেলান দিয়ে ফ্যানের তলায় চোখ বুঁজে কিছুক্ষণ বসে রইলেন তিনি।


সত্যি কথা বলতে গেলে গরমকাল তাঁর কোনো কালেই পছন্দ নয়। ছেলেবেলা থেকেই গরম সহ্য করতে পারেন না তিনি। পারদের মাত্রা তিরিশের উপরের গেলেই তাঁর নানারকম অস্বস্তি শুরু হয়। তার উপর ঘামাচি, র‍্যাশ হওয়া তো লেগেই আছে। এই গরমকালের চেয়ে শীতকাল ঢের ভালো। কত সুন্দর মিঠে রোদের ওমে পিঠ রেখে কাজ করা যায়। অতীনবাবুর মনে আছে ছেলেবেলায় ছুটির দিনে শীতের সকালে ছাদে শতরঞ্চি পেতে বসে পড়তেন পড়ার বই নিয়ে। তারপর সারাটা দিন যে কোথা দিয়ে কেটে যেত টেরই পেতেন না। খেয়াল হত যখন দুপুরে মা স্নানের তাগাদা দিয়ে ডাকতেন। এখনও যে সেই অভ্যেসটা নেই তা নয়। এখনও ছুটির দিনে ছাদে শতরঞ্চি পেতে গল্পের বই নিয়ে বসে যান তিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত একতলা থেকে সৌমির ডাক না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্যান ভাঙে না তাঁর।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে একটু ঘোরের মতো এসে গিয়েছিল অতীনবাবুর। প্রেয়ারের বেলের শব্দ শুনে সেটা কেটে গেল। সোজা হয়ে চেয়ারে বসলেন তিনি। খেয়াল করলেন শরীরের ক্লান্তিটা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। আগের চেয়ে এখন বেশ সুস্থ বোধ করছেন তিনি। একটু আগের সেই দমবন্ধ বন্ধ করা ভাবটাও অনেকটাই কমে গেছে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। তারপর ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন প্রেয়ারে যোগ দিতে।

অতীনবাবু পেশায় একজন বাংলা শিক্ষক। এই পার্বতীচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ তিরিশ বছর হল তিনি শিক্ষকতা করে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেছেন এই বছর পাঁচেক হল। সাধারণত প্রধান শিক্ষক বলতে আমাদের চোখের সামনে যে চেহারাটা ভাসে অতীনবাবুর ব্যক্তিত্ব তার ঠিক উল্টো। কোনো উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলতে আমরা বুঝি রাশভারী, গম্ভীর, ব্যক্তিত্বময় একজন মানুষ। যার মুখটা সব সময় পেঁচার মতো গম্ভীর হয়ে আছে। কিন্তু অতীনবাবুকে দেখলে মনে হবে হয় আমরা এতদিন যা জেনে এসেছি তা ভুল, নাহলে প্রধান শিক্ষক বলে যে মানুষটার সাথে আমাদের ছেলেবেলায়, বা বলা ভালো স্কুলবেলায় পরিচয় ঘটেছে তিনি অন্য কোনো গ্রহের লোক ছিলেন। পদমর্যাদায় একজন প্রধান শিক্ষক হলেও অতীনবাবু লোকটা ভীষণ অমায়িক, আমুদে, আর ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয়। প্রধানশিক্ষক হলেও নিজের চাকরীজীবনের শিকড়কে তিনি ভোলেননি। নিজের রুমে থেকে যাবতীয় কাজ করলেও নিয়মিত ছাত্রদের ক্লাস নেওয়া, টিফিন পিরিয়ডে স্টাফরুমে বসে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে আড্ডা দেওয়া, মালির সাথে নতুন ফুল গাছের বিষয় গল্প করা সবই তিনি হাসি মুখে করে থাকেন। এতবছরের চাকরীজীবনে অতীনবাবুকে কেউ কোনোদিন রাগতে বা গম্ভীর মুখে দেখেনি। বরং সারাক্ষণ ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি লেগেই রয়েছে তাঁর। স্কুলে কেউ কোনো অপরাধ করলে, কেউ শয়তানি করলেও তিনি রাগ করেন না। এমনকি ছাত্রদের শাস্তিও দেন না। না ভুল বলা হল, শাস্তি তিনি দেন ঠিকই। কিন্তু সে শাস্তিগুলোও বড়ো আজব।

ধরা যাক কোনো ছাত্র আরেক ছাত্রের জামায় কলমের আঁচড় কেটে দিল, বা জামাটা নোংরা করে দিল। তার শাস্তি হবে নিজের জামায় কলম দিয়ে ‘আমি অমুকের জামায় কলমের দাগ কেটে ভীষণ দুঃখিত। আমি প্রতিজ্ঞা করছি জীবনে কারো জামায় দাগ দেব না।’ লিখে কান ধরে সেই জামায় দাগ খাওয়া ছেলেটার সামনে দশবার উঠবোস করা। কেউ যদি টিফিন টাইমের আগে খাবার খেতে গিয়ে ধরা পড়ে, পরদিন গোটা ক্লাসকে সে দুটো করে সিঙ্গারা খাওয়াবে। কারন সে টিফিন টাইমের আগে খেয়ে যেমন নিয়ম ভেঙেছে, তেমনই ক্লাসের সহপাঠীদেরকেও খাবারের লোভ দেখিয়ে পড়ার মনঃসংযোগ নষ্ট করে নিয়ম ভাঙতে প্রলুব্ধ করেছে। কেউ যদি স্কুল থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে তাকে গোটা সপ্তাহ স্কুল খোলার আগে স্কুল আসতে হবে। প্রেয়ারে সবার সামনে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এবং গান শেষে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জাতীয় পতাকাকে স্পর্শ করে শপথ করতে হবে যে আর কোনোদিন সে এই কাজ করবে না। পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়লে পরীক্ষার পর গোটা স্কুলের সমস্ত ক্লাসের মেঝেতে পড়ে থাকা নকলের টুকরো কুড়িয়ে ক্লাসরুমগুলো পরিস্কার করতে হবে। আর ধরা যাক ব্যাপারটা মারপিটে গড়াল। তাহলে যে মারপিট আগে শুরু করেছে সেই মূল অপরাধীকে সে দিনের মতো মেয়েদের ক্লাসের সামনে নিলডাউন হয়ে বসে থাকতে হবে। এবং পরের একসপ্তাহ যার সাথে মারপিট হয়েছিল তাকে বুকে জড়িয়ে সরি বলতে হবে।

অতীনবাবুর এই বিধানে কেউ কেউ অবাক হন, কেউ হাসেন, কেউ কেউ রাগ করেন। একবার তো অঙ্কের স্যার তুষারবাবু বলেই বসলেন, “দূর! ওটা কোনো শাস্তি হল নাকি? এরা সব বেতের ভুত। বাবা-বাছা করে ভুলিয়ে উদ্ভট শাস্তি দিলে শোধরাবে না। বেতই হল এদের মোক্ষম ওষুধ। দু-চার ঘা বেতের বাড়ি দিলে সব শুধরে যাবে।” অতীনবাবু সবটা শুনে মুচকি হেসে বললেন, “বেশ তো! তা আপনার বাড়ির সন্তানদেরও এইভাবে মানুষ করেন বুঝি?” তুষারবাবু গর্বিতভাবে হেসে বলেন, “কি যে বলেন স্যার? আমার বাড়ির বাচ্চারা অন্তত এদের মতো ত্যাঁদড়, লেজকাটা হনুমান নয়। ওরা অনেক ভদ্র সভ্য।” উত্তরটা শুনে আরো মুচকি হেসে অতীনবাবু বলেন, “আমি সেই কথা বলছি না। আমি বলতে চাইছি, ধরুন আপনার বাড়ির বাচ্চা একদিন ঘরের জিনিস ভুল করে ভেঙে ফেলল। ধরা যাক আপনার সাধের ফোনটাই আছড়ে ফেলল। সেক্ষেত্রেও কি আপনি বাচ্চাটাকে বেতপেটা করবেন?” পলকে তুষারবাবু চমকে নিজের বুক পকেট খামচে ধরে দামী ফোনটা বের করে বলেন, “কি যে বলেন? নিজের সন্তানকে কি আর ওভাবে মারা যায়? তাছাড়া আমার বাড়ির সন্তান তো অবুঝ, দুগ্ধপোষ্য!”

কথাটা শুনে হেসে অতীনবাবু জবাব দেন, “আমার স্কুলের বাচ্চারাও যে সে নিয়মে আমারই সন্তান। হ্যা ওরা ঠিক দুগ্ধপোষ্য নয়, তবে অবুঝ বটে। ভালো-মন্দের বিচার করার মত বোধ ওদের নেই। কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়, শত্রুতা-বন্ধুত্বের সঠিক হিসেব ওরা জানে না। বলতে পারেন ওরা মাটির তাল মাত্র। যাকে গড়ে সুন্দর মাটির সব বস্তু বানানোর দায়িত্ব আমাদের। ওরা আমাদের যেমন দেখবে তেমনই শিখবে। আর কাউকে বেত মেরে শেখানোর ব্যবস্থার আমি ঘোরতর বিরোধী। এতে কোনো লাভ তো হয় নাই, তার উপর শাস্তি সম্পর্কে ওদের ভুল জ্ঞান তৈরি হয়। হ্যা শাস্তি দেবেন না কেন? দিন যতখুশি পারেন দিন। কিন্তু সেটা যাতে শারীরিক বা মানসিক আঘাতের কারন না হয়। বরং এমন শাস্তি দিন যেটায় ওদের বিবেক, মননের বিকাশ হয়, চরিত্রের উন্নতি ঘটে। যে শাস্তির প্রভাবে সত্যিই ওদের মনের সংশোধন হয়। যার সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তার যন্ত্রণাটা যতক্ষণ দোষী অনুভব না করছে, অন্যায়ের জন্য যতক্ষণ দোষীর অনুতাপ না হচ্ছে ততক্ষণ শাস্তির কোনো মানেই হয় না। ওরা যদি দেখে অন্যায় করলে একটা বেতের বাড়ি খেলে, বা লাঠির আঘাত পেলেই সাতখুন মাফ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে শাস্তির প্রতি ওদের ভয়টাই থাকবে না। আর যাদের শাস্তির প্রতি ভয় থাকে না তাদের কি বলে জানেন? বেপরোয়া। আর একজন শিক্ষক হয়ে আমার কোনো শিক্ষার্থীকে বেপরোয়া হতে দিতে আমি পারি না। তাছাড়া এদের বাবা-মায়েরা এদের স্কুলে পাঠান আমাদের ভরসায়। একজন শিক্ষক হিসেবে সেই ভরসার মান রাখা আমাদের কর্তব্য। এটা ভুললে চলবে না স্কুলে প্রেয়ারের বেল পড়ার পর থেকে ছুটির বেল পড়া পর্যন্ত এদের দায়িত্ব আমাদের উপর। এই সময়টুকু আমরাই এদের বাবা-মা। এরা ভালো কিছু করলে যেমন আমাদের উৎসাহ দেওয়া উচিৎ, তেমনই ভুল করলে বকাঝকা বা মারধোর না করে ওদের ভুলটা ধরিয়ে দেওয়াটাও আমাদের কর্তব্য। আপনারা এটাকে পাগলামো বা ছাত্রদের প্রশ্রয় দেওয়া বলতেই পারেন কিন্তু যতক্ষণ আমি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে আছি বা এই শিক্ষকতার পেশায় আছি ততদিন এইভাবেই ছাত্রদের প্রশ্রয় দিয়ে যাব।”

শোনা যায় তুষারবাবু সেই সময় কিছু না বললেও পরে জনান্তিকে ইংরেজির ম্যাডাম ঐন্দ্রিলাদেবীকে বলেছিলেন, “অতীনবাবুর অবিলম্বে ডাক্তার দেখানো উচিৎ। আগে তো মিনি ক্র্যাকড ছিলেনই, হেডু হবার পর ফুল ক্র্যাকড হয়ে গেছেন। আরে রুটি দু-পিঠে সেঁকতে হয়। নাহলে ভালো রুটি তৈরি হয় না। এতবছর হয়ে গেল আমরা স্কুলে কম বাচ্চা মানুষ করিনি। উনি যাদের অবুঝ বাচ্চা বলছেন তারা চৌবাচ্চা ছাড়া আর কিছু নয়। ক্লাস সেভেনের অপুর্বকে কাল দেখলাম, এই বয়সেই সিগারেট ধরেছে। নেহাত আমাকে দেখে পালিয়ে গেল। নাহলে ধরে ওখানেই পিঠের ছাল তুলে নিতাম।”

প্রত্যুত্তরে ঐন্দ্রিলাদেবী বলেছিলেন, “সে আপনি যাই বলুন তুষারদা। লোকটার প্রতি ছাত্রদের একটা আলাদাই ক্রেজ আছে। অন্য স্কুলের প্রিন্সিপালদের দেখলে স্টুডেন্টরা ভয়ে তটস্থ থাকে। এদিকে আমাদের অতীনবাবুকে দেখলে ছেলেরা আনন্দে নাচে। কিছু তো একটা আছে লোকটার মধ্যে।”

“হুম আছে তো! অন্ধস্নেহ!” বলে গজগজ করে ক্লাস নিতে চলে গিয়েছিলেন তুষারবাবু।

*****

- আজ তবে এইটুকু থাক। কাল কিন্তু সবাই পড়া করে আসবি। আমি পড়া ধরব। পড়া না পারলে কি হবে মনে আছে তো?

বলে ক্লাসের দরজার বাইরের দিকে তাকান অতীনবাবু। বাইরে নীলডাউন হয়ে কান ধরে বসে আছে ক্লাস সিক্সের সুনীল। ক্লাসের সবচেয়ে বেশি অমনোযোগী ছাত্র। স্কুলে ডানপিটে ছাত্রদের মধ্যে এর নামও শুনেছেন তিনি। ছাত্ররা অতীনবাবুর সঙ্গে ক্লাসের বাইরে তাকাল। তারপর সমস্বরে বলল, “বাইরে নীলডাউন!”

- কথাটা মনে থাকে যেন!

বলে চক-ডাস্টার নিয়ে ক্লাসের বাইরে বেরিয়ে আসেন অতীনবাবু। তারপর সুনীলের কাছে গিয়ে বলেন, “থাক! অনেক শাস্তি পাওয়া হয়েছে! এবার ক্লাসে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করা হোক।” সুনীল কান ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। অতীনবাবু হেসে বলেন, “আর কতদিন এই ক্লাসে পড়ে থাকবি? তিনবছর তো হতে চলল! তোর বয়সের সব ছেলেরা, তোর সহপাঠীরা সব সামনের বছর মাধ্যমিক দেবে। আর তুই এত বড়ো হয়ে…পড়াশোনাটা একটু ভালো করে কর বাবা! জানি তোর বাবা অসুস্থ হবার পর তোকেই দোকানে বসতে হয়। অনেক চাপ তোর মাথায়! তাই বলে এইভাবে বছর বছর ফেল করবি?”

সুনীল মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকে। অতীনবাবু হেসে সুনীলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “শোন ছেলে! তোর মাথা ভালো কিন্তু তা পড়াশোনায় না লাগিয়ে অপুর্বদের সাথে মিশে বদকাজে লাগাস বলেই তোকে শাস্তিটা দিই। হ্যা বদমাইসি করবি না কেন? অবশ্যই করবি! হাজারবার করবি। কিন্তু তার সাথে পড়াশোনাটাও করতে হবে তো! যা ক্লাসে যা। ভালো করে পড়। কাল কিন্তু আমি পড়া ধরবো। মনে থাকবে তো?”

সুনীল মাথা নেড়ে ক্লাসে চলে যায়। অতীনবাবু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, তারপর আপন মনে হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে এগিয়ে যান স্টাফরুমের দিকে।

*****

স্কুলের সব কাজ সেরে অতীনবাবু যখন স্কুল থেকে বেরোলেন ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা বিকেল পাঁচটার ঘর ছুঁয়েছে। স্কুলের দারোয়ান কাম পিয়ন নিবারণ হেডমাস্টারের ঘরের বাইরে বসেছিল। তিনি বেরিয়ে যেতেই দরজা আটকে তালা মেরে দিল। অতীনবাবু সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বাজারের উদ্দেশ্যে। কদিন ধরে সৌমির শরীরটা খুব খারাপ। জ্বরের মুখ থাকায় কদিন ধরে কোনো খাবারের স্বাদ পাচ্ছে না সৌমি। এদিকে অসুস্থ সৌমি বিছানায় শয্যাশায়ী হওয়ায় তাকেই রান্নাঘরের ভার নিতে হয়েছে। এসব কাজে তিনি যে কতটা অপটু তা তিনি এই কদিনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গেছেন। কোনোদিন তরকারী নুনে পুড়িয়েছেন, কোনোদিন আবার ডালে নুনই দেননি। জ্বরে ভোগা সৌমী সেই সব অখাদ্য খাবার মুখ বুঁজে খেয়ে নিলেও নিজে খেতে গিয়ে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেছে তাঁর। আজকে সকাল মাপতে গিয়ে দেখলেন আগের তুলনায় সৌমির জ্বরটা একটু কমেছে। মুখের স্বাদও ফিরে এসেছে কিছুটা। তাই সকালবেলা ভাত ডাল আর আলুভাজা করলেও বিকেলের দিকে বাজার থেকে বেশ অনেকটা মাংস কিনে নিয়ে যাবেন ঠিক করেছেন তিনি। সৌমি মাংস খেতে খুব ভালোবাসে। সদ্য জ্বর থেকে ওঠা অরুচির মুখে ঝাল ঝাল মাংসের চেয়ে ভালো খাবার আর হয় না। ভাবতে ভাবতে বাজারে ঢুকলেন তিনি।

বাজার থেকে মাংস, আলু ইত্যাদি সবজি কিনে অতীনবাবু যখন বাড়ি পৌঁছলেন ততক্ষণে চারদিকে সন্ধ্যের গাঢ় অন্ধকার ক্রমশ তাঁর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে। গোটা পাড়া মহিলাদের উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে গমগম করছে। সাইকেল থেকে নেমে মেনগেট খুলতেই পিছন থেকে, ‘মাস্টারমশাই!’ ডাক শুনে থমকে গেলেন অতীনবাবু। পিছন ফিরে দেখলেন সামনের বাড়ির তারিণীবাবু গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন। মুচকি হেসে অতীনবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু বলবেন?” একটু হেসে ইতস্তত হয়ে তারিণীবাবু বললেন, “স্কুল থেকে ফিরলেন বুঝি?”

- হ্যা। আসলে ফেরার পথে একটু বাজার হয়ে এলাম বলে একটু দেরি হয়ে গেল।

- বৌঠান কেমন আছেন? জ্বরটা কমেছে?

- তা কমেছে। আজ সকালেই তো দেখলাম উঠে বসল। কেন বলুন তো?

- না এমনিই জিজ্ঞেস করছিলাম। আসলে বুঝতেই পারছেন আমার গিন্নি আর বৌঠান দুজনেই ভীষণ বন্ধু। ওড় কাছেই শুনেছিলাম বৌঠানের শরীর খারাপের খবরটা।

- তা বটে! সৌমি আর বৌঠান তো যাকে বলে একেবারে হরিহর আত্মা!

- আসলে আজ দুপুরে আমার গিন্নি বৌঠানের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। অনেক ডেকেও সাড়া পায়নি। তাই চিন্তা করছিল।

অতীনবাবু একটু থমকে তাকান তারিণীবাবুর দিকে তারপর হেসে বলেন, “ও এই ব্যাপার? আসলে কি হয়েছে জানেন? কদিন ধরেই সৌমিকে কড়া ডোজের ওষুধ খেতে হচ্ছে।তার উপর কদিনের জ্বরে কাহিল হয়ে গেছে বেচারি। সেই কারনেই বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাই বৌঠান ডেকেও সাড়া পাননি। সৌমির ব্যবহারে আমি অত্যন্ত দুঃখিত! ক্ষমা করবেন।”

- এবাবা! ছিঃ! ছিঃ! আপনি ক্ষমা চাইছেন কেন? ভুল তো আমাদের। আমার গিন্নিরই বোঝা উচিৎ ছিল ব্যাপারটা। আসলে বুঝতেই পারছেন, সই অন্ত প্রাণ মহিলা। কদিন ধরে সইকে দেখতে পারছে না। আজ দেখা করতে গিয়ে ডেকেও সাড়া পায়নি। অহেতুক ভুলভাল ভেবে ফেলেছে। জানেনই তো মহিলাদের মন…

- সন্দেহবাতিক সারাক্ষণ! হে হে বুঝেছি! চিন্তা নেই! সৌমি একদম ঠিক আছে। আচ্ছা চলি! আমাকে আবার রাতের রান্না চাপাতে হবে। বুঝতেই পারছেন হোম মিনিস্টার যখন সিক লাইভ তখন এই শর্মাকেই হাত পুড়িয়ে রান্না করতে হচ্ছে।

- তা আর জানি না? আমার বাড়িতেও একই নিয়ম চালু আছে। গিন্নি অসুস্থ হলে আমাকেই মাঠে নামতে হয়।

- আচ্ছা আসি তাহলে।

- এই দেখেছেন! যে কারনে আপনাকে ডাকলাম সেটাই বলতে ভুলে গেছি। আচ্ছা অতীনবাবু আপনি কোনো গন্ধ পাচ্ছেন?

- গন্ধ মানে? ঠিক বুঝলাম না।

- না মানে বেশ কয়েকদিন ধরেই পাড়ার সকলে একটা গন্ধ পাচ্ছে। ভীষণ বিচ্ছিরি আর পঁচা গন্ধ। অনেকটা ইঁদুর মরলে যে গন্ধ বেরোয় সেরকম।

- কই আমি তো সেরকম কিছু গন্ধ পাচ্ছি না। হ্যাঁ একটা গন্ধ ভেসে আসছে বটে। বোধহয় কোনো ইঁদুর মরেছে কোথাও।

- তাই হবে হয়তো। আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি আসুন। আর কোনো রকম প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন। বিপদে প্রতিবেশী হিসেবে যদি এগিয়ে না আসি তাহলে প্রতিবেশী হবার কি মানে?

- সে তো বটেই। আচ্ছা এলাম।

বলে মেনগেটের একটা পাল্লা খুলে বাড়ির ভেতর ঢুকে যান অতীনবাবু। তারিণীবাবুও কিছুক্ষণ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ঢুকে যান নিজের বাড়িতে।

ঘরের ঢোকার পর সুইচ টিপে এক এক করে ঘরের সব আলো জ্বেলে দিলেন অতীনবাবু। মুহূর্তের মধ্যে গোটা ঘর আলোতে ঝলমল করে উঠল। বাজারের থলেটা রান্নাঘরে রেখে শোয়ার ঘরে ঢুকে আলোটা জ্বেলে বিছানার দিকে ঘুমন্ত সৌমির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন তিনি। কদিনের রোগভোগে সৌমির চেহারা শুকিয়ে একেবারে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। সৌমির দিকে কিছুক্ষণ অপলকে তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে কাঁধে গামছা নিয়ে সোজা কলঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন অতীনবাবু।

স্নান সেরে ঘরের পোশাক পরে রাতের রান্নার তোড়জোড়ে লেগে পড়লেন অতীনবাবু। চটপট গরম গরম কষা মাংস আর ভাত রান্না করে খাবারগুলো ঢেকে দিয়ে নিজের স্টাডিরুমে ঢুকলেন তিনি। রাতের খাবার খেতে এখনও অনেক দেরী আছে। ততক্ষণ একটু বই নিয়ে বসলে মন্দ হয় না। ভাবতে ভাবতে স্টাডিরুমের দিকে এগোতে যাবেন এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে থমকে দাঁড়ালেন অতীনবাবু। এতরাতে আবার কে এল? কোনো ছাত্র নাকি? কই কাউকে তিনি বাড়িতে আসতে বলেছিলেন মনে পড়ছে না তো। কিছুক্ষণ পর আবার দরজায় কড়ার নাড়ার শব্দ ভেসে এল। অবাক হয়ে অতীনবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কে?” কোনো উত্তর এল না। ভ্রু কুঁচকে গেল অতীনবাবু। কাউকে তো তিনি বাড়িতে আসতে বলেননি। তাহলে এত রাতে কে দরজায় কড়া নাড়ছে? ভাবতে ভাবতে আবার কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পেলেন তিনি। এবার অতীনবাবু একপলক নিজের বেডরুমের দিকে তাকান। তারপর বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে আটকে সদর দরজার সামনে এগিয়ে এসে আরেকবার উঁচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “কে?” এবার জবাব এল, “আমরা!” কন্ঠস্বর শুনে অতীনবাবু অবাক হলেন। এতো কোনো বাচ্চা বা কিশোরের গলা নয়। তাহলে কে? ভাবতে ভাবতে অতীনবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা কে?” এবার ওপার থেকে জবাব এল, “আমরা লক্ষ্মীপুর থানা থেকে আসছি। দরজাটা খুলুন মাস্টারমশাই।”

অতীনবাবু একটু অবাক হয়ে দরজাটা একটু ফাঁক করে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখলেন একজন অফিসার এবং কয়েকজন কনস্টেবল বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। দরজাটা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলেন অতীনবাবু।

- কি ব্যাপার অফিসার? এতরাতে আপনারা?

- এতরাতে আপনাকে বিব্রত করার জন্য একান্তভাবে দুঃখিত। আসলে আপনার থেকে কয়েকটা কথা জানার ছিল।

- বেশ! বলুন।

- আচ্ছা এই মুহূর্তে আপনার বাড়িতে আর কে কে আছেন?

অতীনবাবু মুচকি হেসে বলেন, “এত রাতে আপনারা নিশ্চয়ই ঠাট্টা করতে আসেননি? কে আবার থাকবে? আমি আর আমার স্ত্রী আছেন।” অফিসার একটু হেসে বললেন, “ আচ্ছা তাকে একবার ডেকে দিতে পারবেন?” অতীনবাবু হেসে বললেন, “ দুঃখিত অফিসার! আপনার এই অনুরোধটি রাখতে পারব না। আসলে বিগত কয়েকদিন ধরে আমার স্ত্রী অসুস্থ। তীব্র জ্বরের ফলে আজ ছয়দিন হল শয্যাশায়ী হয়ে আছেন। এখন ঘুমোচ্ছেন।” অফিসার কিছুক্ষণ অতীনবাবুর দিকে অপলকে তাকিয়ে থেকে বললেন, “কিছু মনে করবেন না মাস্টারমশাই, আমরা আপনার ঘরটা একটু তল্লাশি করতে চাই। আমাদের কাছে ওয়ারেন্ট আছে।” বলে পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে অতীনবাবুর দিকে এগিয়ে দেন। অতীনবাবু হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিয়ে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে দরজা থেকে সরে দাঁড়ান। তারপর বলেন, “বেশ! ভেতরে আসুন। তবে এই সার্চের কোনো মানে নেই। আমার কাছে এমন কিছু নেই যা আপনাদের কাছে বেআইনি বলে মনে হতে পারে।”

একে একে সকলে ঘরের ভেতর ঢোকেন। অতীনবাবু ঘরে ঢুকে বৈঠকখানার সোফায় বসতে বসতে বললেন, “সমস্ত ঘর সার্চ করার আগে একটা অনুরোধ ছিল। কনস্টেবলদের বলবেন ওরা যাতে স্টাডিরুম আর আমার বেডরুমে বেশি শব্দ বা জিনিসপত্র ওলটপালট না করে। আসলে স্টাডিরুমটা একটু অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। সেখানে বই বা কাগজপত্র এদিক-ওদিক হলে আমিই বিপদে পড়ব। আর আমার স্ত্রী এখন ঘুমিয়ে আছেন। তাই বেডরুমে অহেতুক শব্দ হলে যেমন তার ঘুমের ব্যাঘাত হবে তেমনই এত রাতে ঘরের ভেতর পুলিশ দেখে বিব্রতও হতে পারেন।” অফিসার মাথা নেড়ে কনস্টেবলদের তল্লাশির আদেশ দেন। সকলে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। একজন কনস্টেবল অতীনবাবুর বেডরুমের দরজাটা খোলামাত্র ছিটকে আসে। অফিসার সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে রুমাল বের করে নাকে দেন। সেই কনস্টেবলটাও দুহাতে নিজের নাক ঢেকে ফেলে। কারন দরজাটা খোলার সাথে সাথে যে গন্ধটা এতক্ষণ প্রছন্নভাবে তার নাকে আসছিল সেটা একলহমায় বেড়ে গেছে। মাংস রান্নার গন্ধ ছাপিয়ে গোটা ঘর ম ম করছে এই ঘরটায়। এ গন্ধ তার চেনা। পুলিশের চাকরিতে এই গন্ধের সাথে তার পরিচয় বহুকাল আগেই হলেও যতবার এই গন্ধটা তার নাকে আসে প্রতিবার মনে হয় যেন পেটের ভাত বেরিয়ে আসবে। এ গন্ধ হল মৃতদেহের গন্ধ। তিন-চারদিন ধরে মৃতদেহ পচে গেলে যে গন্ধ বেরোয় সেই গন্ধ।

নাকে রুমাল চাপা দিয়ে বিছানার সামনে এসে দাঁড়ান অফিসার। একপলক বিছানায় শুয়ে থাকা সৌমির মুখের দিকে তাকিয়ে একটানে খুলে ফেলেন বুকের উপর চাপা দেওয়া চাদরটাকে। আর চাদরটা টানার সাথে সাথে সৌমির দেহটার দিকে তাকিয়ে গা গুলিয়ে ওঠে ঘরে উপস্থিত সকলের। সৌমির গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিকে ঢাকা। সেই প্লাস্টিকের পর্দার বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে সৌমির দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে। এই দৃশ্য দেখে সকলে যখন ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে তখন একমাত্র অতীনবাবু নির্বিকার থেকে বলে উঠলেন, “আহা! করছেনটা কী? ও জেগে যাবে তো!”

*****

সেদিনের ঘটনার পর দুমাস কেটে গেছে। পুলিশ সৌমির বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার করে সেদিনই মর্গে চালান করেছিল। অতীনবাবুকে গ্রেফতার না করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে মানসিক চিকিৎসালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কি ঘটেছিল সেটা না জানা গেলেও কানাঘুষোয় শোনা গেছে প্রবল জ্বরে সৌমি তিনদিনের মাথায় মারা যান। স্ত্রী বিয়োগের শোকে পাগল হয়ে অতীনবাবু এতদিন ধরে স্ত্রীর মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন। এ বিষয়ে প্রথম প্রথম পাড়ায়, স্কুলে অনেক আলোচনা হলেও সময়ের সাথে সাথে এখন তা স্তিমিতপ্রায়। তাও মাঝে মাঝে অতীনবাবুর প্রসঙ্গ উঠলে ছাইচাপা আগুনের মতো তাকে নিয়ে আলোচনাগুলোও বেরিয়ে আসে। পার্বতীচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন হেডমাস্টার এসেছেন। ইনি কিন্তু অতীনবাবুর মতো অমায়িক নন। বরং রাশভারী এবং বেজায় বদরাগী একজন। কথায় কথায় বেত বের করেন। ছাত্রদের মন খারাপ। কবে তাদের অতীনস্যার আসবেন সেই অপেক্ষায় আছে তারা। আর বাকি রইলেন তারিণীবাবু। তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার করে মানসিক হাসপাতালে অতীনবাবুর কাছে দেখা করতে যান। হাজার হোক পুরোনো প্রতিবেশী বলে কথা। তাছাড়া সেদিনের ঘটনার দায় কিছুটা তারও বটে। বিকেলবেলা অফিস থেকে ফিরে গিন্নির কাছে সবটা শুনে তার সন্দেহ হয়েছিল। সেই সন্দেহের বসে তিনি ফোন করেছিলেন লোকাল থানায়। আর তার ফলেই ব্যাপারটা প্রকাশ্যে চলে আসে। মানসিক হাসপাতালে গেলে আজও দেখা পাওয়া যাবে বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী এক প্রাক্তনশিক্ষককে। যিনি কথায় কথায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্যর কবিতা আউড়ে বেড়ান। সাহিত্যের কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে অমায়িক এক হাসি হেসে উত্তর দেন। কিন্তু স্ত্রীর কথা জিজ্ঞেস করলেই বিছানায় শোয়ানো বালিশের দিকে দেখিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলেন, “শশস! চুপ! ও এখন ঘুমোচ্ছে! বিরক্ত করবেন না। অনেকে বলছে বটে ও মরে গেছে। লোকের কথায় বিশ্বাস করবেন না। ও কিন্তু মরেনি। ও ঘুমোচ্ছে!”

(স্ত্রীর মৃতদেহ আগলে রাখার ঘটনা বাদে গল্পের স্থান-কাল-পাত্র লেখকের মস্তিস্কপ্রসূত এবং একেবারে কাল্পনিক। কোথাও মিল খুঁজে পেলে সেটা একেবারে কাকতালীয়)

সাদা অর্কিডের দেশে অন্তিম পর্ব

হোটেলে ফেরার পর লাগেজ গুছিয়ে নিতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না মধুজার। শুধুমাত্র কালকের বাড়ি ফেরার সময়ের পোশাকগুলো বাইরে রেখে চটপট অতীন আর ওর জামাকা...