টেবিলে বসে গুনগুন করতে করতে একমনে কাজ করছিল হেড কনস্টেবল শাশ্বত দাস। মনটা আজ ভালো আছে তার। কদিন ধরে বউ বাপের বাড়ি যাবে বলে বায়না ধরেছে। শাশ্বত বউকে বুঝিয়েও বোঝাতে পারেনি যে এখন ভোটের সময় এভাবে ছুটি পাওয়া যায় না। বউ বুঝতেই চাইছে না। এই সময়ে দুজনের মধ্যে অনেক মন কষাকষি হলেও শাশ্বত ঠিক করে রেখেছিল ভোটটা গেলেই সে আই.সি সাহেবের কাছে দরখাস্ত করবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ! কাল ভোটের রেজাল্ট বেরোতেই আজ সকালে থানায় এসেই আই.সি সাহেবের রুমে গিয়েছিল সে। আই.সি সাহেব দরখাস্তটা পড়ে একটু হেসে ছুটি মঞ্জুর করে দিয়েছেন। তবে একটা শর্তের বিনিময় ছুটিটা মঞ্জুর হয়েছে। ছুটি সে পাবে তবে কিছু কাজ বাকি থেকে গেছে তার, সেগুলো করে যেতে হবে আর এবেলার ডিউটিটা করে যেতে হবে। শাশ্বত তাতেই রাজি হয়ে থানায় ওর টেবিলে বসে কাজ করছিল। কাজ করতে করতে ভাবছিল ছুটি পেয়েছে জানলে বউ কী করবে? বউয়ের মুখটা কল্পনা করে ওর আনন্দ আর থামছিল না। ইচ্ছে করেই ফোন করে খবরটা জানায় নি সে। ফিরে গিয়ে একেবারে চমকে দেবে।
একমনে কাজ করছিল শাশ্বত। হঠাৎ তার মনে হলো সামনে কেউ দাঁড়িয়েছে। সে চোখ তুলে দেখলো একটা মেয়ে। বয়স বাইশ থেকে পঁচিশের মধ্যে হবে। বেশ সম্ভ্রান্ত চেহারা । ম্যাগাজিনে, রাস্তার হোর্ডিংয়ে দেখা মডেলদের মতো ছিপছিপে গড়ন। সাজপোষাকও মডেলদের মতো। একঝলক দেখে বড়োলোক বাড়ির মেয়ে মনে হচ্ছে। গায়ের রং ফরসার দিকে। এদিক ওদিক সন্তর্পণে তাকাচ্ছে মেয়েটা। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন চেনা মনে হলো শাশ্বতর। মনে হলো আগে কোথায় যেন দেখেছে। কিন্তু কোথায় মনে করতে পারছে না। মেয়েটার গলা খাকড়ানিতে হুশ ফিরলো শাশ্বতর। সে চমক ভেঙে নিজেকে সামলে বললো , “কাউকে খুঁজছেন?”মেয়েটা চমকে তাকালো শাশ্বতর দিকে। শাশ্বত আবার প্রশ্ন করলো, “কাউকে খুঁজছেন?” মেয়েটা মাথা নেড়ে বলল, “এই থানার ইনচার্জের সাথে কিছু কথা ছিল। উনি কোথায় বলতে পারবেন?”
শাশ্বত কাজ ফেলে মেয়েটার দিকে তাকালো। ব্যাপার কী? মেয়েটা সাহেবকে খুঁজছে কেন? ভ্রু কুঁচকে বললো ,“স্যার তো রাউন্ডে বেরোলেন এই মাত্র। ফিরতে দেরী অনেক দেরী আছে । আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে সেকেন্ড ইনচার্জের সাথে কথা বলতে পারেন। উনিই আমাদের মহিলা সেকশনের ওসি। ম্যাডাম ঐ রুমে আছেন এখনও। ” বলে অপালা ম্যাডামের ঘরটা দেখিয়ে দিলো শাশ্বত। মেয়েটা মাথা নেড়ে এগিয়ে গেল সেদিকে। শাশ্বত কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার চলে যাওয়াটা। তারপর আবার কাজে মন দিলো। কিন্তু ওর মনে বারবার একটা খটকা খোঁচা দিতে লাগলো। মেয়েটাকে সে আগেও দেখেছে। কিন্তু কোথায় মন করতে পারছে না। একসময় মনে হলো যাকগে! বড়োলোকদের কেস, অফিসারদের ব্যাপার। তার এখানে মাথা ঘামিয়ে কাজ নেই। এই ভেবে ভাবনাটাকে ঝেড়ে সে কাজে লেগে পড়লো আবার।
নিজের টেবিলে বসে পুরোনো একটা পেন্ডিং কেসের প্রোগ্রেসে নজর বোলাচ্ছিল অপালা। কাল এস.পি. স্যারের কাছ থেকে তলব এসেছিল কয়েকজন অফিসারের। তাদের মধ্যে সেও ছিল। কয়েকটা পেন্ডিং কেসের জন্য কথা শুনতে হলো তাকে। যদিও কেস বলতে তেমন কিছু আহামরি নয়। ঐ ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, পণ নিয়ে বিয়ে, নাবালিকাকে বিয়ে, এরকমই সাদামাটা নারীজনিত কেস। কেন এতদিন ধরে পেন্ডিং জবাব দাও। তোমার আন্ডারেই তো কেসের ইনভেস্টিগেশন অফিসার। তার প্রোগ্রেস কেন এত ধীরে? আগে এরকম প্রশ্নবাণে রাগ হত, কষ্ট হত তার। দশবছরের সার্ভিস লাইফে এখন এসব গা সওয়া হয়ে গেছে। তাও কেস ফেলে রাখাটা মুর্খামি অগত্যা আজ সকালে এসেই বসে পড়েছে সব পেন্ডিং কেস নিয়ে। সকল ইনভেস্টিগেশন অফিসারদেরও রিপোর্ট করতে বলেছে।
রিপোর্টটা মনোযোগ দিয়ে পড়ছিল অপালা, এমনসময় দরজায় টোকা পড়ল আর সাথে একটা প্রায় এক অষ্টাদশী কিশোরীর মতো মিহি স্বর ভেসে এল, “মে আই কাম ইন ম্যাডাম?"
ফাইল থেকে চোখ না তুলেই অপালা জবাব দিলো, “কাম ইন।" তারপর ফাইল থেকে চোখ তুলে তাকালো সামনের দিকে। একটা মেয়ে তার টেবিলের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স বাইশ থেকে পঁচিশের মধ্যে হবে। অথচ ভয়েসটা শুনে মনে হলো... অপালা দেখলো মেয়েটা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। অপালার একটু ভ্রু কুঁচকে গেল। সে মেয়েটার দিকে একবার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে নিলো। সাজপোশাক দেখে মনে হচ্ছে বড়োলোক বাড়ির বখে যাওয়া মেয়ে। চুলের সামনে দিক হাইলাইট করা। এই সকালেও চোখে একগাদা কাজল ধেবড়ে মেকাপ করে এসেছে। কব্জিতে উল্কি আঁকা। পরনে জিন্স আর একটা ঢলঢলে টিশার্ট। হয় বয়ফ্রেন্ডজনিত কেস, নাহলে কাল রাতে নির্ঘাত মদ গিলে পার্টি করে ফেরার সময় পুলিশের হাতে গাড়ি জমা করেছে। এসব মেয়েদেরকেও হ্যান্ডল করেছে এক সময় অপালা। বাপ রে! সে সব মেয়েদের কি তেজ, কি ঔদ্ধত্য! যেন সাক্ষাত সি.এম. বা পি.এমের কাছের কেউ । মাঝে মধ্যে এদেরকে চড়িয়ে লাল করে দিতে ইচ্ছে করলেও পেশার খাতিরে চুপ করে থেকেছে।
এই মুহূর্তে মেয়েটাকে দেখে রাগ হলেও পর মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে অপালা বলল, “বসুন।"
মেয়েটা টেবিলের সামনের একটা চেয়ার টেনে বসলো। অপালা জিজ্ঞেস করল, “বলুন কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?"
“আমি একটা রিপোর্ট লেখাতে এসেছি।"
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপালা বলল, “বেশ। তা কী বিষয়ে রিপোর্ট লেখাতে এসেছেন জানতে পারি কি?"
প্রশ্নটা শুনে মেয়েটা থমকে যায়। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে তারপর পার্স থেকে একটা ফোন বের করে বলে, “কদিন আগে আমার বয়ফ্রেন্ডের ফোন চুরি যায়। পুলিশের সাহায্যে সেটা রিকভারিও হয়। কিন্তু তারপর থেকে একটা অজানা নাম্বার থেকে আমার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে নোংরা সব মেসেজ, পিক আসতে শুরু করে। প্রথম প্রথম আমি পাত্তা দিই নি। কারণ এরকম মেসেজ আমার কাছে প্রায়ই আসে। সেক্ষেত্রে আমি ব্লক করে দিই নাম্বারটাকে। ফেসবুকে হলে রিপোর্ট। এটাকেও করেছিলাম। কিন্তু তারপরেই আরেকটা নাম্বার থেকে সেম মেসেজ আসতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, যখন তখন ভয়েস কল, ভিডিও কল আসতে থাকে। এরকম দু তিনটে আননোন নাম্বার ব্লক করার পরেও থামছে না দেখে আমি বয়ফ্রেন্ডকে জানাই। তারপর কল আসতেই বয়ফ্রেন্ড সেটা রিসিভ করে ভালো রকম দাবড়ানি দেয় কলারকে। তারপর কাল সকালে সেই নাম্বার থেকে একটা ক্লিপিং আর কিছু ফোটো আসে আমার ফোনে।" বলে ফোনটা এগিয়ে দেয় মেয়েটা।
অপালা হাত বাড়িয়ে ফোনটা নেয়। বেশ দামি ফোনটা সন্তর্পণে দুহাতে ধরে ফোনটার পর্দায় চোখ রাখে। গোটা ইনবক্স জুড়ে অশ্রাব্য, অকথ্য ভাষার মেসেজ। সরাসরি যৌন প্রস্তাব দিয়েছে মেসেজ কর্তা। শুধু তাই নয়, নানারকম যৌন ফ্যান্টাসি,উত্থিত পুরুষাঙ্গের ছবিতে ভর্তি ইনবক্স। ঘেন্নায় গোটা শরীর রি রি করে ওঠে অপালার। তাও সে চোখ রাখে শেষ মেসেজের দিকে। আর সেদিকে চোখ রাখতেই অবাক হয়ে যায় সে। শেষের কয়েকটা ছবি আর কারো নয়, তার সামনে বসা মেয়েটার ছবি। দেখে বোঝা যাচ্ছে কোনো সমুদ্রসৈকতের পাশে তোলা। একের পর এক ছবিতে ক্রমশ নিরাভরণ হচ্ছে মেয়েটা। প্রথম ছবিতে শর্ট আর টিশার্ট থাকলেও শেষ ছবিতে মেয়েটার শরীরে একটা সুতো পর্যন্ত নেই। সম্পুর্ণ নিরাভরণ হয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেয়েটা হাসছে।
ছবিটা দেখে একঝলক মেয়েটার দিকে তাকায় অপালা। তারপর ক্লিপিংটা চালু করে। তিরিশ সেকেন্ডের ক্লিপিংটায় দেখা যায় একটা ঘরে সঙ্গমরত যুগলের মুহূর্ত। দুজনে একে অপরের প্রতি প্রায় ভালুকের মতো ঝাপিয়ে পড়ছে, আর দ্রুতগতিতে রমণ করছে তারা। কলেজবেলায় অনেক পর্ণোগ্রাফিক ছবি , ভিডিও দেখেছে অপালা। এই ভিডিওটাও একরকমের পর্ণোগ্রাফিক ভিডিওই বটে। ভিডিওটা বেশ কাঁচাহাতে তোলা মানে অ্যামেচার ক্যাটাগরির। অপালা ভ্রু কুঁচকে ভিডিওটা দেখে। ভিডিওটার একদম শেষ মুহূর্তে সঙ্গমরতা তরুণীর মুখটা দেখে অবাক হয়ে যায় সে। ফোনটা ফিরিয়ে দিতে দিতে বলে, “এই ভিডিও, ছবিগুলো..."
“লাস্ট ইয়ারের নভেম্বরে Maldives-এ তোলা। আমিই ইনসিস্ট করেছিলাম মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখার জন্য। ভাবিনি এভাবে..."
“আপনার বয়ফ্রেন্ড কী করেন?"
“হি ইজ ইন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। সারাদিন ইন্টারন্যাশনাল মিটিংএ ব্যস্ত। ওর নামটা কি বলতে হবে?"
“ ইনভেস্টিগেশনের স্বার্থে তো অবশ্যই বলতে হবে ম্যাডাম। তবে চিন্তা নেই এই তথ্য বাইরে যাবে না।"
“তাহলে শুরু থেকেই বলছি।"
“অবভিয়াসলি ম্যাডাম। একটা তথ্যও বাদ দেবেন না।"
বলে অপালা চেয়ার থেকে উঠে গেটের বাইরে থাকা শাশ্বতকে বলে, “কেউ আমার খোঁজে এলে বলবে আমি ব্যস্ত। কাউকে এলাউ করবে না। আর আই.সি স্যার এলে তাকে আমার রুমে আসতে বলবে।"
কথাগুলো বলে নিজের চেয়ারে এসে বসে অপালা। তারপর বলে, “নিন ম্যাডাম শুরু করুন।"
মেয়েটা সোজা হয়ে বসে। তারপর ধীর কন্ঠে বলে,“আমার নাম লিজা স্মিথ। আমার ড্যাডিকে আপনারা হয়তো চেনেন, তিনি একসময় বেঙ্গল ক্রিকেট টিমে খেলতেন। পরে সেখান থেকেই পুলিশে চাকরি পান। ইন্সপেক্টর ডেভিড স্মিথ। ড্যাডি শুনেছি রঞ্জি ট্রফির জন্যেও খেলেছেন। আমার ছেলেবেলা কেটেছে দার্জিলিং-য়ে বোর্ডিং স্কুলে। এখানে কেন জানি না পড়াতে চাননি ড্যাডি। দার্জিলিং-য়ে স্কুল ফাইনাল দিয়ে হায়ার সেকেন্ডারির জন্য আমি চলে আসি এখানে । ভর্তি হই এখানকারই এক কলেজে। আর কলেজেই আমার সাথে দেখা হয় ভিকির। মানে আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে। ভিক্টর ডি'সিলভা বা ভিকির সাথে আমার রিলেশন দশ বছরের। ইউ কান্ট বিলিভ মি বাট হি ইজ দ্যা মোস্ট কিউট এন্ড অ্যাডোরেবল গাই আই হ্যাভ এভার মেট। হি ওয়াজ সো পজেসিভ এন্ড প্যাশনেট অ্যাবাউট আওয়ার রিলেশনশিপ। আমরা একসাথে কলেজ কমপ্লিট করে যে যার মতো কেরিয়ার মেকিংয়ে নেমে পড়ি। হি জয়েনড হিজ ফাদার্স কোম্পানি । আর আমি জয়েন করি একটা প্রাইভেট ফার্মে। পার্ট টাইমে টুকটাক মডেলিংও করতে থাকি। এতদিন পরেও একবারের জন্যেও আমরা আমাদের রিলেশনে কোনোরকম গ্লিচ আসতে দিই নি। ফাইনালি দুজনেই সেটল হবার পর ঠিক করি আমরা বিয়ে করবো। আমাদের পেরেন্টসরাও সায় দেন আমাদের সিদ্ধান্তে। অল থিংস আর সর্টেড। উই আর রিয়ালি হ্যাপি অ্যাবাউট আওয়ার ম্যারেজ বাট...।"
ধরা গলায় কথাগুলো বলে থামে মেয়েটা। তারপর মাথা নিচু করে বসে থাকে। মেয়েটাকে ধাতস্থ হবার সময় দেয় অপালা। জলের গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বলে, “তারপর আপনারা ভ্যাকেশন কাটাতে Maldives- এ গিয়েছিলে?" মেয়েটা ধাতস্থ হয়ে একচুমুক জল খেয়ে মাথা নাড়ে। তারপর বলে,“লাস্ট ইয়ার লকডাউন ওঠার পর যখন সব নিউ নর্মালে ফিরলো আমরা ঠিক করলাম মাইন্ড ফ্রেশ করতে বাইরে কোথাও ঘুরে আসবো। ভিকি হয় গোয়া নাহলে কাশ্মীর ভেবেছিল। আমিই বলেছিলাম ওর চেয়ে বাইরে কোথাও যাওয়া হোক। Maldives-এর সাজেশনটাও আমিই দিই। ইট ওয়াজ লাইক আওয়ার প্রি-হানিমুন। সাতদিন ছিলাম আমরা। দোজ ডেজ আর বেস্ট মেমোরেবল ডেজ অফ আওয়ার লাইফ। আমরা ঐ সাতদিন নিজের মতো এঞ্জয় করেছি। কেউ বাধা দেওয়ার ছিল না । আমরা নিজেদের মতো ছিলাম। তারপর কি যে হয় গেল!"
“আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড মানে ভিকি। সে কেমন মানুষ? মানে বিশ্বাসযোগ্য কি?"
“ডেফিনেটলি! ওর সাথে আমার সম্পর্ক সেই কলেজের সময় থেকে। আমরা যাকে বলে মেড ফর ইচ আদার, সোলমেটস। এতবছরের রিলেশনশিপে একবারের জন্যেও একে অপরকে আমরা চিট করিনি। আমাদের বন্ডিংটা বেশ শক্ত ইভেন একে অপরকে দেখলেই আমরা বুঝে যাই যে অপরজন কি বলতে চাইছে।" মেয়েটা এবার নিজেকে সামলে স্থিরভাবে উত্তর দেয়। অপালা বুঝতে পারে বয়ফ্রেন্ডও যে এসবে জড়িয়ে থাকতে পারে এটা মেয়েটা বুঝছে না। বা বলা বাহুল্য বুঝতে চাইছে না। নিজের চাকরি জীবনে এরকম অনেক কাপল দেখেছে অপালা। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েটা বা ছেলেটা যাকে ভরসা করে এসেছে এত বছর, ইনভেস্টিগেশনের শেষে সেই মানুষটাই মুল কালপ্রিট বেরিয়েছে। অপালার বার বার মনে হচ্ছে হোক না হোক এই ব্ল্যাকমেলের পেছনে ভিকির হাত আছে। সেটা যাচাই করতেই অপালা একটু আগে করা প্রশ্নটাকে ঘুরিয়ে দেয়।
“আচ্ছা এই যে বললেন যে এই ছবিগুলো, ভিডিওটা আপনার কনসেন্টে তোলা। এ ব্যাপারে ভিকির কি সায় ছিল?"
“ প্রথমে ভিকি রাজি হয় নি। জায়গা, আর সময় দেখে ও পিছিয়ে গিয়েছিল। লোকভর্তি জায়গা, কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হবে। তার উপর এই সব ক্লিপিংস যদি বাইরে লিকড হয় তাহলে একটা বিচ্ছিরি স্ক্যান্ডাল হবে। ওর যে একেবারে ইচ্ছে যে ছিল না তা বলবো না। ইভেন আমার ন্যুড ছবিটা ওর সাজেশন ছিল। আমি বিকিনি পরে কয়েকটা ছবি তুলে ওকে থামতে বলেছিলাম। ওই বলেছিল আরো বোল্ড পোজ দিতে। ভিকি চিরকালই ওয়াইল্ড আর বোল্ড স্বভাবের। এরকম অ্যাডভেঞ্চার ওর প্রিয়। তবে ওর কেসটা হল ঐ যে আপনাদের একটা প্রবাদ আছে না? পেটে খিদে মুখে লাজ। এটার লিভিং এক্সামপল হলো ভিকি। প্রথমে না না করলেও পরে নিমরাজি হবে,শেষে দেখা যাবে পুরো জিনিসটা ও উপভোগ করছে। "
বলে কিছুক্ষণ থামে মেয়েটা তারপর মৃদু গলায় বলে,“আমি জানি আপনি কী মিন করতে চাইছেন। সেই আশঙ্কাটা আমার মনেও এসেছিল। পরে অবশ্য চিন্তা করে দেখেছি এসব করে ওর কী লাভ? মোটিভটাই বা কি?নিজের উড বি-র ন্যুড পিক, সেক্সটেপ লিক করে ওর কী লাভ? যেখানে ভিডিওতে ওকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হ্যা লাভ হতো কখন যখন এই ছবিগুলো নিয়ে ওকে আমি ব্ল্যাকমেল করতাম। কিন্তু ছবি আর ক্লিপিংসের কপি তো একমাত্র আমাদের কাছেই আছে। বাইরের কেউ পাবার চান্সই নেই। তাছাড়া এখানে তো ব্ল্যাকমেল আমাকে করা হচ্ছে।"
“ভিডিওটা কবে তোলা?"
“Maldives থেকে ফেরার দুদিন আগে। Maldives-এ আমরা হানিমুন কাপলের মতোই ছিলাম। শুধু সেদিনই নয়। যতদিন ছিলাম উই মেড লাভ এভরিডে। ইভেন ছবিগুলো তোলার দিনও জঙ্গলে... ভিকি ওয়াজ সো ডেসপারেট। আমিই পুরো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আইল্যান্ডে। পুরো দ্বীপে টুরিস্ট ভর্তি এই সময় আমরা সেখানেই একটা গাছে...আমিই বলেছিলাম এই মুহূর্তগুলো ভীষণ গোপনীয়, ভীষণ কাছের, ভীষণ রোমান্টিক। মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখলে ভালো হতো। এমনি ফ্রাঙ্কলি বলেছিলাম। ও বলেছিল, “তুমি কি চাও? আমাদের ইন্টিমেট মোমেন্টগুলোও রেকর্ডেড থাকুক?পাগল নাকি?" এখন মনে হচ্ছে সেদিন কথাগুলো শুনলে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না। এখন কেমন একটা আতঙ্ক লাগে জানেন? ভিকিকে আমি বিশ্বাস করলেও ওকে দেখলে মনে হয় ও আমাকে বিশ্বাস করছে না। ও আমার পাশে আছে এটা যতই ফিল করি না কেন কোথাও যেন একটা সুর কেটে গেছে। বার বার মনে হচ্ছে আমিই দায়ী। অথচ হি ওয়াজ অলসো দেয়ার! হি ওয়াজ অলসো এঞ্জয়েড দোজ ডেজ ।"
“এই স্ক্যান্ডালটার ব্যাপারে আর কেউ জানে?"
“না। জানতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। ড্যাডির রেপুটেশন, ভিকির বাবাদের রেপুটেশন সব নষ্ট হয়ে যাবে। আর একটা স্ক্যান্ডালকে কে ঘরে আনবে। ভিকির বাড়িতে জানলে ওরা জাস্ট এটাকে ডিনাই করে বেরিয়ে যাবে। ভিকির আচরণে এটা মনে হচ্ছে বার বার।"
“কেন মনে হচ্ছে এরকম? একটু আগেই তো বললেন আপনারা নাকি সোলমেটস। তো হঠাৎ কী হলো যে ভিকি এভাবে পাল্টে গেলেন?"
“সেটাই তো আমিও ভাবছি। ওকে মেসেজগুলো দেখানোর পর ফ্র্যাঙ্কলি হেসেছিল। কিন্তু সেদিন কলটা রিসিভ করে কথা বলার পর ওর বিহেভিয়ারটা পাল্টে গেছে। লোকটার সাথে কী কথা হয়েছে জানি না। বাট এমন একটা কিছু হয়েছে যার কারণে ও আমাকে আগের মতো পুরোপুরি বিশ্বাস করছে না। বার বার হাবেভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে ভুলটা আমারই। বা হয়তো ভাবছে আমিই ওকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য এসব ড্রামা করছি। কিন্তু আমি এটা কেন করবো? ওর সাথে যদি আমার এমনি অ্যাফেয়ার থাকতো তাহলে একটা লজিক হতো যে ওকে ব্ল্যাকমেল করে বিয়ে করতে চাইছি। কিন্তু আমাদের তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে! আমরা যে Maldives-এ গিয়েছিলাম সবাই জানে। এখানে কোনো লুকোছাপা নেই! আমি ওকে ব্ল্যাকমেল করে নিজের সর্বনাশ কেন ডেকে আনবো? এই ক্লিপিং আর ছবির কথা এই কারণে ওকে বলিনি। কারণ ও বিশ্বাস তো করবে না তার উপর ওর সন্দেহ বদ্ধমুল হবে।"
“তারমানে ভিকির প্রতি আপনার সম্পুর্ণ বিশ্বাস থাকলেও ভিকির আপনার প্রতি যে বিশ্বাস ছিল সেটা টাল খেয়েছে।"
মেয়েটা অশ্রুসজল চোখে অপালার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে।
অপালা আরো কিছু বলতে যাবে এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে। অপালা বসে কাম ইন বলতেই আই.সি অগস্ত্য সেন ভেতরে ঢোকে। (অগস্ত্যর সাথে পাঠকের আগেও পরিচয় হয়েছে বারোভাজায়। “বারুদের বাড়ি" গল্পে তাই বিস্তারিত পরিচয় দিলাম না) অপালা উঠে দাঁড়ায়। অগস্ত্য অপালাকে হাতের ইশারায় বসতে বলে। তারপর মেয়েটার দিকে তাকায়।
“রাউন্ড থেকে ফিরে শাশ্বতর কাছে শুনলাম একটা মেয়ে নাকি আমার খোঁজ করছিল। তাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটার সাথে কথা বলে নাকি তুমিও আমারই খোঁজ করছো। সকাল বেলা দুই নারীর তলব উপেক্ষা করার সাহস হলো না আমার তাই চলে এলাম।"
অপালা লজ্জা পেয়ে বলে, “কি বলছেন স্যার! ওসব কিছু নয় আসলে এনার কেসটা...!"
অপালাকে থামিয়ে দেয় অগস্ত্য। তারপর মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলে, “বলতে হবে না। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে পুরোটা না শুনলেও যতটুকু শুনেছি তাতেই আন্দাজ করে নিয়েছি বাকিটা। তবে আউট অফ ইনভেস্টিগেশন দুটো কথাই বলব আপনাকে মিস স্মিথ। সেটাকে জ্ঞান মনে করতে পারেন, মরাল পুলিশের ভাষণ বলতে পারেন। কথাদুটো হলো, প্রথমত, এই যে একান্ত আপন গোপনীয় মুহূর্তগুলোকে বন্দি রাখার এই প্ল্যান, এটা করার সময় আপনাদের কেয়ারফুল থাকা উচিত ছিল। এগুলো তোলা ক্রাইমই বটে কিন্তু যেখানে দুজনেই ইচ্ছে করে তুলেছেন সেখানে আউটপার্সন হয়ে আমার বলা উচিত নয়। তবে এগুলো এভাবে ফেলে রাখা উচিত হয় নি। ইউ শুড বি মোর কেয়ারফুল এন্ড সিকিওরড অ্যাবাউট প্রিসারভিং দ্যাট ডেটা। বিশেষত আজকের দিনে এই ডেটা হ্যাকারদের হাতে পড়লে সর্বনাশ হতে বেশী সময় লাগে না। আর দ্বিতীয়ত এইরকম মেসেজ যখন এসেছিল তখন একে হাল্কা ভাবে না নিয়ে তখনই পুলিশ স্টেশনে আসতে হতো। বিশেষত আপনার বয়ফ্রেন্ডের ফোন চুরি হবার পর আপনাকে আরো কনসার্ন হবার কথা। যেখানে আপনি জানেন এই বিষয়ে একটা সামান্য ভুলের জন্য আপনার গোটা জীবন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
মেয়েটা মাথা নীচু করে বসে থাকে। বুঝতে পারে আই.সি কথাগুলো ভুল বলছেন না। সত্যিই তাই একটু কেয়ারফুল হলে, তখনই স্টেপ নিলে এত কিছু হতো না। কিন্তু তখন কি আর ও জানতো ব্যাপারটা এতদুর গড়াবে? আর এসব ব্যাপারে থানা পুলিশ হলে ড্যাডির রেপুটেশনটাও যেত। তাই ও ইচ্ছে করেই স্টেপ নেয় নি। ওখন মনে হচ্ছে ভিকির কাছে না গিয়ে এখানে এলেই ভালো হত।
মেয়েটাকে মনমরা হতে দেখে অপালা বলে, “আপনি...তুমি চিন্তা করো না। তোমাকে তুমি করেই বলছি। উই উইল ফাইন্ড দ্যাট বাস্টার্ড। তোমার নাম, ডিটেল সব পাবলিকের কাছ থেকে লুকোনো থাকবে। ওকে আমরা এক্সপোজ করে দেবো শুধু।কিছু শেষ হয়নি লিজা। চিয়ার আপ। থ্যাঙ্ক গড ব্লান্ডার হবার আগে তুমি এখানে এসেছ! আমরা বাকিটা সামলে নেব। ইউ আর এ ব্রেভ গার্ল! এরকম সাহস হলেই তো এইসব লোকদের ধরতে সুবিধে হয় আমাদের।"
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অগস্ত্য তাকায় লিজার দিকে। তারপর ধীরকন্ঠে বলে, “ব্লান্ডার হতে আর কিছু বাকি নেই! লোকটা অলরেডি সব শেষ করে ফেলেছে।"
“মানে?" চমকে অগস্ত্যর দিকে তাকায় অপালা। লিজাও রক্তশুন্য ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে তাকায় অগস্ত্যর দিকে।
অগস্ত্য কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলে,“লোকটা ভিডিওটা লিজাকে কাল সকালে পাঠিয়ে দেখতে চেয়েছিল লিজার কি রিঅ্যাকশন হয়। লিজার থেকে নেগেটিভ রিঅ্যাকশন এবং পুলিশের থ্রেট পেয়ে রাগে কাল রাতেই পর্ণোগ্রাফিক সাইটে ভিডিওটা আপলোড করেছে,শুধু তাই নয় হি মেড দ্যাট ভিডিও সো মাচ ভাইরাল যে রাতারাতি অলমোস্ট গোটা পৃথিবীতে ভিডিওটা স্প্রেড করে গেছে। কোথাও অ্যাজ এ মিম, কোথাও জিআইএফ হিসেবে। হোয়াটসঅ্যাপে, মেসেঞ্জারে, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে সব জায়গায় ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে ভিডিওটা। ইভেন আমাদের শাশ্বতও লিজাকে সেই ভিডিওর থ্রুতেই রিকগনাইজ করেছে।"
অগস্ত্যর কথা শেষ হবার আগে লিজা দুহাতে মুখ ঢেকে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করে। অপালা উঠে লিজার পাশে বসে ওকে শান্তনা দিতে শুরু করে। “কেঁদো না লিজা। বি স্ট্রং!আমরা ভিডিওটা আর ছড়াতে দেবো না। আমরা এর জন্য প্রপার স্টেপ নেব। দেন উই উইল ফাইন্ড দ্যাট বাস্টার্ড। কথা দিচ্ছি ওকে কঠিন শাস্তি না দিয়ে ছাড়বো না। বি স্ট্রং লিজা।"
লিজা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আর খুঁজে কী হবে ম্যাডাম? যা সর্বনাশ করার করে ফেলেছে ওই লোকটা। এভরিথিং ইজ ফিনিশড ম্যাডাম। এভরিথিং ইজ ফিনিশড!"
বলতে বলতে কেঁপে ওঠে টেবিলে রাখা লিজার ফোনটা। লিজা কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা নেয়। আর ফোনটা হাতে নেওয়া মাত্র লিজার মুখটা আবার আতঙ্কে রক্তশুন্য হয়ে যায়। ফোনের দিকে ইশারা করে ও বলে, “ইটস হিম!মাই গড! কী চায় ও?এত কিছুর পরেও শান্তি হয় নি?"
“কাম ডাউন লিজা! কাম ডাউন! দেখাই যাক না ও কি চায়? লেট হিম টক টু ইউ! রিসিভ করো কলটা।"
অগস্ত্য ভাবলেশহীন কন্ঠে কথাগুলো বলে তাকায় লিজার দিকে।
“বাট?"
“কোনো কিন্তু নয়! ওকে ধরতে গেলে আগে জানতে হবে ও কী চায়? রিসিভ দ্য কল। আর স্পিকারে নেবে।"
লিজা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কলটা রিসিভ করে।
“হ্যালো!"
ফোনের স্পিকারে একটা ভারী কন্ঠস্বর শুনতে পায় অগস্ত্য । স্পিকারে সেই কন্ঠস্বর হাল্কা হেসে বলে ওঠে, “কি বেবী ডল? বিশ্বাস হল যে আমি কী করতে পারি?"
“ হোয়াই? কেন আমার এত বড়ো সর্বনাশটা করলে তুমি!আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি?" হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে লিজা। ওপারের লোকটা ঠান্ডা হেসে বলে, “এখনও তো কিছুই করিনি! ভিডিওটা জাস্ট লোকালে ছড়িয়েছি। যদি তুমি আমার কথা না শোনো তাহলে এর চেয়েও বড়ো স্টেপ আমি নেবো। তোমাকে এলাকায় ফেমাস করেছি। এরপর গ্লোবালই ফেমাস করে দেব। আর রইল ক্ষতির কথা। না তুমি আমার ক্ষতি করো নি বটে বাট ভবিষ্যতে করবে না তার কী গ্যারান্টি আছে? এই যে পুলিশ স্টেশনে তুমি আমার এগেনস্টে রিপোর্ট লেখাতে গেছ।তুমি কি ভাবছো জানি না আমি?"
কথাটা শোনামাত্র লিজার হাত কেঁপে ওঠে । অগস্ত্য ভ্রু কুঁচকে অপালার দিকে তাকায়। অপালাও হা হয়ে অগস্ত্যর দিকে তাকায়। ফোনের ব্যক্তি বলে ওঠে,“তোমার প্রথম ভুল ছিল আমার কথা ইগনোর করা, দ্বিতীয় ভুল ঐ দুদুভাতু মডেলগোছের বয়ফ্রেন্ডকে দিয়ে আমাকে ভয় দেখানো, আর তৃতীয় ভুল হল পুলিশের কাছে যাওয়া। ইউ হার্ট মি ডার্লিং! আর এর জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে!শুধু এটাই নয়। আজকের পর যতবার একটা ভুল করবে ততবার তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। এবারে এই ক্লিপিংসের এক কপি যাবে তোমার বয়ফ্রেন্ডের কাছে, আরেক কপি তোমার বসের কাছে।"
“না, না! প্লিজ এরকম করো না! আমার জীবন, কেরিয়ার সব শেষ হয়ে যাবে!"
“হয়ে যাক! অবাধ্য মেয়েরা যখন কথা শোনে না তখন তাদের শাস্তি দিয়ে পথে আনতে হয়। আর তোমার বসও তো শুনেছি তোমাকে কয়েকবার অ্যাপ্রোচ করেছিলেন, কিন্তু তুমি তাকে ঘোল খাইয়ে দিয়েছ! এবার তোমার অফিসের লোক, বাড়ির লোক, পাড়ার লোকেও জানুক যে তুমি কোন লেভেলের সতীলক্ষী!"
“প্লিজ না! আমার এতবড়ো সর্বনাশ করো না! আমার পরিবার কোথাও নিজের মুখ দেখাতে পারবে না। তোমার কী চাই বলো সব দেব আমি! যতটাকা চাও সব দেব আমি। প্লিজ তুমি ভিডিওটা ডিলিট করে দাও!" লিজা অস্ফুটে বলে কেঁদে ওঠে।
“আমিও তো তাই চাই বেবী! তোমার ভিডিও, পিকস গুলো পাবলিক করে লাভ আছে কিন্তু আমি চাই না সেগুলো আরো ছড়াক। তবে তা তো আর ফ্রিতে করতে পারি না! এভরিথিং হ্যাজ এ প্রাইজ! তাই এই ভিডিও ডিলিট করার জন্য তোমাকেও মুল্য চোকাতে হবে। তবে টাকাপয়সা, সোনাদানা দিয়ে নয়।"
“কী চাই তোমার?" ফ্যাকাশে মুখে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে লিজা।
“ আমি কী চাই সেটা আগেও তোমাকে বলেছি বেবী!আই ওয়ান্ট ইউ। আই ওয়ান্ট টু স্পেন্ড সাম মোমেন্টস উইথ ইউ! বেশীক্ষণ নয়, জাস্ট একটা ঘন্টা। একটা ঘন্টা আমার সাথে কাটাতে হবে। আপাতত আগে থানা থেকে বেরোও! তারপর একটা লোকেশন সেন্ড করছি সেখানে চলে এসো। ট্রাস্ট মি! আই উইল গিভ ইউ মোর প্লেজার দ্যান ইউর বয়ফ্রেন্ড। তোমার ভিক্টরের চেয়ে আমিও বিছানায় কম যাই না। একবার ট্রাই করে দেখো, তোমার ভিক্টরকে ভুলে যাবে।" বলে হোহো করে হেসে ওঠে ফোনের ওপারের লোকটা।
টেবিলে থাকা পেপারওয়েটটা দৃঢ় মুঠোয় চেপে ধরে রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করে অগস্ত্য । অপালা প্রচন্ড রাগে ফুঁসে ফোনটা কেড়ে নিতে গেলে হাতের ইশারায় শান্ত হতে বলে অপালাকে। লিজা চিৎকার করে ওঠে, “শাট আপ! কী বলতে চাইছো তুমি?"
“ঠিকই বলছি বেবী ডল। আমার তোমাকে চাই। ভেবে দেখো এবার তোমার কেরিয়ার, জীবন সব নির্ভর করছে তোমার সম্মতির উপর। যদি রাজি হও তাহলে কথা দিচ্ছি সব ভিডিও ডিলিট করে দেবো। আর না হলে..."
“কোনো প্রশ্নই ওঠে না!" আহত বাহিনীর মতো গর্জে ওঠে লিজা।
“বেশ! আমার কাছে আর কোনো পথ রইলো না তবে। তোমার সর্বনাশের জন্য তুমিই দায়ী রইলে বেবীডল!আমার কোনো দোষ থাকলো না। রাজি থাকলে তোমার ফিউচার, কেরিয়ার যেমন সিকিওরড থাকতো সাথে ফিজিকালি স্যাটিসফ্যাকশন বোনাস পেতে। বাট তোমার রিফিউজালটা...সো স্যাড! আমি শুধু ভাবছি তোমার ড্যাডি, তোমার বস আর ভিক্টর যখন এই ভিডিওটা দেখবে তখন ওদের কী রিঅ্যাকশন হবে?ওরা তো এই সময় বাইরে আছে। তোমার ড্যাডি পেনশন নিতে অফিসে। আর ভিক্টর ওর ড্যাডের সাথে একটা মিটিংয়ে। তাই তো?”
কথাটা শোনামাত্র লিজার শরীরটা কেঁপে ওঠে। ওপারের কন্ঠস্বর বিদ্রুপ করে ওঠে, “কি? এখন চুপ কেন?একটু আগে তো বেশ গর্জন করছিলে। লিজা হতভম্ব হয়ে ফোনটার দিকে তাকায়। লিজা চুপ করে আছে দেখে অগস্ত্য চট করে পকেট থেকে কলম বার করে একটা কাগজে খসখস করে কিছু একটা লিখে এগিয়ে দেয় লিজার দিকে। লিজা লেখাটা পড়ে তাকায় অগস্ত্যর দিকে। অগস্ত্য মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। লিজা বলে, “ওয়েট! আমার ভাবার সময় চাই। আই নিড টাইম।"
“ওয়াইজ চয়েস বেবীডল। টেক ইয়োর টাইম তবে বেশী সময় নিলে তোমারই লস। কাল সকাল পর্যন্ত সময় দিলাম। রিমেমবার, তোমার কাছে মাত্র চব্বিশ ঘন্টা আছে ভেবে উত্তর দেওয়ার জন্য!তোমার কেরিয়ার, জীবন সবটা নির্ভর করছে তোমার সিদ্ধান্তের উপর। আশা করি নিজের সর্বনাশ ডেকে আনার মতো বোকা তুমি নও! কালকে তোমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো। বাই। মুয়াহ!"
কলটা কেটে যাবার পর লিজা দুহাতে মুখ ঢেকে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে। ভ্রু কুঁচকে লিজার দিকে তাকায় অগস্ত্য। লোকটাকে যতটা এলেবেলে ভেবেছিল ততটা এলেবেলে নয়। লিজার উপর, ওর গোটা ফ্যামিলির উপর পুরোদস্তুর হোমওয়ার্ক করেছে সে। এ কোনো সাধারণ ছিঁচকে ঠগ হতে পারে না। এ পুরোদস্তুর ঠান্ডামাথার ক্রিমিনাল,শুধু তাই নয় ইন্টারনেটের জমিতেও অবাধ বিচরণ এর। কিন্তু এতটা গোপন তথ্য এ পাচ্ছে কোথা থেকে? কোথাও একটা খটকা থেকে যাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে সে প্রশ্ন করে,
“তুমি শিওর? এর পেছনে তোমার কোনো পরিচিত লোক বা কোনো শত্রু নেই। কারণ কটাদিনের মাথায় এতটা হোমওয়ার্ক করা অসম্ভব । যদিও বা খোঁজখবর করে এই তথ্য পাওয়া যায় কিন্তু এই মুহূর্তে তোমরা কে কোথায় আছো তার অ্যাকুরেট তথ্য জানা ইমপসিবল। যেখানে তুমি কাউকে নিজের লোকেশন জানাও নি। আই থিঙ্ক হি ইজ ট্র্যাকিং ইউ। তোমরা কোথায় কখন যাচ্ছ, কার সাথে কথা বলছ ,কার সাথে মিশছ, কী খাচ্ছো সব তথ্যের খবর ও এমনভাবে রাখছে যেন ও তোমাদের সাথেই তোমাদের সামনেই আছে। খুব কাছের জন না হলে এটা অসম্ভব।"
নিজেকে সামলে চোখ মুছে লিজা বলে,“কিন্তু আমাদের তো তেমন কেউ ক্লোজ ফ্রেন্ড নেই। যারা আছে সবাই কলেজের পর আর কানেকশনে নেই।"
“মনে করে দেখো এমন কেউ যার সাথে রিসেন্ট তোমাদের কোনোভাবে ক্ল্যাশ হয়েছে।"
লিজা মাথা নাড়ে। অগস্ত্য মাথা নামিয়ে ভাবতে থাকে। তারপর লিজাকে বলে, “এক কাজ করো, তুমি বাড়ি চলে যাও। আর যাবার আগে তোমার নাম্বার আর এই নাম্বারটা দিয়ে যাও। দেখি ট্র্যাক করে পাই কিনা।"
“কোনো লাভ নেই। সারাদিনে কিছুক্ষণের জন্যই অন থাকে নাম্বারটা তারপর সারাদিন একটাই কথা বাজে, ‘দিস নাম্বার ডাজনট এক্সিস্ট।' কালকে ভিডিওটা পাবার পর অনেকবার ট্রাই করেছি। পাই নি।"
“তাও দিয়ে যাও। আমরা দেখছি কী করা যায়।"
“ওকে তো সময় চাই বলে কাটিয়ে দিলাম। কাল ফোন করলে কী বলবো?"
“সেটা ভেবে নেওয়া যাবে। আপাতত ওকে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।"
বলে চেয়ারে হেলান দেয় অগস্ত্য । লিজা মাথা নেড়ে বেরিয়ে যায়। অগস্ত্য চেয়ারে বসে ভাবতে থাকে, “সেয়ানা পাবলিক বটে! ঠিক হ্যাই। আমিও দেখবো কত বড়ো সেয়ানা তুমি।" বলে বিড়বিড় করে অগস্ত্য।
*****
রাতের বেলা খাওয়াদাওয়ার পর ছাদে পায়চারি করছিল অগস্ত্য। এটা ওর বরাবরের অভ্যেস হয়ে গেছে। জঙ্গলমহলে থাকাকালিন(‘বারুদের বাড়ি' পড়ুন) এই অভ্যেসটা রপ্ত করেছিল সে। আদিবাসীদের পরবে নিমন্ত্রণ হলে সে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতো। ওদের পরব মানে দেদার খাওয়া আর নাচগান। মাঝে মাঝে গুরুপাক হলে সাইকেল চালিয়ে ফিরতো। জঙ্গলের এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় অতো দুর সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সব হজম হয়ে যেত। এছাড়া মাঝে মাঝে সাইকেলেই গ্রামে গ্রামে টহল দিতো সে।
এখানে কাজের চাপে সারাদিন জিপেই ঘুরতে হয়। ফলে অভ্যেসটাকে রাতে ছাদে পায়চারি করে আর সকালে জিমের ট্রেডমিলের দৌড়ে আবদ্ধ করতে হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে সাইক্লিং করে না এমন নয়। কার্ডিও ওয়ার্কআউটের দিন মনে সুখে সাইক্লিং করে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটায় সে।
এমনিতে পায়চারি করার সময় সিগারেট খায় না অগস্ত্য কিন্তু আজকের দিনটা ব্যতিক্রম। আজকে কিছুতেই মনটাকে বাগে আনতে পারছে না সে। সকালে লিজার থেকে পাওয়া নাম্বারটা নিয়ে লালবাজারে গিয়েছিল সে। কিন্তু কিছুতেই কোনো ট্রেস পাওয়া যায় নি। এমন কি নাম্বারটাই নাকি এক্সিস্ট করে না। অগস্ত্য দ্রুত পায়চারি করতে লাগলো। কিছু একটা করতে হবে নাহলে কাল সকালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। কিন্তু কী করা যাবে? কোনো পথই তো খোলা নেই একটা বাদে! আর সেটা করা না করা সমান। ভাবতে ভাবতে মাথাটা গরম হয়ে উঠলো অগস্ত্যর। সিগারেট ধরিয়ে বুক ভরে একটা টান দিলো সে। তারপর ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ছাদের এককোণে বসে পকেট থেকে ফোনটা বের করে গ্যালারীটা খুললো। ওর হোয়াটসঅ্যাপেও ভিডিওটা এক অজানা নাম্বার থেকে এসেছে। ভিডিওটা চালু করে দেখতে লাগলো সে।
ভিডিওটা দেখতে দেখতে হঠাৎ কি একটা জিনিস মনে হতে হোয়াটসঅ্যাপে গেল অগস্ত্য। একটা অজানা নাম্বার থেকে ভিডিওটা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নাম্বারটার পাশে...ওটা কী? চট করে আরেকবার ভিডিওটা প্লে করলো অগস্ত্য। এবার একটু জুম করে দেখল। তারপর চ্যাটবক্সে ফিরে চোখ বোলাতেই... মুচকি হেসে অগস্ত্য বেরিয়ে এলো ইনবক্স থেকে। তারপর কী মনে হতে ঢুকল লিজার ইনবক্সে। আজ সকালে নাম্বার দিয়ে যাবার পর। নাম্বার দুটো নোট করেছিল অগস্ত্য। তখন খেয়াল করেনি, করলে এত খাটনি হত না। অগস্ত্য দেখল এত রাতেও লিজা অনলাইন বসে আছে। চটপট টাইপ করে বার্তা পাঠালো অগস্ত্য। তারপর বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চালিয়ে অফলাইন হয়ে নেমে এল নিজের ঘরে।
*****
ফোনটা এল ঠিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ। লিজা তখন অফিসে ছিল। ফোনটা আসতেই সে ফোনটা নিয়ে চেয়ার থেকে উঠে লেডিস ওয়াশরুমে ঢুকে রিসিভ করল।
“হ্যালো!"
“তা কী ঠিক করলে বেবিডল?"
উত্তরটা দিতে কয়েকমুহূর্ত ভাবল লিজা। তারপর থেমে থেমে বলল, “আমি রাজি! তবে বেশিক্ষণ থাকতে পারব না। ম্যাক্সিমাম আধঘন্টা! তবে আমার সামনে ভিডিওটা আর ওর সব সোর্স ডিলিট করতে হবে। এই দুটো শর্তে রাজি থাকলে আমি আসবো।"
“ ওকে ডিল! আধঘন্টা এনাফ!"
“কোথায় আসতে হবে?"
“ ক্যাব পাঠানো হবে। ক্যাবে বেরোনোর সময় টেক্সট করো এই নাম্বারে। ক্যাব পৌঁছে দেবে। তোমাকে শুধু সেখানে এসে খোঁজ করতে হবে মি.গ্রেসনের।"
“কটার দিকে আসতে হবে?"
“রাত আটটার দিকে"
“হোয়াট! অতরাতে?"
“কলকাতার মতো শহরে রাত আটটা সন্ধ্যে বেবীডল!এতটা নখরা করার কিছু নেই। আটটার দিকে তোমার বাড়ির কাছে ক্যাব পৌঁছে যাবে।"
বলে ওপারের লোকটা কল কেটে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে লিজা আরেকটা নাম্বারে কল করে। কথা বলার পর কলটা কেটে দাঁতে দাঁত চেপে কোনো মতে কান্না আটকে লিজা আয়নার দিকে তাকায়। খুটিয়ে দেখে নেয় মনের বিধ্বস্থ ভাবটা চেহারায় ফুটে উঠেছে কিনা। না মনে হচ্ছে না। দু তিনবার আয়নার সামনে মেকি হাসির অভিনয় করে নেয় সে। মনের ভেতর যাই চলুক বাইরের লোককে বুঝতে দিলে চলবে না। বেসিনের কল চালিয়ে চোখে মুখে জল ছেটায় লিজা। তারপর যতটা সম্ভব সাজটাকে ঠিক করে একটা মেকি হাসি নিয়ে বেরিয়ে এসে নিজের কিউবিকলে বসে।
*****
ক্যাবটা যখন লিজাকে নিয়ে হোটেলটায় এসে পৌঁছল। তখন ঘড়িতে সাড়ে আটটা বেজে গেছে। লিজা ক্যাব থেকে নেমে হোটেলের সামনে দাঁড়াল। তাকিয়ে দেখল বেশ বড়ো আর অভিজাত হোটেল। তারমানে ইচ্ছে করেই লোকটা ওকে এখানে ডেকেছে। পায়ে পায়ে এগিয়ে রিসেপশনের দিকে এগিয়ে গেল সে। কিন্তু রিসেপশন পর্যন্ত পৌঁছতে হল না তাকে। তার আগেই পেছন থেকে ওকে কে যেন নাম ধরে ডাকল। লিজা পেছন ফিরে দেখল হোটেলের একজন প্রৌঢ় স্টাফ তার দিকে এগিয়ে আসছে। লোকটা কাছে এসে বলল, “আর ইউ মিস.স্মিথ?"
লিজা মাথা নাড়তেই সে বলে, “কাম উইথ মি। মি.গ্রেসন ইজ ওয়েটিং ফর ইউ।" বলে লোকটা হাটা দেয় লিফ্টের দিকে। চারদিকে একবার তাকিয়ে ধীরপায়ে লোকটাকে অনুসরন করে লিজা ঢোকে লিফ্টে।
নির্দিষ্ট তলায় পৌঁছনোর পর লিফ্ট থেকে বেরিয়ে লোকটা দেখিয়ে দেয় ঘরটা। তারপর “এঞ্জয় ইয়োরসেল্ফ!" বলে চলে যায়। লিজা কিছুক্ষণ লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর সামনের দিকে এগোয় । নির্দিষ্ট দরজাটার সামনে দাঁড়িয়ে একমুহূর্ত দাঁড়ায় লিজা। তারপর কলিংবেলের বোতামটা টেপে। কিছুক্ষণ পর দরজাটা খুলে যায়। দরজার ওপারের মানুষটাকে দেখে অবাক হয়ে যায় লিজা। লোকটা হেসে সরে দাঁড়ায়। লিজা একদৃষ্টে লোকটার দিকে তাকিয়ে মন্থরপায়ে ঘরে ঢুকতেই দরজাটা বন্ধ করে দেয় লোকটা।
*****
দরজাটা খুলে একসাথে এত গুলো পুলিশ দেখে ঘাবড়ে যান মহিলাটি। অগস্ত্য গম্ভীর অথচ মৃদু কন্ঠে বলে ওঠে, “শ্যামবাজার থানা থেকে আসছি। মোহিত কী বাড়িতে আছে?"
মহিলা কোনোরকমে ঢোক গিলে বলেন,“হ্যাঁ কিন্তু কেন? কী করেছে ও?"
অগস্ত্য প্রশ্নটাকে পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস করে,“ওর ঘরটা কোনদিকে বলবেন?"
কন্ঠস্বর শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একজন পুরুষ, “কি হয়েছেটা কী? আরে অগস্ত্য! কী ব্যাপার? "
লোকটাকে দেখে চিনতে পারে অগস্ত্য। মদনমোহনবাবু! সে এগিয়ে এসে বলে, “মোহিত কোথায় স্যার?"
“বাবু তো ওর নিজের ঘরে!"
“ওর ঘরটা কোনদিকে বলবেন স্যার?"
মদনমোহন দেখিয়ে দেন ঘরটা। “ইজ এনিথিং রং অগস্ত্য?"
“আপনাকে পরে বলছি।" বলে ঘরের দিকে এগোয় সে।
******
অগস্ত্যর গাড়ি যখন হোটেলে থামলো তখন রাত প্রায় পৌনে নটা। অগস্ত্যকে আসতে দেখে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এগিয়ে এলো অপালা। অপালাকে দেখে অগস্ত্য বলল, “কতক্ষণ এসেছ?"
“এই মিনিট পনেরো। লিজা ভেতরে গেছে স্যার। আপনার কথা মতো ওর ক্যাবটাকে আমরা ফলো করেছিলাম । কেউ টের পায়নি।" অপালা বলে ওঠে।
“ওকে! লেটস গো!" বলে হোটেলের দিকে এগোয় অগস্ত্য । বাকিরা ফলো করে ওকে। হোটেলে ওকে ঢুকতে দেখে হাতে শ্যাম্পেনের বাকেট নিয়ে এগিয়ে আসে সেই প্রৌঢ় কর্মচারীটি। অগস্ত্যর কাছে এসে লোকটা বলে, “সেভেন্থ ফ্লোর, রুম নাম্বার ৭০৪। দুজন আছে স্যার।" অগস্ত্য মাথা নেড়ে এগিয়ে যায় লিফ্টের দিকে।
সেভেন্থ ফ্লোরে উঠে সবাইকে অ্যালার্ট হতে বলে দরজার সামনে দাঁড়ায় অগস্ত্য। তারপর কলিংবেল টেপে। ভেতর থেকে একটা জলদগম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে আসে, “হুজ দেয়ার?" অগস্ত্য ইশারা করতেই প্রৌঢ় বলে ওঠে, “রুম সার্ভিস স্যার।" অগস্ত্যরা দরজা থেকে সরে আড়াল করে দাঁড়ায়। দরজাটা খুলে যায়। দরজার ভেতর থেকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ভদ্রলোক বাথরোব পরে বেরিয়ে এসে বলে, “হোয়াট হ্যাপেনড?" প্রৌঢ় জানায় এই ঘর থেকে ওদের কাছে শ্যাম্পেনের অর্ডার এসেছে। ভেতরের ব্যক্তি বলে ওঠে, “আই থিঙ্ক ইউ হ্যাভ মিসটেকেন উইথ অ্যানাদার রুম। উই ডিড নট অর্ডারড এনি ড্রিঙ্ক। " বলে দরজাটা বন্ধ করতে যাবে এমন সময় দরজার সামনে প্রায় মাটি ফুড়ে উদয় হওয়ার মতো এসে দাঁড়ায় অগস্ত্য । স্পষ্ট অথচ গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে, “নো স্যার, উই হ্যাভ প্রপার ইনফরমেশন অ্যাবাউট দিস রুম। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড ক্যান উই সার্চ ইয়োর রুম!"
লোকটা অগস্ত্যকে দেখে যতটা না ভড়কে গিয়েছিল তার চেয়ে বেশি ভড়কে যায় অগস্ত্যর কথা শুনে। কোনো মতে নিজেকে সামলে বলে, “সরি?"
অগস্ত্য এবার কেটে কেটে কথাগুলো বলে, “ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, ক্যান উই সার্চ ইয়োর রুম?"
“হু দ্যা হেল আর ইউ? হোয়াই শুড আই লেট ইউ টু সার্চ মাই রুম?" গর্জে ওঠে কৃষ্ণাঙ্গ।
“সরি টু বদার ইউ, বাট উই আর ইনফর্মড দ্যাট ইউ গাইজ আর ডেলিবারেটলি মেকিং পর্ণ ফিল্ম ইন দিস রুম। দ্যাটস হোয়াই উই ওয়ান্ট টু সার্চ ইয়োর রুম। উই হ্যাভ এ সার্চ ওয়ারেন্ট উইথ আস। নাউ ইফ ইউ প্লিজ লেট আস এন্টার ইয়োর রুম ইট উইল বি বেটার ফর ইউ।"
জোকের মুখে যেন নুন পড়ে গেল এমন ভাব করে কাষ্ঠহাসি হেসে কৃষ্ণাঙ্গ বলে ওঠে,
“আই থিঙ্ক ইউ হ্যাভ রং ইনফরমেশন অ্যাবাউট মি। লিসেন অফিসার, আই এম এ রেসিডেন্ট অফ টরন্টো । আই কেম ইন্ডিয়া জাস্ট ফর ট্যুর পারপাস। ইফ ইউ ওয়ান্ট ইউ ক্যান চেক মাই পাসপোর্ট । আই রোমড মেনি কান্ট্রি ফর ট্যুরিজম । আই অ্যাম এ গ্লোবাল সিটিজেন। ইউ হ্যাভ নো রাইট টু ইন্টারফেয়ার মাই প্রিভেসি উইথ আউট দ্য পারমিশন অফ এমব্যাসি ! দিস ইজ আনএথিক্যাল!"
“ হোয়াট ইজ এথিক্যাল এন্ড হোয়াট ইজ আনএথিক্যাল ইট ডিপেন্ডস অন ইয়োর বিহেভিয়ার মিস্টার গ্রেসন একেএ ম্যাডবুল! ইফ ইউ ডিডনট কো অপারেট উইথ আস দেন উই হ্যাভ টু অ্যারেস্ট ইউ ফর স্টপিং আস। নাও ইফ ইউ প্লিজ?"
এতগুলো লোককে দেখে ঘাবড়ে গিয়ে লোকটা সরে দাঁড়ায়। অগস্ত্যরা এক এক করে ভেতরে ঢোকে। আর ভেতরে ঢোকা মাত্র বেডরুমের দৃশ্য দেখে রাগে ঘৃণায় সকলে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ঘরের মাঝে একটা পেল্লাই কারুকার্য করা খাট। তার চারদিকে রিফ্লেক্টর,ক্যামেরা, আলো দিয়ে সাজানো। যেন কোনো স্টুডিওতে ঢুকে পড়েছে তারা। রিফ্লেক্টরে আলো ঠিকরে এসে পড়ছে বিছানার শ্বেতশুভ্র চাদরে। কিন্তু এখানে কোনো সিনেমার শুটিং বা সিরিয়ালের শুটিং হচ্ছে না। অন্তত বিছানায় যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে তাকে দেখে তো তা মনে হচ্ছে না। বিছানার ঠিক মাঝখানে চিত হয়ে শুয়ে আছে চৈতন্যহীন লিজার দেহটা। খাটের চার বাজুতে শক্ত দড়ি দিয়ে লিজার হাত-পা বাঁধা। শরীরে সুতোর কোনো লেস মাত্র নেই। বরং গোটা শরীর জুড়ে চপচপে করে লেপা হয়েছে এক ধরনের সুগন্ধী তেল। চারদিকের আলো সেই তেলে পড়ে লিজার দেহসৌষ্ঠবকে আরো চকচকে করে তুলেছে। লিজার মুখটা একটা বেল্ট দিয়ে বাঁধা। অগস্ত্য এক ঝলক সেদিকে তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুড়িয়ে নেয়। অপালা চট করে মাটিতে পড়ে থাকা তোয়ালে দিয়ে লিজার দেহটা ঢেকে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে গলার কাছে হাত রেখে মাথা নেড়ে জানায় লিজা অজ্ঞান হয়ে আছে।
অগস্ত্য পেছন ফিরে তাকায় কৃষ্ণাঙ্গ লোকটার দিকে। তারপর লোকটার কলার ধরে বলে, “সো দিস ইজ ইয়োর ট্যুর পারপাস? দিস ইজ ইয়োর প্রিভেসি মোমেন্ট হা? ইউ রোমড মেনি কান্ট্রি ফর দিস? জাস্ট ফর ফাকিং ইনোসেন্ট গার্লস এন্ড আপলোড দেয়ার ভিডিওস উইথআউট দেয়ার কনসেন্ট?"
“বিলিভ মি অফিসার! আই ডিডনট ওয়ান্ট টু ডু দ্যাট। ইট ওয়াজ হার ফিয়ান্সেস প্ল্যান। দ্যাট ফাকিং কাকোল্ড টোল্ড মি দ্যাট হি উইল ম্যানেজ হিজ গার্ল টু স্লেপ্ট উইথ মি! ইট ওয়াজ হিজ ফল্ট।"
“ডিড ইউ.....আই মিন..."
মাথা নাড়ে কৃষ্ণাঙ্গ, “নো! আই হ্যাভন্ট স্টার্টেড ইয়েট। আই ওয়াজ জাস্ট গিভিং হার এ ইরোটিক ম্যাসাজ।"
চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অগস্ত্য । তারপর জিজ্ঞেস করে, “হোয়্যার ইজ হি? দ্যাট ফাকিং বাস্টার্ড!" কৃষ্ণাঙ্গ বাথরুমের দিকে আঙুল দেখায়। অগস্ত্য দরজাটায় ধাক্কা দিতেই খুলে যায় দরজাটা। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে সেই ব্যক্তি যে এই সবকিছুর মূলে ছিল। লিজার বাগদত্ত হবু স্বামী, ওর এতবছরের বন্ধু, প্রিয়তম প্রেমিক ভিক্টর ডি'সিলভা।
******
“ভিকির উপর আমার সন্দেহ শুরু থেকে ছিল না। তবে ওকে বাইরেও রাখিনি।" বলে সিগারেটে শেষটান মেরে ফিল্টারটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে দেয় অগস্ত্য । কথা হচ্ছিল হোটেলে বসে। সারাদিন খাটাখাটনির পর লিজাকে উদ্ধার করে ওর বাড়িতে পৌঁছে, ভিক্টর আর ওর সাথী গ্রেসনকে জেলে পাঠিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরছে ওরা। গোটা রাস্তা লিজা হাউ হাউ করে কেঁদেছে। সেটাই স্বাভাবিক । ভিকির প্রতি লিজার বিশ্বাস অটুট ছিল। সেই বিশ্বাসটা ভেঙে যাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বেচারি। বাড়ি পৌঁছে অপালাকে জড়িয়ে হাউহাউ করে কাঁদছিল সে। ঘরে ঢোকার পর ভিকি একটা ড্রিঙ্ক অফার করে ওর সব কথা বলেছিল ওকে। রাগে ঘেন্নায় গা গুলোলেও ড্রিঙ্কের জন্য নেশাতে উঠে আসতে পারে নি সে। একসময় ঘুমে ঢলে পড়েছিল তারপর আর কিছু মনে নেই তার। লিজাকে বাড়িতে পৌঁছে রাস্তার ধারে একটা হোটেলে খাওয়াদাওয়া সেরে সিগারেট ধরিয়েছে ওরা। ভিক্টর পুলিশের হাতে ধরা দিলেও পরে বেশ চিৎকার করে বলেছে সে দেখে নেবে পুলিশ ওকে কতদিন আটকে রাখবে। কোনো প্রমাণ নেই।
“তবে যাই বলো মোহিত না থাকলে এটার কিনারা করা অসম্ভব ছিল। ও যদি সেই সময় ঐ ম্যাডবুলের খবর না দিতো কী হতো বলো তো?" বলে সিগারেটে টান দেয় অপালা।
“কী আর হত?আরেকটা রেপ কেস বাড়তো!কিন্তু তা হয়নি ওর একটা ছোট ভুলে। ভিডিওটা শেয়ার যখন করা হয়েছিল তখন একটা জিনিস দেখে খটকা লেগেছিল। যে নাম্বারে ভিডিওটা এসেছিল তার প্রোফাইল পিকটা ছিল একটা ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের। ছবিটা ভীষণ চেনা মনে হয়েছিল। এদিকে ভিকিদের ছবিতে কোথাও না কোথাও এই গ্রেসনকে পেয়েছিলাম আমি। শুধু তাই নয় ভিকির মুখটাও চেনা লাগছিলো আমার। লিজার ইন্সটাগ্রামেও ওদের কাপল পিকে ছবির কৃতজ্ঞতা গ্রেসনকে। ওর প্রোফাইলে যেতেই আমি অবাক! গোটা প্রোফাইল জুড়ে নগ্ন মডেলের ছবির ছড়াছড়ি! কিন্তু সবকটাই ক্যান্ডিড। তখনই আমি গুগলে সার্চ মেরেছিলাম এই গ্রেসন বাবাজীকে নিয়ে। ও বাবা দেখি ভদ্রলোক শুধু ছবিতুলিয়েই নন সাথে সাথে একজন পর্ণতারকাও বটে!তখনই আমি চার্জ করি লিজাকে। এই গ্রেসন কে? জানতে পারি Maldives-এই আলাপ। ভদ্রলোক দারুন ছবি তোলেন, ভিকির কীরকম বন্ধু হন। আরো জানলাম ভদ্রলোক নাকি লিজাকে অ্যাপ্রোচ করেছিলেন । পাত্তা পান নি। তখনই আমার সন্দেহ হয়। একজন ব্যবসায়ীর বড়োলোক ছেলের সাথে পর্ণতারকার বন্ধুত্ব খারাপ না হলেও কেমন যেন দৃষ্টিকটুও বটে। লিজাকে গ্রেসনের ব্যাপারে সবটা জানিয়ে ওকে বুঝিয়ে বলি রাজি হতে। কিন্তু ওরা ক্যাব পাঠাবে এটা জানতাম না। ফলে তোমাদের ফলো করতে বলে বেরিয়ে আমি যাই মোহিতের কাছে। ছবিদুটো স্ক্রিনশট তুলেছিলাম। সে দুটো দেখাতেই মোহিত চিনে ফেলে জানায়। ভিকি ওর বাবার ব্যবসা সামলালেও আসলে এই গ্রেসনকে মেয়ে সাপ্লাই দিত পর্ণছবি শুট করার জন্য। কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারতো না ওরা ট্রিপের নামে কী করে বেড়াচ্ছে।”
“সত্যি! ভিকিকে দেখে বোঝা যায় না ও এত বড়ো একটা নোংরা কাজে যুক্ত!"
“ ওটাই তো! এতদিন সাথে থাকা লিজাও টের পায় নি এসবের। হয়তো আরো কটা দিন চলত এসব কিন্তু বাধ সাধল লিজা। Maldives-এ ওকে দেখে পাগল হয়ে গেল গ্রেসন। হবারই কথা। ভারতীয় হয়েও লিজার সৌন্দর্য্য পাশ্চাত্যের মেয়েদের দশ গোল দেবে। হয়তো অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বলেই এই সৌন্দর্য্য পেয়েছে সে। লিজাকে আধুনিকমনস্কা দেখে গ্রেসন একদিন কামনা করে বসল ওকে। কিন্তু লিজা ওকে জানাল সে ভিকির বাগদত্তা। প্রতিরোধ পেয়ে আহত পৌরুষ জেগে উঠল গ্রেসনের সে দাবী করে বসল লিজাকে। ভিকি ব্যবসা বোঝে। একজন কৃষ্ণাঙ্গ আর একজন ভারতীয়র পর্ণগ্রাফিক ভিডিওর দর বিদেশে মারাত্মক। সে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু লিজাকে রাজি করা শক্ত। অগত্যা এক ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনলো সে। ফোন চুরি থেকে লিজাকে সেক্সটিং সবটা ওরই প্ল্যান ছিল মোটিভটা খাড়া করার জন্য। সেই জালে পা দিল লিজা। ভেবেছিল লিজাকে গ্রেসনের হাতে তোলার পর ওকেও নিজের দলে টেনে নেবে। ইমেজের ভয়ে লিজাও রাজি হবে। কিন্তু মাঝখান থেকে ঘটে গেল আরেক ঘটনা। লিজা এলো থানাতে আর সবটা আমাদের জানাল। তারপর নামলাম আমরা। মোহিতের নামে সাইবার কেস ছিল বটে তবে সেটা এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের। সেই কারনে মোহিতের চাকরি হয় নি। তবে ও পুলিশ না হলেও পুলিশের সাহায্যে একপায়ে খাড়া থাকে সবসময়। তোমাদের লোকেশন জানার পর ভিকির প্ল্যানটা শিওর হতে মোহিতকে জিজ্ঞেস করলাম গ্রেসন এখন কোথায়? ও জানাল গ্রেসন ভারতেই আছে। এমন কি লোকেশন বের করে দিলো। সেটা নিয়ে রওনা হলাম আমরা।"
“যাক যার শেষ ভালো তার সব ভালো। ভাগ্যিস লিজা সাহস করে এসেছিল বলে ওকে বাঁচাতে পারলাম!" বলে সিগারেটে শেষটান দিয়ে ফিল্টারটা ফেলে গাড়িতে উঠে বসে অপালা।" অগস্ত্য দাঁড়িয়ে থাকে বাইরে কিছুক্ষণ তারপর স্বগোতোক্তির স্বরে বলে ওঠে,
“কষ্টের কথা কী জানো? লিজা সাহসটা করেছিল বলে ওকে বাঁচাতে পেরেছি। কিন্তু লিজার মতো না জানি কত মেয়ে নিজের প্রেমিককে ভরসা করে নিজের জীবনের একান্ত গোপনীয় মুহূর্ত ফোনে বন্দি হতে দিচ্ছে। কিন্তু সেই ভরসার মূল্য চোকাতে হচ্ছে সেই মুহূর্তকে সার্বজনীন হতে দেখে। আজকাল মোহিতের মতো বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন, হাতের মুঠোয় দ্রুতগতির ইন্টারনেট, অথচ ওদের গাইড করা, ভালো খারাপ বোঝানোর কেউ নেই। কেউ নেই খারাপ-ভালো স্পর্শ বোঝানোর। যৌনশিক্ষাও শেখানোর কেউ নেই। ফলে ওরা ঝুঁকছে আন্তর্জালের দিকে। ক্লিক করলেই পেয়ে যাচ্ছে সেই নিষিদ্ধ বস্তু। যা খারাপ প্রভাব ফেলছে ওদের মনে। বয়ঃসন্ধিকালে যা করে ফেলছে পর্ণাশক্ত। ধীরে ধীরে গোটা একটা প্রজন্ম ভুলপথে চালিত হয়ে পরিণত হচ্ছে ক্রিমিনালে। অথচ আমরা দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু করতে পারছি না। লিজাদের মতো মেয়েরা ভালোবেসে এদের কাছে সব উজার করে দিচ্ছে আর এরা সেটার সুযোগ নিয়ে সর্বনাশের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। লিজা তো বেঁচে গেছে। কিন্তু ওর মতো না জানি কত অভাগী না বলতে পেরে তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিয়েছে। শেষ করছে। আর আমরা নীরব দর্শকের মতো তা দেখছি। প্রেমের জালে জড়িয়ে একালের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করে তা আন্তর্জালে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এদের রক্ষার জন্য বাসুদেবও নেই। আর আমরা পরাজিত পাণ্ডবের মতো নীরব হয়ে নির্লজ্জের মতো বসে আছি। বসে বসে দেখছি।" বলে গাড়িতে বসে মাথা নত করে অগস্ত্য । ওর অজান্তে চোখের কোণ বেয়ে বেড়িয়ে পড়ে দু ফোঁটা অশ্রু।